রাবিতে ভর্তি যুদ্ধ ২০ অক্টোবর; পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন এনেছে প্রশাসন। বিগত শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ইউনিট বিন্যাস, পরীক্ষার নম্বর বণ্টনসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়। এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর। এতে দ্বিতীয় বারের ভর্তিচ্ছুরা পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পাবে না।

গত ২৪ জুলাই (বুধবার) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. লায়লা আরজুমান বানু।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাথমিক আবেদন শুরু হবে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর। চলবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর চূড়ান্ত আবেদন ১৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে।

একাডেমিক সূত্রে জানা যায়, এর আগে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত উপ-কমিটি মাত্র তিনটি ইউনিটে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্ত বুধবার ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভায় বহাল রাখা হয়। সেখানে ‘এ’ ইউনিটের অধীনে কলা অনুষদ, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, আইন অনুষদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)। বি ইউনিটে ব্যাবসায় শিক্ষা অনুষদ, ব্যাবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট এবং সি ইউনিটের অধীনে বিজ্ঞান, জীব ও ভূবিজ্ঞান, প্রকৌশল ও কৃষি অনুষদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে ১ জন ভর্তিচ্ছু শুধু মাত্র ১টি মাত্র ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে। ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রাথমিক আবেদন ফি ৫৫/ টাকা। ফলাফলের ভিত্তিতে ৩২ হাজার নির্বাচিত হবার পর চূড়ান্ত আবেদন ফি ১৯৮০/ টাকা।

এছাড়াও জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা যে বিভাগ থেকে পড়াশুনা করে এসেছে তারা শুধু সেই ইউনিটে পরীক্ষা দিতে পারবে। অর্থাৎ মানবিক বিভাগ থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা শুধু ‘এ’  ইউনিট, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা বিভাগ থেকে পাশ কৃত শিক্ষার্থীরা ‘বি’ ইউনিট ও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাশকৃত শিক্ষার্থীরা ‘সি’ ইউনিটে পরীক্ষা দিতে পারবে। কোনো শিক্ষার্থী ইচ্ছা করলেই বিভাগ পরিবর্তন করতে পারবে না। সে সুযোগ রাখা হয় নি এবারে ভর্তি পরীক্ষায়।

সভাসূত্রে জানা যায়, এবার লিখিত ও এমসিকিউ দুই পদ্ধতিতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের এমসিকিউ এবং লিখিত ৪০ নম্বর থাকছে। লিখিত প্রশ্ন থাকবে ২০টি যার প্রতিটির মাণ ২ করে মোট ৪০ নম্বর। এমসিকিউ ৬০টি প্রশ্নের জন্য সময় বরাদ্দ থাকবে ৫০ মিনিট এবং লিখিত প্রশ্নের জন্য সময় ৪০ মিনিট। প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ১০ টা ৪৫ এবং ১২ টা থেকে ১ টা ৪৫ পর্যন্ত এই দুই শিফটে পরীক্ষা চলবে। ভর্তিপরীক্ষার জন্য পরীক্ষার জন্য আবেদনকারীদের ‘এ’ ইউনিট মানবিক শাখায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ সহ জিপিএ ৭.০০ থাকতে হবে, ‘বি’ ইউনিটে বানিজ্য শাখায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ সহ জিপিএ ৭.৫০ থাকতে হবে এবং ‘সি’ ইিউনিটে বিজ্ঞান শাখায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ সহ জিপিএ ৮.০০ থাকতে হবে। তবে পরীক্ষার্থীরা যেকোনো একটি ইউনিটে ভর্তির আবেদন করতে পারবে।

প্রসঙ্গ গত, প্রশাসনের এরূপ অযৌক্তিক সিন্ধান্তের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন থেকে লাগাতার মানববন্ধন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুনঃ