রোল মডেল উন্নয়নের নয়, দুর্নীতির: ফখরুল

এনএনবি : ক্ষমতাসীনরা টাকা বানানোর রোগে আক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ এ সেমিনারের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, টাকা বানানো নাকি একটা ব্যধি বা রোগ। সেই রোগে তো আপনারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়ে গেছেন। আপনার সোনার ছেলেরা, তাদেরকে এখন ধরে ধরে আনছেন, তাদেরকে বলার চেষ্টা করছেন- তোমরা এখন ভালো হয়ে যাও।

“আজকে বলা হচ্ছে- রোল মডেল বাংলাদেশ। কিসের? উন্নয়নের রোল মডেল। এই রোল মডেল- এখন যেটা দাঁড়িয়েছে, তা হচ্ছে- সন্ত্রাসের রোল মডেল, নারী-শিশু ধর্ষণের রোল মডেল, দুর্নীতির রোল মডেল।

গ্লোবাল ফাইন্যানশিয়াল ইনটিগ্রিটি প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করেন মির্জা ফখরুল বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে দিচ্ছে। ৃবাংলাদেশের ব্যাংক থেকে চলে যাচ্ছে, শেয়ার মার্কেট লুট হয়ে গেছে।

“মেগা প্রজেক্ট- কিছুক্ষণ আগে শুনলেন, ১০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট চলে গেছে ৫০ হাজার কোটি টাকাতে।”

বিদেশে নারী শ্রমিকদের নির্যাতিত হওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমাদের নারীরা কাজ করবেন মর্যাদার সঙ্গে, মর্যাদাহানি করে কাজ করবেন এটা আমরা কখনো মেনে নিতে পারি না।

আজকে অবাক বিস্ময়ের সঙ্গে শুনি, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন যে, এটাতো একটা সাধারণ ব্যাপার ৫৫ জন। এই যে একটা মানসিকতা, এই মানসিকতাটাই হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ংকর মানসিকতা।”

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবে কাজ করতে যাওয়া ২ লাখ ৭০ হাজার নারীর মধ্যে ৮ হাজারের মতো ফিরে এসেছেন; ৫৩ জনের মরদেহ এসেছে।

“শতকরা হিসাবে সংখ্যাটা খুবই সামান্য। ৯৯ শতাংশ নারী ম্যানেজ করে নিয়েছেন, দেশে তারাও টাকাও পাঠাচ্ছেন।”

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলেছে। বিচার ব্যবস্থাকে পুরোপুরিভাবে দলীয়করণ করে ফেলেছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। গণমাধ্যম যেটা গণতন্ত্রের প্রধান বিবেক হিসেবে কাজ করে তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

“গতকাল আমি একজন খ্যাতিমান সম্পাদকের সাথে কথা বলছিলাম। তো অনেক কথার পরে আমি বললাম, কেমন আছেন? এখন চাপ কেমন পড়ছে? বললেন, আমরা এখন নিজেরাই চাপ সৃষ্টি করছি।

কথাটা বুঝতে পেরেছেন। এখন সেলফ সেন্সরশিপ করছি। উপায় নেই নাহলে টিকতে পারব না- এই হচ্ছে অবস্থা। তাহলে মানুষ কোথায় যাবে, কোন দিকে যাবে।”

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “তথ্যমন্ত্রী সাহেব গতকাল বলেছেন যে, জিয়াউর রহমান সাহেব উনি সুযোগে পেয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং জিয়াউর রহমান নাকি টেন্ডার দিয়ে রাজনীতিবিদদের নিয়ে এসছিলেন, তারপরে তাদেরকে নাকি মন্ত্রণালয়-টন্ত্রণালয় দিয়ে সেভাবে দেশ চালিয়েছেন।

“এটা আমাকে কিছুটা আঘাত করলো বলে আমি গুগলে তার (তথ্যমন্ত্রী) প্রোফাইলটা বের করলাম- ভদ্রলোকের জন্ম কবে? দেখলাম ১৯৬৩ সাল। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে যথন স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে তখন তার…।

জিয়াউর রহমান কি ছিলেন, কখন এসছেন, কি অবস্থার প্রেক্ষিতে তিনি বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় মানুষের পরিণত হয়েছিলেন- এটা তো তার জানার কথা নয় সেভাবে।

সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকা-ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রুনি আমার দূর সম্পর্কের আত্মীয় হয়। রুনি যে দিন নিহত হলেন সেদিন ছুটে গিয়েছিলাম বাসায়। কিছুক্ষণের মধ্যে চারদিক ঘিরে ফেললো এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হলেন।

তিনি ঘুরে এসে বললেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকারীকে ধরা হবে। আজকে ৮ বছর হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত সাগর-রুনি হত্যাকা-ের কোনো সুরাহা হয়নি।

“সবচেয়ে দুঃখের কথা- এখানে সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন, তারা সাগর-রুনিকে নিয়ে যেহেতু সাগর-রুনি অত্যন্ত খ্যাতিমান সাংবাদিক ছিলেন, তাদের নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলেন যৌথভাবে অর্থাৎ সেখানে আর বিভক্তি ছিলো না।

সব সাংবাদিক এক হয়ে তারা আন্দোলন শুরু করলেন। বেশ জোরালো আন্দোলন শুরু হয়েছিলো এরপর হঠাৎ দেখা গেল একদিন বিভক্ত হয়ে গেল একটি শ্রেণি, তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ালেন।

আরেক দল কিছুদিন চিৎকার করে করে ক্লান্ত হয়ে গেলেন। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অপরাধ- তারা এই সমাজকে বিভক্ত করে ফেলেছে, সমাজকে পুরোপুরিভাবে দূষিত করে ফেলেছে।

সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “বেগম জিয়া একজন জাতীয় নেত্রী, তিনি নারী নেত্রী। কী নির্যাতনটা হচ্ছে দেখছেন?

“রাজনীতির কথা বাদ দেন, আমি মনে করি এতো বড় অন্যায়। এতো বয়সী, এতো অসুস্থ তারপরেও কেউ কেউ পাশবিক আনন্দ পায়। কিছু কিছু লোক আছে- অন্যের কষ্ট দেখে ভালো লাগে। মনে হয় বেগম জিয়া যত কষ্ট পাচ্ছেন তত বেশি প্রাণভরে ভেতরে ভেতরে হাসছেন। হয়ত টেলিভিশনে হাসেন না, আমরা দেখতে পারছি না।”

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ও সাংবাদিক মাহমুদা চৌধুরী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা তাহসিনা রুশদীর লুনা, শিরিন সুলতানা, আবদুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, ফরিদা মনি শহিদুল্লাহ, আবদুস সালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম, হারুনুর রশীদ, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, শামসুল আলম প্রামানিক, বিলকিস ইসলাম, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ফরিদা ইয়াসমীন, নুরজাহান মাহবুব, আনোয়ার হোসেইন, খন্দকার আবু আশফাক উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুনঃ