রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল মশা তৈরীর কারখানা

রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহি শ্যামাসুন্দরী খাল মশা তৈরীর কারখানা

নজরুল মৃধা রংপুর। রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহি শ্যামাসুন্দরী খাল এখন মশা তৈরীর কারখানায় পরিনত হয়েছে। নগরীর মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের জন্য খননকৃত শ্যামাসুন্দরী খালটি এখন আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বিষাক্ত পানি পরিবেশ দূষণ করে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। বছরের পর বছর এ অবস্থা চলতে থাকলেও সংস্কারের নামে হয়েছে হরিলুট।

রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা দূর এবং ম্যালেরিয়ার হাত থেকে নগরবাসিকে মুক্ত রাখতে পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকী বল্লভ সেন ১৮৯০ সালে তার মা চৌধুরানী শ্যামা সুন্দরী দেবীর নামে ক্যানেলটি পুনঃ খনন করেন।

১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামা সুন্দরী খালের সম্মুখে নগরীর কেল¬াবন্দের ঘাঘট নদী। এটি ঘাঘট নদী থেকে শুরু করে ধাপ পাশারী পাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সিপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর, বৈরাগীপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে।

রংপুর নগরীর ঐতিহ্যবাহি শ্যামাসুন্দরী খাল মশা তৈরীর কারখানাদীর্ঘ দিন থেকে সংস্কার না করায় খালটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। এর দুই ধারে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে খালটি। সামান্য বৃষ্টিতেই গোটা শহরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ১১৭ বছর পর ২০০৭ সালে পৌরসভা ক্যানেলটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় নগরবাসীর মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। আবার যেখানে সংস্কার হয়েছে তা ধসে গিয়ে এখন ধ্বংশস্তুপে পরিনত হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে , খাল সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য আট কিলোমিটার স্লোপ প্রটেকশন ও দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণ, তিনটি ব্রিজ নির্মাণ, একটি ব্রীজ বর্ধিতকরণ ও একটি বক্স কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। প্রকল্পের কাজ অনেকস্থানে বাস্তাবায়ন হলেও খালের অনেকস্থানে নির্মিত হাঁটা রাস্তার অস্তিত্ব নেই।

খালটির প্রস্থ স্থানভেদে ৬০ থেকে ১২০ ফুট হলেও খালের প্রসস্ত ১৫ ফুটে নামিয়ে এনে দু পাশে সংস্কার কাজ করা হয়েছে। তাই অনেক স্থানে খালের জমি বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সেফটি ট্যাংক তৈরী না করে খালের মধ্যে মল-মূত্রসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলছেন। ফলে খাল ভরাট হয়ে ডোবা-নালায় পরিণত হয়েছে। অনেক স্থান ভরাট হওয়া ফলে এটি খাল কিনা বোঝার উপায় নেই।

শ্যামাসুন্দরি খাল পরিস্কার করতে নগরবাসিবাসি বিভিন্ন সময় আন্দোলন সভা সমাবেশ করলে আশ্বাস ছাড়া কিছুই জোটেনি। সম্প্রতি ডেঙ্গু আতঙ্ক দেখা দেয়ায় সিটি করপোরেশন খালটি পরিস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই উদ্যোগ কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়ে নগরবাসির মাঝে সংশয় রয়েছে।

বুধবার দুপুরে সিটি করপোরেশনে এক সভায় সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় সিটি করপোরেশন প্রস্তুত রয়েছে। শ্যামাসুন্দরী খালসহ নগরীর জলাশয়, ময়লা অবর্জনা পরিস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এলক্ষে বেশ কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ করছেন।