রংপুরে অজ্ঞান পার্টির ৬ সদস্যদের গ্রেফতার

রংপুরে অজ্ঞান পার্টি
রংপুরে অজ্ঞান পার্টি

স্টাফ রিপোর্টারঃ রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ রংপুরের পরশুরাম থানার কোবারু ডাক্তার পাড়া গ্রামে জনৈক মিজানুর রহমান এর বাড়ীতে অজ্ঞাতনামা অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা রাতের বেলায় বাড়ীতে প্রবেশ করে বাড়ীর ০৪ (চার) জন লোককে অজ্ঞান করেন। পরবর্তীতে উক্ত বাড়ী থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।

উক্ত ঘটনায় পশুরাম থানায় মামলা দায়ের হয়। রহস্য উদঘাটনের জন্য রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ কাওছার পিপিএম, এসি পরশুরাম জোন শেখ মোঃ জিন্নাহ আল মামুন, অফিসার ইনচার্জ  মোহছে-উল গনি ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই মনোয়ার হোসেন সমন্বয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়।

তদন্ত টিম রংপুর এবং গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান  করে ১০ জুলাই গাইবান্ধা জেলা হতে মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞান পার্টির মূলহোতা আসামী মোঃ হাফিজার রহমান  (৪৪), পিতা- মৃত আঃ বাকী, সাং-বেড়া ডাঙ্গা, থানা ও জেলা- গাইবান্ধাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হতে চোরাইকৃত ১১ (এগার) টি বিভিন্ন ধরনের মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার (কানের দুল ০২ (দুই) জোড়া, চোরাইকাজে ব্যবহৃত লোহার সাবল ও চেতনানাশক ওষুধ (ডেসোপিন-১/ ডেসোডিপন-২ ট্যাবলেট) উদ্ধার পূর্বক জব্দ করা হয়। তাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে জড়িত শিকার করেন। তার দেয়া তথ্য মতে ঘটনার সাথে জড়িত আরো ৫ জন আসামী মোঃ মশিয়ার রহমান ভুট্টু (৪৫), মোছাঃ লিপি বেগম  (২৬), মোঃ খোরশেদ আলম (১৯), সর্ব সাং- কচুটারী, থানা- পরশুরাম, মহানগর রংপুর, মোঃ রুবেল মিয়া (৩২), মৃত সালাম মিয়া, সাং- নিউ জুম্মাপাড়া, থানা- কোতয়ালী, মহানগর রংপুর, মোঃ রাজু মিয়া (৩০), মৃত খলিলুর রহমান, সাং- জয়দেব মনাষপাড়া, থানা- গংগাচড়া, জেলা- রংপুর দয়কে ১০ জুলাই রংপুর মহানগর ও রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সকল আসামীদের ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায় যে, গত ৩০শে জুন সন্ধার দিকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজার রহমান এবং অন্যান্য সহযোগী আসামীগণ বাদীর বাড়ীতে যায় এবং তারা বাড়িটি রেকী করে। পরিকল্পনাকারী হাফিজার রহমান চেতনা নাশক ওষুধ যোগাড় করে এবং গোপনে বাদীর বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে চেতনা নাশক ওষুধের গুড়া খাবারের সাথে মিশিয়ে দেয়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উক্ত খাবার খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে গভীর রাতে ঘরে প্রবেশ করে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।

প্রাথমিক তদন্তে হাফিজারের বিরুদ্ধে আরো জানা যায়, ইতোপূর্বে বেশ কিছুদিন পূর্বে পরশুরাম থানাধীন কচুটারী এলাকায় এধরণের অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম জানান গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গ্রেফতারকৃত সকল আসামীগণ এ ঘটনার সহিত জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীগণ জানায় যে, দীর্ঘদিন যাবৎ তারা এ পেশার সাথে জড়িত। তারা বিভিন্ন এলাকায় বাসা বাড়িতে চেতনা নাশক ওষুধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অজ্ঞান করে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ করে আসছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের সনাক্তপূর্বক গ্রেফতারের জোর চেষ্টা অব্যাহত আছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ