সাঘাটার আলাই নদীপাড়ের ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর দুঃখ

সাঘাটার আলাই নদীপাড়ের ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর দুঃখ

সোলায়মান আলী,সাঘাটা(গাইবান্ধা)থেকেঃ গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা সদর থেকে মাএ ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে দলদলিয়া গ্রাম । পশ্চিম সীমানা ঘেঁষে বয়ে গেছে আলাই-বাঙ্গালি নদী। এ নদীর তীর দিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে গ্রামটিতে ছিন্নমূল প্রায় ১৫০ পরিবারের বসবাস। রোগ,শোক,দুঃখ,দরিদ্রতা আর কুসংস্কারে অন্ধকারচ্ছনের মতোই তাদের জীবন।

১৫০ পরিবারের মধ্যে ৮০ পরিবার একবারেই অচল প্রায় জীবন কাটাচ্ছেন।অধিকাংশ পরিবারের স্ত্রী-সন্তানদের ছোট্র কুঁড়ে ঘড়ে রেখে স্বামী জীবিকার সন্ধানে চলে গেছেন রাজধানী ঢাকা কিংবা চট্রগ্রামে।দিনে তিন বেলার মধ্যে কেউ এক বেলা আর কেউ দুবেলা সামান্য খেয়ে জীবন ধারণ করে বেঁচে আছেন।মোটা চালের দাম কম হলেও সেটা কেনারও সামর্থ্য নেই তাদের।

যারা বাড়ি আছেন তাদের হাতেও কোনো কাজ নেই।দিনমজুর কিংবা মাছ ধরে জীবন নির্বাহ করতো যারা,তারা এখন বেকার। কাজ কর্ম না থাকায় দুর্ভিসহ জীবন কাটছে তাদের। গতকাল সরেজমিনে ওই গ্রামে গিয়ে পৌছিলে প্রকাশ্য এসব দৃশ্য দেখাগেছে, সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কি তারা তা জানেন না ।ওই এলাকা থেকে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর দুরত্ব প্রায় ২০কিলোমিটার।ভ্যানগাড়ী ভাড়ায় গেলে ২৫ থেকে ৩০ টাকা লাগে।হাসপাতাল তারা কোনো দিনই দেখেননি।ডায়রিয়া বা গর্ভজনিত কোনো বড় সমস্যা হলেও হাসপাতালে যাওয়া ভাগ্যে জোটেনা অনেকেরই।

এ যাবৎ অকালে চিকিৎসার অভাবে প্রান হারিয়েছেন এক দুজন। পরিবার পরিকল্পনার ছোঁয়াও তাদের ষ্পর্শ করেনি।এমনকি পরিবার পরিকল্পনার মাঠ সেবিকারা কোনো দিন এখানে আসেন না।তাই অপরিকল্পিত মা হওয়া,অধিক সন্তান জন্মদান এখানে ব্যাপকতা লাভ করেছে দিন দিন।এমনি এ গ্রামের রাজা মিয়া সে দিন মজুরির কাজে চট্রগ্রামে গেছেন।তার স্ত্রী ২২বছর বয়সে ৪ সন্তানের মা।আইনুর (১০),শাহিন(৫),আঙ্গুর(৩)সাকিলা (৫ মাস)নিয়ে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিনাতিপাত করছে রাজা মিয়ার স্ত্রী । বহুবিবাহ তো সামান্য ব্যাপার এখানে।

দিন মজুরের সঙ্গে পেশায় জড়িত অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গিয়ে একের পরএক বিয়ে করছেন।আর যৌতুক ছাড়া এখানে বিয়ে-সাদির কথা কল্পনা করা যায় না।সত্যরাম(৫০)তার দুই মেয়ে নকশাকে ১৩ হাজার,টুলিকে ১৭ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিয়েছেন বলে জানালেন তারা।অনেকেই বিবাহ যোগ্য মেয়ে ঘরে থাকলেও টাকার অভাবে বিয়ে দিতে পারছেন না।

এখানকার লোকজন সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য,টেস্ট রিলিফসহ বরাদ্দ কিংবা রিলিফের কথা জানেন না। ছহির উদ্দিনের স্ত্রী রাহেলা জানান,‘ইলিফ কি হামরা তাক জানিনা বাহে।মেম্বররা কোনো একদিন হামাকেরে খোচ নেয়নি‘।বিগত সরকারের আমলে ছিন্নমূলদের ঠাঁই গড়ে তুলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নের ন্যায় উপজেলার বোনারপাড়া আলাই নদীর তীরবর্তী দলদলিয়া গ্রামেও ছিন্নমূলদের আশ্রয়ণ প্রকল্প করা হয়।পরিবারগুলো তখন থেকে সরকারি ভাবে বানানো ঘড়গুলোতে বসবাস করতে থাকে।দিন দিন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে এসব পরিবারের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। বর্তমানে সরকারি ভাবে আর তাদের কোনো খোঁজ নেয়া হচ্ছে না। এসব পরিবারের স্বাস্থ্য সেবার নিশ্চিত করার জন্য একটি ক্লিনিক ঘড় থাকলেও সেটির দরজা জানালা ভাঙ্গা,ডাক্তার বসেন না।

আপনার মতামত লিখুনঃ