শীত মোকাবেলায় রমেক হাসপাতাল শিশু ও বার্ন ইউনিটে বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ

শীত মোকাবেলায় রমেক হাসপাতাল শিশু ও বার্ন ইউনিটে বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ

হুমায়ুন কবীর মানিক:
রংপুরে শীত মোকাবেলায় রমেক হাসপাতাল শিশু ও বার্ণ ইউনিট বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত কয়েক বছরে শীতে শিশু ও আগুনে পোড়া রোগীদের মতো এবারও মৃতের সংখ্যা যেন না বাড়ে সেজন্য রমেক হাসপাতাল এখনই বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এ দুই ইউনিটে চিকিৎসকের তদারকিও বাড়ানো হয়েছে। খুব একটা জরুরী প্রয়োজন ছাড়া রোগীর স্বজনরাও থাকছেন না এসব ওয়ার্ডে।

বার্ণ ইউনিটে ইতিমধ্যে আগুন লাগলে বা আগুনে দগ্ধ হওয়ার পরে করণীয় বিষয়ে বিভিন্ন ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উপজেলায় পোষ্টারিং করা হয়েছে। এছাড়াও শীতে আগুন পোহানো থেকে বিরত থেকে শীতবস্ত্র পরিধান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে শীতজনিত রোগে শিশু ও শীতের তীব্রতা কমাতে আগুনে পোড়া কোন রোগী এখনও রমেক হাসপাতালে মারা যায়নি বলে হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে।

রমেক হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রমেক হাসপাতালে বার্ণ ইউনিটে ১১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদর মধ্যে অধিকাংশ রোগী শরীরে ৪৫ শতাংশ পোড়া নিয়ে আছেন। এদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করা হয়েছে। অপরদিকে, রমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে গতকাল শনিবার ৮১ জন শিশু রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে শীতজনিত কারণে ডায়রিয়ায় ৫ জন ও নিউমোনিয়ায় ৫১ জন শিশুকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। রমেক হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হওয়ার পরে শিশুরা এখন ভালো আছেন।

রমেক হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. এম এ হামিদ পলাশ জানান, আমরা এর আগে শীতজনিত আগুনে পোড়া যেসব রোগী পেয়েছিলাম তাদের সেবা দিতে গিয়ে ঔষধ কিছুটা ঘাটতি ছিল। সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত ঔষধও দেরীতে পেয়েছিলাম। সেকারণে মৃতের সংখ্যা একটু বেড়েছিল।

তবে এবার আমরা আগেই সরকারীভাবে ঔষধ সরবরাহ করে এনেছি। যখনই কোন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়াও এ ওয়ার্ডে ষ্টাফ নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের চৌকসভাবে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। কোন সমস্যা যেন না হয় সেজন্য আমরা খেয়াল রাখছি। এসময় আগুনে যারা দগ্ধ হবেন তাদের দ্রুত আগুনে পোড়া অংশে শুধু পানি দিতে হবে। পানি বেশী দিলে ক্ষত কমে আসে। কোন ধরণের পেষ্ট, মলম লাগানোর প্রয়োজন নেই।

রমেক হাসপাতালের ডেপুটি পরিচালক ডা. শাহাদত হোসেন জানান, আমরা শীত মোকাবেলায় আন্তরিকতার সাথেই কাজ করে যাচ্ছি। নিয়মিত পরিচালকের নির্দেশে মিটিং করা হচ্ছে। শিশু বিভাগের রোগী ও বার্ণ ইউনিটের রোগীদের সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যেহেতু এ অঞ্চলে শীতের একটা প্রকাপ থাকে সেকারণে আমরাও বিষয়টি গুরুত্ব নিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।