হাসপাতালের ১০ কোটি টাকার কাজের ভাগাভাগি নিয়ে আ’লীগ ও ছাত্রলীগ সংর্ঘষ ॥ আহত-১০

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ৩১ শয্যা হাসপাতালে ১০ কোটি টাকার কাজের ভাগাভাগি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সংর্ঘষ হয়েছে। সংঘর্ষে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ ছাত্রলীগের ১০ জন আহত হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন এলাকাবাসির সাথে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হয়েছি। আহতদের মধ্যে একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জনকে হারাগাছ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বিকেলে হাসপাতালের বাইরে কলেজ বাজারে।

এলাকবসি প্রত্যক্ষদর্শি সূত্রে জানাগেছে, হারাগাছ হাসপাতালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা একটি ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। ভবনটির ভিত্তি স্থাপন হয়ে গেছে। ওই কাজে বালু সরবরাহের দায়িত্ব পায় হারাগাছ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিন প্রামানিক। বেশ কদিন থেকে কাজের ভাগাভাগি নিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগের সাথে আওয়ামী লীগ নেতার দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দুপুরে শাহিন প্রামানিক কাজ পরির্দশনে এলে ছাত্রলীগ নেতারা তাকে বলে, হাসপাতালে নি¤œ মানের কাজ হচ্ছে। একপর্যায়ে তারা শাহিনকে মারপিট শুরু করে। শাহিনকে বাচাতে ্এগিয়ে এলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে ১০ জনের মত আহত হয়।

আহত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীন প্রামানিককে রমেক হাসপাতালে ও হারাগাছ কলেজ ছাত্রলীগের সহ- সভাপতি সাগর, সাধারণ সম্পাদক রিয়াল আহমদ, সহ- সম্পাদক আরমান হক, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক আরিফ হোসেনকে হারাগাছ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সাজু মিয়া বলেন, শাহীন প্রতিদিনের ন্যায় কাজ তদারকি করতে গিয়েছিলেন। এসময় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী শাহীনের ওপর হামলা চালায়। এতে শাহীন আহত হয়। পরে এলাকার লোকজনের সাথে ছাত্রলীগের মারামারি হয়। এখানে আওয়ামী লীগ জড়িত না।

হারাগাছ কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নি¤œ মানে কাজ করায় এলাকবাসি শাহীন প্রামানিককে মারপিট করে। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শি আশরাফুল ইসলাম বলেন ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তাদের দুই গ্রপের লোকজনই আহত হয়েছে।

শাহীন প্রামানিকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে ভাগ্নি মুনমুন পরিচয়ে বলেন মামা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছেন কথা বলতে পারবে না। কারা আহত করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে মুনমুন বলেন, ছাত্রলীগের সাদ্দামের নেতৃত্বে এটা হয়েছে।
হারাগাছ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার দিদারুল ইসলাম বলেন তার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হারাগাছ থানার ওসি নাজমুল ইসলাম বলেন ছাত্রলীগের সাথে এক আওয়ামী লীগ নেতার সামান্য ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি। কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।