৫০ হাজার টন গম ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন
৫০ হাজার টন গম ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন

আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্যকেজ-১১ এর আওতায় ৫০ হাজার টন গম ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে ব্যয় হবে ১১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে অনুমোদিত ক্রয় প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগম।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, দেশের খাদ্য মজুত সুরক্ষিত করতে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে আরো ৫০ হাজার টন গম আমদানির একটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টন গমের দাম ২৬৭ দশমিক ৯৮ ডলার হিসেবে বাংলাদেশি টাকায় মোট ব্যয় হবে ১১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সিঙ্গাপুর ভিত্তিক মেসার্স অ্যাগ্রোকরপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিডেট নামের একটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এই গম সরবরাহ করবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক কোটেশনে মোট চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এদের মধ্যে মেসার্স অ্যাগ্রোকরপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড প্রতি টন গমের দাম ২৬৭ দশমিক ৯৮ ডলার, মেসার্স ফনিক্স গ্লোবাল ডিএমসিসি ২৭৪ দশমিক ৪৭ ডলার মেসার্স সুইস সিঙ্গাপুর ওভারসীস এন্টারপ্রাইজ ২৭৫ দশমিক ৯২ ডলার এবং মেসার্স অ্যাসনটন এফএফআই ২৭৭ ডলার দামে সরবরাহ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট কমিটি দরপত্রে বর্ণিত শর্তাবলী যাচাই-বাছাই করে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক মেসার্স অ্যাগ্রোকরপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডের দরকে সর্বনিম্ন দর হিসেবে ঘোষণা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মেসার্স অ্যাগ্রোকরপ ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেডকে ৫০ হাজার টন গম সরবরাহ করার জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে সুপারিশ করলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মোট গমের ৬০ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এবং বাকি ৪০ শতাংশ গম মোংলা বন্দর দিয়ে সরবরাহ করবে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি ক্রয় প্রস্তাব ফেরত পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি ছিল জিওবি ও এডিবির অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর এমপি-০১ এর লট-ডব্লিউপি-০৫ এর ক্রয় প্রস্তাব। কমিটি এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়নি।

এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২৫টি পার্টনারশিপ এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানকল্পে উক্ত প্রকল্পের ১ম পর্যায়ে নির্বাচিত এনজিও/সংস্থার সঙ্গে ৯ মাস মেয়াদে (এপ্রিল-ডিসেম্বর, ২০১৮) পার্টনারশিপ চুক্তি বর্ধিতকরণের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর সুপারিশ করেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব নাসিমা বেগম বলেন, প্রকল্পটি গত ১৯৯৮ সাল থেকে চলছে। এই প্রকল্পে নিযুক্তদের ৯ মাসের বেতন বাবদ প্রায় ৫২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেহেতু প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায় চলছে। কাজেই এটি পরিকল্পনা কমিশনের দেখার দায়িত্ব। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানোর সুপারিশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর আগে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মোট ৪টি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব এসেছিল। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এর ধারা ৬৮(১) অনুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য এনটিএমসি-এর ০১ (একটি) ভেহিক্যাল মাউন্টেড মোবাইল ইন্টারসেপ্টর ক্রয়ে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) এ উল্লিখিত আর্থিক সীমা শিথিল করাসহ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের নীতিগত অনুমোদনের জন্য। কিন্তু বৈঠকের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, বিধায় প্রস্তাবটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশান ফেডারেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তির আওতায় রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিউক্লিয়ার ফুয়েল সাপ্লাইয়ের জন্য একক উৎস হিসেবে রাশান ফেডারেশনের নির্ধারিত ঠিকাদার টিভিইএল, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিকট থেকে সরাসরি ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ফুয়েল ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্র এলাকায ২ডি নন-এক্সক্লুসিভ মালটি ক্লাইয়েন্ট সেসমিক সার্ভে পরিচালনার লক্ষ্যে পুনঃদরপত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বিডে সর্বোচ্চ মূল্যায়িত বিডার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

এছাড়াও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরভুক্ত ‘ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয়পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসনে চীনা জিটুজি ভিত্তিতে অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিবর্তে সীমিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।