সুন্দরগঞ্জে এমপি লিটন স্মরণে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

সুন্দরগঞ্জে এমপি লিটন স্মরণে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের তথা এমপি লিটন তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকী স্মরণে শোক র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে কবর জিয়ারতের মধ্যে দিয়ে পরিবারের আয়োজনে শোক র‌্যালি ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নেয় উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়াও স্থানীয় লিটন অনুরাগীরাও একত্রিত হতে থাকেন প্রিয় নেতার স্মরণে। এ সময় এমপি লিটনের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা।

বেলা ১১টায় এমপি লিটনের তৃতীয় মৃত্যবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি ও ছেলে সাকিব সাদনান রাতিনের আয়োজনে হাজারো নেতাকর্মী সাথে নিয়ে এক বিশাল শোক র‌্যালী বের করেন।

তাঁর ছেলের নেতৃত্বে শোক র‌্যালিটি আশরাফ হিমাগার থেকে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এমপি লিটনের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে লিটনের আত্মার মাফফেরাত কামনা করে মোনাজাত করেন পরিবারে লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

সেখান থেকে বের হয়ে শোক সভায় যোগদান করেন পরিবারের লোকজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

এসময় লিটনকে স্মরণ করে এক মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে দলের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন নেতাকর্মীরা।

তাঁরা লিটন হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সকল আসামীর মৃত্যদন্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

সেই সাথে দলের জন্য লিটনের অবদান অতূলনীয় দাবি করে আগামী দিনের নেতৃত্বে তাঁর স্ত্রীকে আনার আহ্বান জানান অনেকে।

এর আগে পরিবারের উদ্যোগে স্থানীয় এতিমখানার পাঁচ শতাধিক শিশুদের নিয়ে কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন।

পরিবারের পৃথক আয়োজনে উপজেলার সর্বস্থরের মানুষ অংশ নেয়। অনেকেই আবার প্রিয় নেতাকে স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন সবাই।

সুন্দরগঞ্জ ডি ডাবলু সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ একেএম হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে শোক সভায় বক্তব্য দেন- লিটনের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি, ছেলে সাকিব সাদনান রাতিন, উপজেলার আ.লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদি মোস্তফা মাসুম, সাজেদুল ইসলাম, কৃষক লীগের সভাপতি আতাউর রহমান, আ.লীগ নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম বকুল, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম জাবেদ, সহসভাপতি আব্দুল খালেক মিয়া, সুন্দরগঞ্জ মহিলা কলেজের উপাধক্ষ্য নাসরিন সুলতানা, শ্যামলী আক্তার, সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি মজনু হিরো, সাবেক ছাত্রনেতা বিষ্ণু রাম রায়, রিপন মিয়া ও মাইদুল ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শহীদ লিটন স্মৃতি সংসদের সাধারন সম্পাদক ফয়সাল সাকিদার আরিফ। এরআগে, লিটনের বড়বোন আফরুজা বারি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাঁর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে কবর জিয়ারত শেষে দোয়া করেন পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা।

এসময় লিটন স্ত্রী-সন্তান ছাড়াও বড় বোন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরুজা বারি, অতিরিক্ত সচিব (এলপিআর) তৌহিদা বুলবুল, ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল, উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম লেবু, পৌর মেয়র আব্দুল্লাহ আল-মামুন, আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সেচ্ছাসেবক লীগসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন এমপি।

আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ১ লা জানুয়ারী অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা কাকলী বুলবুল।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল সাবেক সাংসদ কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খাঁনসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।

মামলার বাদি, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে গত ২৮ নভেম্বর এ মামলার রায় প্রকাশ করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক।

রায়ে সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আব্দুল কাদের খানসহ সাত আসামীর মৃত্যুদন্ডাদেশ দেন আদালত।

আরও পড়ুনঃ