সাইফ উদ্দিনের বোলিং তোপে কপাল পুড়ল দোলেশ্বরের

সাইফ উদ্দিনের বোলিং তোপে কপাল পুড়ল দোলেশ্বরের
সাইফ উদ্দিনের বোলিং তোপে কপাল পুড়ল দোলেশ্বরের

উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া ছিল। বাউন্সও কিছু মিলল। খানিকটা সহায়ক উইকেটে মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন মেলে ধরলেন তার বোলিং স্কিলের পসরা। মেলবন্ধনটা জমল দারুণ। দুর্দান্ত সব আউট সুইঙ্গার। লেংথ থেকে আচমকা লাফানো বল। বারবার সাপের মতো ছোবল। ব্যাটসম্যানদের নাভিশ্বাস। বিধ্বংসী এক স্পেলে সাইফ গুঁড়িয়ে দিলেন দোলেশ্বরকে।

সাইফের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে জয় দিয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সুপার লিগ শুরু করল আবাহনী লিমিটেড। প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবকে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা হারিয়ে দিল ১৬৫ রানে।
সোমবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে আবাহনী তোলে ২৫১ রান। দোলেশ্বর খেলতে পারেনি ৩০ ওভারও, শেষ হয়ে যায় ৮৬ রানেই।

দোলেশ্বরের রান তাড়ায় প্রথম ওভার থেকেই শুরু হয় সাইফের বোলিং তা-ব। প্রথম দুটি বল ছিল আউট সুইং। তৃতীয় বল হুট করে লাফিয়ে ওঠে লেংথ থেকে। ব্যাটসম্যান ইমরান উজ জামানের করার ছিল সামান্যই। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল উইকেটের পেছনে।
এরপর প্রায় একই দৃশ্য দেখা গেছে বারবার। প্রতিটি বলেই মনে হচ্ছিল যেন পেয়ে যাবেন উইকেট। ব্যাটসম্যানদের জানা ছিল না কোনো জবাব।

উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন সৈকত আলি, স্লিপে সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়েছেন ফরহাদ হোসেন। দুর্দান্ত দুটি ডেলিভারিতে বেলস উড়েছে সাইফ হাসানের, স্টাম্প উপড়েছে মার্শাল আইয়ুবের।
এর আগে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে কখনও ৩ উইকেটের বেশি ছিল না সাইফের। এবার দুর্দান্ত প্রথম স্পেল ৬-২-৯-৫!

ম্যাচ শেষেও থেকে গেছে সেই বোলিং ফিগারই। পরে আর বল হাতে নেওয়ার সুযোগ পাননি। আবাহনীর অন্য বোলাররা মিলে দোলেশ্বরকে শেষ করে দিয়েছেন।
তবে এদিনও ৪০০ লিস্ট ‘এ’ উইকেট ছোঁয়ার অপেক্ষা শেষ হয়নি মাশরাফি বিন মুর্তজার। ৪ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেট পাননি, পরে আর বোলিংয়ে আসেননি। বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক ৩৯৯ উইকেটে থমকে আছেন ৩ ম্যাচ ধরে।
দুপুরে দোলেশ্বরের যা অবস্থা, সকালে তেমন দুযোর্গের আভাস ছিল আবাহনীর ইনিংসেও। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ম্যাচে উইকেটে আর্দ্রতা থাকে বেশ। প্রায়ই বিপদে পড়েছে আগে ব্যাট করা দলগুলি। আবাহনীর শুরুটাও ছিল নড়বড়ে।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই ফরহাদ রেজা ফিরিয়ে দেন প্রথম পর্বে আবাহনীর সফলতম ব্যাটসম্যান জহুরুল ইসলামকে।
সকালের উইকেটের বিপদটুকু কাটিয়ে দিতে মেহেদী হাসান মিরাজকে তিনে নামিয়েছিল আবাহনী। কিন্তু লাভ হয়নি। আবু জায়েদ নিজের পরপর দুই ওভারে ফেরান মিরাজ ও সৌম্য সরকারকে। পঞ্চম ওভারে আবাহনীর রান তখন ৩ উইকেটে ১২।
বিপর্যস্ত দল স্বস্তি পায় ওয়াসিম জাফর ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে। ঠা-া মাথায় আঁটসাঁট ব্যাটিংয়ে দুজন উদ্ধার করেন দলকে। চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১৪৬ রানের জুটি।
জুটি ভাঙে জাফরের বিদায়ে। প্রাথমিক পর্বে ৫ ম্যাচ খেলে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান। সুপার লিগে ফিরেই শুরু করলেন ৯৭ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলে।

শান্ত ছিলেন তুলনামূলক আগ্রাসী। চারটি চার ও দুই ছক্কায় ৭০ রানে ফেরেন ৮৩ বল খেলে।
এই দুজনের পর মোসাদ্দেক ও সাইফের দ্রুত বিদায়ে আবার চাপে পড়েছিল আবাহনী। তবে মোহাম্মদ মিঠুন ও মাশরাফির সৌজন্যে দল পেরিয়ে যায় আড়াইশ। ৪৬ বলে ৪১ করেছেন মিঠুন, ২১ বলে ২৪ মাশরাফি।
সেই পুঁজি চ্যালেঞ্জিং হলেও নিরাপদ ছিল না। কিন্তু অসাধারণ বোলিংয়ে লড়াই জমতেই দিলেন না সাইফ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আবাহনী: ৪৯ ওভারে ২৫১ (জহুরুল ১, সৌম্য ২, মিরাজ ৫, জাফর ৭১, শান্ত ৭০, মিঠুন ৪১, মোসাদ্দেক ০, সাইফ ৯, মাশরাফি ২৪, সানজামুল ৩, অপু ০*; আবু জায়েদ ৯-০-৪৭-৩, ফরহাদ রেজা ৯-১-৪৩-১, আরাফাত সানি ৬-০-৩৭-১, মাহমুদুল ১০-০-৪৮-০, এনাম জুনিয়র ৬-০-২৬-০, তাইবুর ২-০-১১-০, সাইফ ৭-১-৩৭-২)।
প্রাইম দোলেশ্বর: ২৯.৪ ওভারে ৮৬ (ইমরান ০, সৈকত ১, ফরহাদ হোসেন ১১, সাইফ ১৩, মার্শাল ১, মাহমুদুল ২৭*, তাইবুর ৫, ফরহাদ রেজা ৩, এনাম জুনিয়র ১৪, সানি ২, আবু জায়েদ ২; সাইফ ৬-২-৯-৫, মাশরাফি ৪-০-১৯-০, অপু ৬-১-১৫-১, সৌম্য ৬-১-১২-১, সানজামুল ৪.-৪০-২৩-২, মিরাজ ৩-০-৭-১)।
ফল: আবাহনী লিমিটেড ১৬৫ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন