রংপুরে নকল অ্যাপস তৈরী করে হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সড়কে

রংপুরে নকল অ্যাপস তৈরী করে হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সড়কে
রংপুরে নকল অ্যাপস তৈরী করে হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সড়কে রংপুরে নকল অ্যাপস তৈরী করে হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা সড়কে

নজরুল মৃধা রংপুর: রংপুর মহানগরীতে নকল অ্যাপস তৈরী করে একই নাম্বারের হাজার হাজার ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা চলাচল করছে। নকল অ্যাপস তৈরী করে এক শ্রেণির অসাধু মালিক সড়কে ব্যাটারি চালিত আটো চালিয়ে নগরীকে যাটজটের নগরে পরিনত করেছে। ফলে নগরীর যানজট কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা।

ট্রাফিক বিভাগ গত এক সপ্তাহে একই নাম্বার এবং একই অ্যাপস ব্যবহারকারি কমপক্ষে ১০টি অটো রিক্সা আটক করেছে। নগরীতে সিটি করপোরেন বৈধ অটো রিক্সার লাইসেন্স দিয়েছে ৫ হাজার ২০০টির। সেখানে নগরীতে চলছে ৩০ হাজারে বেশি অটোরিক্সা। ফলে প্রশ্ন উঠেছে নকল অ্যাপস কোথায় পাচ্ছেন অটো চালকরা।

কেউ কেউ অভিযোগ করছেন সিটি করপোরেশনের এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি ও কম্পিউটারের দোকানের সাথে আঁতাত করে নকল অ্যাপস তৈরী করে অটো চালকদের কাছে বিক্রি করছে। তবে নকল অ্যাপস ব্যবহাকারি অটো রিক্সা আটক হলেও যারা নকল অ্যাপস তৈরী করে সরবরাহ করছে তাদের এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারেনি ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, রংপুর নগরী এখন যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ যানজট পথচারীর জন্য সৃষ্টি করছে বাড়তি ভোগান্তি। শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে সংযোগ সড়কগুলিতে সকাল থেকে যানজট বাড়ছেই ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সার কারণে। যানজটের কারণে শপিংমলে কেনাকাটা করতে আসা লোকজনও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন।

বিশেষ করে সকাল ৯ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত নগরীর প্রেসক্লাব মোড় থেকে সিটি বাজার পর্যন্ত এবং ফিরতি পথে সিটি বাজার থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যানবাহনের চাপে প্রায় অচল হয়ে পড়ে। ১২ থেকে ১৩ হাজার রিকশা আর ৩০ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চাপে এখন নাকাল মহানগরীর মানুষ।

ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, যানজট নিয়ন্ত্রণে তারা নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র পরীক্ষা করছে। অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সার লাইসেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে ট্রাফিক বিভাগ উদঘাটন করেছে একই অ্যাপস ব্যবহার করে একই নাম্বারে একাধিক অটো রিক্সা রাস্তায় চলাচল করছে।

অ্যাপস পরীক্ষা করার সময় সাথে সাথে অটো মালিকের নাম, ঠিকানান নাম্বার চলে আসে। ফলে খুব সহজেই ধরতে পারছেন একই নাম্বারের একধিক অটোরিক্সার বিষয়টি। নকল অ্যাপসধারি অটোরিক্সা আটক করে চালককে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। অপরদিকে সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স বিভাগ দাবি করছে তারও নকল অ্যাপস ব্যবহারকারিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে।

নকল লাইসেন্সধারি অটোকে আটক করে তারাও থানায় জমা দিচ্ছেন। এদিকে এই নকল অ্যাপস কারা সরবরাহ করছে তা উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ এবং সিটি করপোরেশন। তবে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, কম্পিউটার দোকানদাররা সিটি করপোরেশনের সাথে যুক্ত রয়েছে এমন কারো সহযেগিতায় এই নকল অ্যাপস তৈরী করে অটো চালকদের কাছে বিক্রি করছে।

কারণ বেশ ক’বছর হয় সিটি করপোরেশন থেকে নতুন কোন অটো রিক্সার লাইসেন্স দেয়া হচ্ছেনা। ফলে নকল লাইসেন্সই ভরসা অটো চালকদের। সূত্রমতে নগরীতে ৭ হাজারের বেশি নকল অ্যাপসধারি অটো রিক্সা চলাচল করছে। এসব নকল অ্যাপস সরবরাহ করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।

মহা-নগর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন নগরীতে নকল অ্যাপস ব্যবহার করে অটো রিক্সা চলাচলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,আমরা প্রায়ই অভিযান চালিয়ে নকল অ্যাপস( লাইসেন্স ) ব্যবহারকারি অটো রিক্সা আটক করেছি। সেগুলো থানায় জমা করা হয়েছে।

নকল অ্যাপস ব্যবহারকারিদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে তা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে খুব দ্রুত আটককৃত অটো রিক্সার মালিকদের বিরুদ্ধে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুয়াযি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স শাখার প্রধান শামিম হোসেন জানান, সিটি করপোরেশন ৫ হাজার ২০০ অটোর লাইসেন্স দিয়েছে। এর বাইরে যারা নকল অ্যাপ ব্যবহার অথবা অন্য কোন অবৈধ উপায়ে অটো চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও সিটি করপোরেশন অভিযান চালাচ্ছে।

ওইসব অবৈধ অটো আটক করে থানায় জমা দেয়া হচ্ছে। তবে নকল অ্যাপস কারা কিভাবে তৈরী করছেন বিষয়টি তার জানা নেই বলে তিনি জানান।