রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সরকার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে : ওবায়দুল কাদের

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সরকার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে : ওবায়দুল কাদের

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সরকার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে বিআরটিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগের শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, নিরাপত্তা ও সিটিজেনশিপের মতো বিষয়গুলো এখনো সমাধান করতে না পারায় তাদের মধ্যে অবিশ্বাস রয়ে গেছে। সবকিছু মিলিয়ে জাতিসংঘ, ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে শেখ হাসিনা সরকার যতটা কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছে এটা অন্য কোনো দেশে সম্ভব হয়নি।

এখানকার সমস্যাটা জটিল। এই জটিলতার মধ্যে যুদ্ধ পরিহার করে ঠাণ্ডা মাথায়, শান্তির মাধ্যমে আলাপ-আলোচনা করে এর সমাধান করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে ব্যর্থতার কোনো বিষয় নেই। এখানে কৌশলগত বিষয় রয়েছে। অনেক সময় দুই পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে যেতে হয়।

এটিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলা যাবে না। রোহিঙ্গারা কক্সবাজার সীমান্ত অতিক্রম করে আসার পর মিয়ানমার সরকার সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করছে। মিয়ানমার সরকার সেখানে পরিবেশ সৃষ্টি করেনি, নিরাপত্তা সৃষ্টি করেনি, সিটিজেনশিপের মতো বিষয়টি সুরাহা করতে পারেনি, এজন্য তাদের বিশ্বাস করতে পারেনি রোহিঙ্গারা।

তারা অত্যাচারিত, নির্যাতিত হয়েছে। এর দায় মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে। সেজন্য আমরা আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখব। সেই কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা।’ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকের দিনে যুদ্ধের পথে গিয়ে জয়ী হওয়া যাবে না। শান্তিকে জয় করতে হবে।

এই লোকগুলোকে সম্মানের সঙ্গে নিরাপত্তার নিশ্চিত করে ফেরত পাঠাতে হবে। সেজন্য চেষ্টা চলছে। আজকে যারা বলেন, এখানে কূটনৈতিক প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে, আমি বলব তাদের এটা বিগ মিসটেক। সরকারের কূটনৈতিক প্রয়াস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যে এই ব্যাপারে আমাদের মনে রাখতে হবে মিয়ানমারেরও বন্ধু আছে এবং শক্তিশালী বন্ধু আছে। বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই।

দীর্ঘদিন স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করেছে বলে তারা বন্ধুহীন এটা চিন্তা করার কারণ নেই। আজকের পৃথিবীতে ডিপ্লোমেসিটা ইকোনমি ডিপ্লোমেসি। এখানে জিও ফিজিক্যাল কন্ডিশনে মিত্রতা সৃষ্টি হয়। ইকোনোমিক কারণে, ফিন্যান্সিয়াল কারণে মিত্রতা হয়। সবার একটা অঙ্ক আছে, হিসাব আছে। সেই হিসাবে মিয়ানমারের বন্ধুরা কম শক্তিশালী নয়। কাজেই আমাদের কৌশলী হয়ে এগোতে হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান কক্সবাজার-টেকনাফ এলাকার পর্যটনসহ সব বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের লালন-পালন আশ্রয় দেওয়ায় আমাদের ট্যুরিজম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইকোলজি ইফেকটেড হচ্ছে।

আমাদের ইকোনমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, সেই পর্যটনশিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের হাতে আওয়ামী লীগের এক নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

সেখানে রোহিঙ্গারা ১১ লাখ, আমাদের চার লাখ। মনে রাখতে হবে, রোহিঙ্গাদের মধ্যে সবাই যে নিরীহ শান্ত সেটি মনে করার কারণ নেই। তাদের মধ্যে হতাশা আছে, বেপরোয়া মনোভাব আছে, সেটির একটি বিচ্ছিন্ন প্রকাশ ঘটেছে। কাজেই এর জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে এটা মনে করা সঠিক হবে না। পরিস্থিতি আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ