হোম জাতীয় সাবেক ছিট মহল : ১৯ কোটি টাকায় চলছে নিরাপদ পানি সরবরাহের কাজ

সাবেক ছিট মহল : ১৯ কোটি টাকায় চলছে নিরাপদ পানি সরবরাহের কাজ

সাবেক ছিট মহল: ১৯ কোটি টাকায় চলছে নিরাপদ পানি সরবরাহের কাজ

রবিউল ইসলাম দুখু:
সাবেক ছিট মহল এলাকায় পল্লী পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর সার্কেল প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ করছে। সাবেক ছিট মহল এলাকার জেলা সমৃহ হল- লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড় এবং নীলফামারী।

নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর সার্কেল সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর সার্কেল জানায়, সাবেক ছিট মহল এলাকায় ৩ হাজার ৬০০টি অগভীর নলকূপ বসানো হয়েছে।

পাশপাশি বসানো হয় ৬০০টি রিংওয়েল নলকূপ। ৩০/৩২ ফিট পর এখানে পানি পাওয়া যায়। ৪ জেলার মধ্যে শুধু মাত্র পঞ্চগড় এবং পাটগ্রামে রিংওয়েল নলকূপ বসানো হয়। কারন হিসেবে জানান, এই দুই জেলায় মাটির নিচে পাথর রয়েছে। জানা যায়, সাবেক ছিট মহল এলাকায় শৌচাগারের ব্যবস্থা তেমন উন্নযন নয়।

এঅবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকার উন্নতধরনের স্যানেটারী ল্যাটিন বসানো উদ্যোগ নেন। এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২৫০টি উন্নত ধরনের স্যানেটারী ল্যাটিন বসানোর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এছাড়াও পরিদর্শন বাংলো নির্মাণ কাজ চলছে কুড়িগ্রাম জেলায়। এতে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর সার্কেলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বাহার উদ্দিন মৃধা জানান, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সব ক্ষেত্রে সরকারের অগ্রাধিকার নীতি মানা হচ্ছে। চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পাল্টে সাবেক পুরো ছিট মহল এলাকার দৃশ্যপট। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রংপুর সার্কেল রংপুরের উপ- সহকারি প্রকৌশলী নেজামুল হক জানান, সাবেক ছিট মহল এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহের য়ে প্রকল্প হাতে চালু হয়েছিল তার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

চলতি বছরেই এসব এলাকার মানুষ এর সুবিধা ভোগ করতে পারবে। প্রাপ্ততথ্যে জানা জানা যায়, বিলুপ্ত ছিটবাসী পাচ্ছেন ঘরে ঘরে এসেছে বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা। জমির কাগজপত্র হয়েছে তাঁদের। ডিজিটাল তথ্যসেবাকেন্দ্রের সেবাও পৌঁছে গেছে তাঁদের দোরগোড়ায়। বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের মনে তাই সুখের আমেজ।

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল ১১৯ বাঁশকাটা গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল তথ্য সেবাকেন্দ্রও। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অভ্যন্তরে বিলুপ্ত চারটি ছিটমহলের অবস্থান। বিলুপ্ত ছিটমহল ২৯ নম্বর বড়খানকি খারিজা গিদালদহ গ্রামের কয়েকজন জানান, বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডে ১১১টি ছিটমহলের ১২টি পড়েছে কুড়িগ্রামে, লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬ এবং নীলফামারীতে পড়েছে ৪টি ছিটমহল।

বিলুপ্ত ছিটমহলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় কুড়িগ্রামের দাসিয়ারছড় । এসেছে বহুল প্রত্যাশিত বিদ্যুৎ, নির্মাণ হয়েছে সাতটি কালভার্ট, দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পাকা হওয়ার অপেক্ষায়।

বিদ্যুৎ, টিউবওয়েল, স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার পেযেেেছন। আরো নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই গভীর রাতে বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় হয়েছিল। এর মধ্যে ভারতের ভূখন্ডে ছিল বাংলাদেশের ৫১টি ও বাংলাদেশের ভূখন্ডে ছিল ভারতের ১১১টি ছিটমহল।