সফল ইউটিউবার হওয়ার কার্যকরী ধাপ

সফল ইউটিউবার হওয়ার কার্যকরী ধাপ

সফল ইউটিউবার হওয়ার কার্যকরী ধাপ। ইউটিউবে নতুন অনেকেই আসে, খুব তাড়াতাড়ি বিদায় নেয়, কেউবা আবার তিন-চার মাস চেষ্টা করে রণে ক্ষান্ত দেয়, সফল হতে গেলে আপনাকে কয়েকটি কার্যকরী ধাপ অনুসরণ করতে হবে। চলুন এবার দেখে নেয়া যাক কোন বিষয়গুলো জানা জরুরি:

ভিডিও বানানোর প্রতি আগ্রহঃ

আপনি নিজেকে একটা প্রশ্ন করেন শেষ কবে আপনি মোবাইল বা ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করেছেন? আপনার যদি ভিডিওগ্রাফীর প্রতি ভালোলাগা থাকে তবে আপনি ইউটিউবে আসুন।

অন্যরা ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করছে তাই দেখে আপনিও ইউটিউবে আসলেন তবে ইউটিউবে আপনার সফল হবার সম্ভাবনা কম। ভিডিও কন্টেন্ট বানানো একটি ক্রিয়েটিভ কাজ, এই কাজ সবার ভালো লাগে না, ভিডিও কন্টেন্ট বানাতে যদি আপনার আগ্রহ থাকে তবে আপনি সফল হতে পারবেন।

আমি অনেক লোক দেখেছি যারা নিজের ফেস ইউটিউবে দেখাতে সংকোচ বোধ করে। আবার এমনও কয়েকজনকে দেখেছি তারা তাদের নিজের ভয়েস শুনে লজ্জা পায়।

আমি নতুন ইউটিউবারদের বলবোÑ ভিডিও কন্টেন্ট বানাতে যদি আপনার আগ্রহ থাকে তবে সংকোচ বা লজ্জা করার কিছু নেই, প্রথম প্রথম হয়তো একটু সংকোচবোধ হবে কিন্তু রেগুলার প্রাকটিস করতে থাকলে সংকোচবোধ দূর হয়ে যাবে।

একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ভিডিও আপলোড করা বা নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করা:

আপনি একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর চ্যানেল বানাতে পারলে বা নির্দিষ্ট নিশ নিয়ে কাজ করলে ভালো করবেন, কারণ আপনি যদি আপনার চ্যানেলে আজকে এক বিষয়ে, কালকে আরেক বিষয়ে ভিডিও দেন তাহলে আপনি কাজের ধারাবাহিকতা পাবেন না, আর অডিয়েন্সও এতে বিরক্ত হয়।

তাই নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কাজ করুন ভালো ফলাফল পাবেন। হেলথ নিয়ে কাজ করলে শুধু হেলথের ভিডিও আপলোড করুন। এর ফলে আপনার অডিয়েন্সের একটি বেজ তৈরি হবে আর নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের ওপর একটি চ্যানেল দাঁড়িয়ে গেলে সেই একটি চ্যানেল দিয়ে আরো কয়েকটি চ্যানেল দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারবেন।

নিয়মিত ভিডিও বানানো:

ইউটিউবে সফলতা চাইলে যে কাজটি না করলেই নয় সেটি হচ্ছে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা। আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ে রুটিন করে ভিডিও আপলোড করুন।

আপনি চেষ্টা করুন যেন প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে হলেও ভিডিও আপলোড করতে। আর ভিডিও আপলোড করার একটি সময় নির্ধারণ করুন যদি বাংলাদেশের কোনো কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন তাহলে দিনেরবেলা ভিডিও আপলোড করুন আর যদি দেশের বাইরের কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন তাহলে রাতে ভিডিও আপলোড করতে পারেন। কিন্তু অবশ্যই চেষ্টা করবেন ভিডিও পাবলিশ করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।

ভিডিও প্রোমোট করা:

আপনি হয়তো রেগুলার ভিডিও পাবলিশ করছেন কিন্তু শুধু রেগুলার ভিডিও পাবলিশ করলেই হবে না, সেই ভিডিওগুলোকে প্রোমোট করতে হবে।

কারণ আপনার ভিডিও সম্পর্কে মানুষ যত বেশি জানবে ততই আপনার ভিডিওর ভিউ বাড়বে। ভিডিওতে ফ্রি ভিউয়ার আনার সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া, আপনি ফেসবুক, টুইটার, ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার ভিডিওগুলো শেয়ার করতে পারেন।

এর ফলে আপনি বেশ ভালো ভিউয়ার পাবেন। সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়াও ফ্রিতে অর্গানিক ভিজিটর আনার বেশ কিছু মাধ্যম আছে সেটা নিয়ে পরবর্তীতে একটা পোস্ট করবো।

ইউটিউবার হওয়ার কার্যকরী ধাপ:কাজ করে যাওয়া:

আমার মতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটি, নতুন ইউটিউবাররা বেশিরভাগ ঝরে পড়ে এই কারণে, কারণ তারা একটা পর্যায়ে হতাশ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।

অনেক নতুন ইউটিউবার তিন-চার মাস কাজ করে যখন দেখে যে সফলতা পাচ্ছে না তখনই তারা ইউটিউবকে বিদায় জানায়, আবার অনেক নতুন ইউটিউবার একের পর এক মানহীন ভিডিও দিতে থাকে যার ফলে ভিউয়ার তেমন পায় না তখন হতাশ হয়ে আর কাজ করে না।

আমি অনেক ইউটিউবার দেখেছি যারা প্রচুর ভিডিও আপলোড করেছে কিন্তু এখনো সফল হতে পারেনি, হালও ছাড়েনি। এখনো কাজ করে যাচ্ছে, আবার আরেকজনকে দেখেছি সে ২০১৯ সালটাকে টার্গেট করেছে যে ২০১৯ সালের মধ্যে ৫০০ ভিডিও বানাবে।

নিয়মিত কাজ করে গেলে একটা সময়ে কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানানো নিজেই শিখে ফেলতে পারবেন।

আরওঃ  

1.চার্জিং পোর্ট’ বাদ দিচ্ছে অ্যাপল

2. আগামী সপ্তাহ থেকে অনলাইন নিউজ পোর্টালের নিবন্ধন

 

আপনার মতামত লিখুনঃ