রংপুরে র‌্যাবের ভোজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত

রংপুরে র‌্যাবের ভোজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত
রংপুরে র‌্যাবের ভোজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত

রবিউল ইসলাম দুখু, রংপুর:
রমজান মাসে র‌্যাব ১৩ এর উদ্যোগে রংপুরে ভেজাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ অভিযানে অবৈধ ব্যবসায়ীদের করা হচ্ছে জেল জরিমানা। আর জব্দ করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য। নিয়মিত ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করায় সন্তুষ্ট রংপুরের মানুষ।

গত ২২ তারিখে র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট কর্তৃক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ফুলকলি লাচ্ছা ব্রেড এন্ড কনফেকশনারীর অসাধু ব্যবসায়ী আতাউর রহমান, ম্যানেজার হামিদুল হককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড আর প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার জব্দকৃত মালামাল ধ্বংস করা হয়।

এভরিডে ফুড কারখানার ম্যানেজার ওয়ায়েজ করনিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার জব্দকৃত মালামাল করা হয় ধ্বংস। সোনালী বেকারীর (সেমাই কারখানা) বাবুল মিয়াকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার জব্দকৃত মালামাল ধ্বংস করা হয়।

আর মেসার্স মালা প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেটিংয়ের (পলিথিন কারখানা) ইয়াসিন মিয়া, ম্যানেজার তারিকুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা করে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং প্রায় ১ লাখ টাকার জব্দকৃত মালামাল ধ্বংস করা হয় ।

অভিযান পরিচালিত হয় মিঠু হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টেও। মালিক মোস্তফা কামালকে ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং প্রায় ২০ হাজার টাকার জব্দকৃত মালামাল করা হয় ধ্বংস । ৫ প্রতিষ্ঠানে মোটে জরিমানা করা হয় ১১ লাখ টাকা ।

এদিকে চলতি মাসের ৯ তারিখ বিকেলে সিটি বাজার ফলের দোকান এলাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ নষ্ট ১৫০ কেজি খেজুর জব্দসহ অসাধু ব্যবসায়ী জ্যোতি হার্ডওয়ারের জয়নাল আবেদীন, মামুন ষ্টোরের মোঃ শাহীন, যমযম ফল ভান্ডারের গোলাম ফারুক এবং ন্যাশনাল ফল ভান্ডারের আরিফ হোসেনকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযুক্তদেরকে সর্বমোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১৫ দিন করে কারাদন্ডাদেশ প্রদান করা হয়।

সেইসাথে জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ নষ্ট খেজুর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নিদের্শে ধ্বংস করা হয়।
মানবাধিকার কর্মী আবদার আলী জানান, অভিযান অব্যাহত থাকায় কিছুটা হলেও বাজারে ভালো পণ্য পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম হক আকরাম বলেন,অভিযানের কারনে অনেক ব্যবসায়ী নড়েচড়ে বসছেন। এখন কিছু দোকানে ভালো পণ্যও মিলছে।
বিশুদ্ধ খাদ্য পাওয়ার অধিকার সবার আছে জানিয়ে র‌্যাব-১৩ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, ভেজাল বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত আছে।

ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে যাতে কেউ উপযুক্ত সময়ের আগেই ফল পাকাতে না পারে, পচা বাসি খাবার যাতে বিক্রি করতে না পারে এজন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অনেককেই জেল-জরিমানা করা হয়েছে। শুধু রমজান নয় সারা বছরই এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুনঃ