সাঘাটার বোনারপাড়ায় চিকিৎসার নামে মানুষকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা

সাঘাটায় চিকিৎসার নামে মানুষকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার প্রান কেন্দ্রে অবস্থিত বোনারপাড়া সবুজ বাংলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার নামে এলাকার অসহায় গরিব দুঃখী মানুষকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ তুলে শহিদুল ইসলাম নাম । নিজের মেয়েকে নিয়ে প্রতারনার ফাদে পা দিয়ে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তা যেন আর কোন সাধারন মানুষের জীবনে না ঘটে তাই এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এই ভুক্তভোগী ব্যক্তি সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা, উপজেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে।

সাঘাটা উপজেলা চত্বোর সংলগ্ন বোনারপাড়া – গোবিন্দগঞ্জ সড়কের পাশে অবস্থিত সবুজ বাংলা জেনারেল হাসপাতাল । এই এলাকায় অন্য কোন বেসরকারি হাসপাতাল না থাকায় সবসময় রোগিদের ভীর থাকে । কিন্তু এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে এসে যে একটি শিশু অল্পের জন্য প্রাণে বেঁেচ গেছে তার বর্ণনা দিলেন এক ভুক্তভুগি পরিবার ।

ভুক্তভুগি পরিবার ও লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানায়, কয়েক বছর এই হাসপাতালটি সাঘাটা উপজেলা চন্দনপাঠ গ্রামের জনৈক ডাক্তার রাশেদুন্নবী স্থাপন করেন। এলাকায় কোন ভাল মানের ক্লিনিক না থাকায় এখানেই ডেলিভারির কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন । হাসপাতালের মান উন্নয়ন করতেই প্রথমত এলাকার জনসাধরণের স্বাস্থ্য সেবার কিছুটা কাজ দেখালেও বর্তমানে সেখানে স্বাস্থ্য সেবার নামে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে এলাকার অসহায় গরীব দুঃখী মানুষের কাছে থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এমনি প্রতারনার শিকার হয়ে তার প্রতিকার চেয়ে জাতীয় সংসদের মাননীয় ডেপুটি স্পিকার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন, উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের মৃতু হবিবুর রহমানের ছেলে শহিদুল ইসলাম।

লিখিত অভিযোগে জানা যায় , শহিদুল ইসলামের মেয়ে স্মৃতি বেগম প্রসবজনিত কারণে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গত চলতি মাসের ৪ অক্টোবর সকালে সবুজ বাংলা জেনারেল হাসপাতালে আসেন । সেখানে হাসপাতালটির চিকিৎসক ও পরিচালক ডাক্তার রাশেদুন্নবী স্বর্নাপন্ন হয়ে তার পরামর্শক্রমে তাৎক্ষনিক আল্ট্রা¯েœাগ্রাম করেন । তার পরামর্শ অনুযায়ী অতি দ্রুত রোগি স্মৃতিকে সিজার করাতে হবে। তাই ওই ক্লিনিকে কর্মরত ডাক্তার সুমি বেগম আল্ট্রা¯েœাগ্রামের ডাক্তার না হয়েও আল্ট্রা¯েœাগ্রাম করেন। এ সময় ডাক্তার রাশেদুন্নবী স্মৃতি বেগমকে নরমালভাবে প্রসবের কোনো চেষ্টা না করে এবং তিনি সার্জন না হয়েও স্মৃতি বেগমকে সিজার ও এনার্সথেসিয়া দেন এবং রোগির পরিবারকে ভুলভাল বুঝিয়ে সেই দিন বিকালেই রোগিকে সিজারের মাধ্যমে প্রসব করালে কোলে আসে নবজাতক ছেলে সন্তান । প্রসবের পরে হাসপাতালে কোন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ কোনে ডাক্তার না থাকায় নবজাতক শিশুটিযথাযথ পরিচর্যা ও চিকিৎসা না দেওয়ায় কয়েক ঘন্টা অতিবাহিত না হতেই নবজাতক শিশু অসুস্থ্য হয়ে পড়ে । ডাক্তারের প্রয়োজন হলে জানতে ভুক্তভুগি পরিবার জানতে পারে ওই হাসপাতালে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ কোনে ডাক্তার নেই এমনকি সবসময় একজন এমবিবিএস ডাক্তার পর্যন্ত থাকেন না।

নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবতনির এক পর্যায়ে সে দিন রাত ১০ টার দিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের (অবসরপ্রাপ্ত) ডাক্তার এস.এ কবিরের বাসায় নবজাতক শিশুটিকে নিয়ে যায় , তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন ফলে শিশুটি মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায় । প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত নবজাতকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন ডাক্তার এস.এ কবির। সেদিন রাতে সাড়ে ১১ টার দিকে নবজাতক শিশুটিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি করা হয়।
এভাবে যাতে আর কোন পরিবারকে চিকিৎসার নামে প্রতারনার ফাদে না ফেলে তাই এই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিস্ট মহলের শুভ দৃষ্টি কামনা করেন সচেতন মহল।

হাসপাতালে সার্জন বা কোনো এনার্সথেসিয়া ও রেজিষ্ট্রার ডাক্তার না থাকলেও ডাঃ রাশেদুন্নবী নিজেই বিভিন্ন ডাক্তারের নাম ব্যবহার করে জটিল জটিল অপারেশন করে আসছে এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত সবুজবাংলা জেনারেল হাসপাতালটির চিকিৎসক ও পরিচালক ডাঃ রাশেদুন্নবীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন (০১৯৬২-৪০৭০৩৮, ০১৮১৬০৭২১১৮) বন্ধ পাওয়া যায়।

আপনার মতামত লিখুনঃ