শ্যামাসুন্দরী দখলমুক্ত অভিযান চলতি সপ্তাহেই

শ্যামাসুন্দরী দখলমুক্ত অভিযান চলতি সপ্তাহেই
শ্যামাসুন্দরী দখলমুক্ত অভিযান চলতি সপ্তাহেই

রবিউল ইসলাম দুখু:
রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খালের দুই ধার চলতি সপ্তাহেই দখলমুক্ত অভিযান শুরু হবে। কোর কমিটির সমন্বয়ে পরিচালিত হবে এই অভিযান । দখল মুক্তের পর খালের দুই ধারে করা হবে রাস্তা। হবে ঝকঝকে পরিস্কার। নগরীর প্রাণ কেন্দ্র দিয়ে যাওয়া ১৬ কিলোটিারের এই খাল ফিরে পাবে প্রাণ। কোর কমিটি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, দ্রুত অভিযান শুরুর লক্ষ্যে কয়েক দিন আগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্যামাসুন্দরী খালের সীমানা নির্ধারণ, পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবন সংক্রান্ত বিষয়ে করা হয় কোর কমিটি।

কমিটিতে আছেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার তারিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ রংপুর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি ইকবাল হোসেন, রংপুর সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামস্, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, রংপুর মেট্রেপলিটন পুলিশ কমিশনার আব্দুল আলীম মাহামুদ, রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র এ.কে.এম আব্দুর রউফ মানিক, রংপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন-অর-রশীদ, নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল হক, সম্পত্তি কর্মকর্তা মাসুদ কবীর বকসী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগি অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও রংপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি রশিদ বাবু।

তিনি আরো জানান, শ্যামাসুন্দরী খালের প্রধান ২টি সমস্যা চিহিৃত করা হয়। সমস্যা ২টি হলো দখল ও দূষণ। শ্যামাসুন্দরী খালটির পুরো দৈর্ঘ্যজুড়ে অসংখ্য অবৈধ দখলদার খালটির অধিকাংশই দখল করে নিয়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ, চাষাবাদ এবং ভরাট করেছেন। খালটি দখলমুক্ত করতে খালের সীমানা চিহিৃতকরণ করা হয়েছে । জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানান, প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান শুরু হবে। প্যানেল মেয়র মাহামুদুর রহমান টিটু জানান, আমরা কোর কমিটি সমন্বয়ে চলতি সপ্তাহে দখলমুক্ত কার্যক্রম শুরু করবো। যতদিন পর্যন্ত দখল মুক্ত না হবে ততদিন পর্যন্ত অভিযান চলবে।

প্রাপ্ততথ্যে জানা যায়, বর্তমানে ময়লা-অর্বজনায় পরিপূর্ণ হয়ে এবং ৪ শ ৮২ জন দখলদারের রাহুগ্রাসের কাছে নগরীর পয়ঃনিষ্কাশন প্রবাহের অন্যতম এই খালটি জিম্মি হয়ে পড়েছে । নগরীর সিও বাজার এলাকার ঘাঘট নদীর উৎস মূখ থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১৬ কিলো মিটার দীর্ঘ শ্যামাসুন্দরী খালটি নগরীর ভিতর দিয়ে খোখসা ঘাঘটের সাথে মিলেছে। বর্তমানে এটি সংস্কার না করার কারণে মশার নিরাপদ প্রজনন এবং আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। ৩০ থেকে ৯০ ফুট প্রশ্বস্ত খালটি এখন ৮ থেকে ১০ ফুটে পরিণত হয়েছে। ৪ শ ৮২ জন দখলদার খালটি যেন গিলে খেয়েছে। অনেকে বাড়ির পয়নিস্কাশনের লাইন খালের সাথে সংযোগ করে দিয়েছেন।

২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে রংপুর পৌরসভা খালটি খনন করেছিল। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০১২ সালে প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যায়ে সে সময়ে শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কার শুরু হওয়ার পর সে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তিতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড এই খাল খননের একটি প্রকল্প হাতে নেয়। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার খাল খনন করে। বর্তমানে তা অব্যাহত আছে।

আরো জানা যায়, ১৮৯০ সালে তৎকালীন ডিমলার দানশীল রাজা জানকী বল্লভ সেন এই খাল সংস্কার করেন । শ্যামাসুন্দরীর মতো একটি খাল কেবল রংপুরই নয়, বাংলাদেশেই বিরল। ১৬ কিমি দীর্ঘ এবং স্থানভেদে ৪০ থেকে ১২০ ফুট প্রশ্বস্ত এই খাল সিটি এলাকার উত্তর পশ্চিমে কেল্লাবন্দ ঘাঘট নদী থেকে শুরু হয়ে নগরীর সব পাড়া-মহল্লার বুক চিরে ধাপ পাশারি পাড়া, কেরানী পাড়া, মুন্সী পাড়া, ইঞ্জিনিয়ার পাড়া, গোমস্ত পাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেতুলতলা, নূরপুর, বৈরাগিপাড়া হয়ে মাহীগঞ্জের কেডি ক্যানেল স্পর্শ করে মিশেছে খোকসা ঘাঘট নদীতে।

আপনার মতামত লিখুনঃ