রংপুরের শিল্প কারখানা তৈরিতে প্রয়োজন আলাদা শিল্পনীতি

রংপুরের শিল্প কারখানা তৈরিতে প্রয়োজন আলাদা শিল্পনীতি

হুমায়ুন কবীর মানিক:
দেশে ২৪ হাজার নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি করবে সরকার। এ লক্ষে রংপুরসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির বিষয়ে কাজ করছে বিডা নামে একটি সংগঠন। তারা নতুন উদ্যোক্তা রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন। রংপুরে যারা রেজিষ্ট্রেশন করবেন তারা যে বিষয়ে পারদর্শী সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে চৌকস করা হবে। রংপুরের শিল্পায়ন খাতকে উন্নত করতে নতুন উদ্যোক্তা খুবই জরুরী। এছাড়াও রংপুর অঞ্চলসহ পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আলাদা শিল্পনীতি।

মেট্রোপলিটন চেম্বার সুত্রে জানা গেছে, সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকায় মুখ থুবরে পড়েছে রংপুরের শিল্পায়ন খাত। বারংবার বিভিন্ন কর্মকর্তার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন অথবা বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যন্ত যাওয়ার পরে এর আর কোন হদিস থাকে না।

সচিবালয়সহ এসব কাজ নিয়ে আসার জন্য মন্ত্রণালয়ে রংপুরের নেতৃত্ব তুলে ধরার মতো কেউ না থাকায় এসব সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করেন শিল্প উদ্যোক্তারা। বর্তমানে রংপুরে ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) অধীন দ্বিতীয় শিল্প নগরীর স্থাপনের আবেদন ও ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনের ফাইলটিও পড়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়।

বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, নগরীর সিও বাজার কেল্লাবন্দ এলাকায় ১৯৬৭ সালে বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনের জন্য ২০ দশমিক ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। বর্তমানে ২৬ টি কারখানা চালু আছে। বিসিক শিল্প নগরী স্বভাবতই প্রায় ৫০ বছর পর এ অঞ্চলের বর্ধিত জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

জেলা বিসিক কর্তৃপক্ষ ২০০৪-৫ অর্থ বছরে নগরীর অদূরে দমদমা এবং ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট সংলগ্ন তালুক ধর্মদাস এলাকায় দ্বিতীয় বিসিক শিল্প নগরী স্থাপনে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণে শিল্প মন্ত্রনালয়ে অনুমতির জন্য আবেদন করলেও এখনও আশার আলো দেখা যায়নি।

রংপুর চেম্বারের পরিচালক রিয়াজ চৌধুরী শোভন জানান, রংপুরের গঙ্গাচড়ার শংকরদহ, ইছলি এলাকায় শিল্পপার্ক তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত রংপুর অঞ্চলের ৩টি নদী বন্দর আর্ন্তজাতিক মানের করার জন্য সার্ভে কার্যক্রম চলছে।

রংপুর বিসিকের ডিজিএম আ.খ.ম জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা বিসিক ২য় শিল্প নগরী ও ইন্ডাষ্ট্রিয়াল শিল্পপার্ক তৈরিতে জমির বিষয়ে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছি।

রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) শরীফ মো: ফয়েজুল আলম বলেন, আমরা শিল্পপার্ক তৈরিতে বরাদ্দকৃত জমির পরিসংখ্যান ও অধিগ্রহণ বিষয়ে সংশিষ্ট ইউএনওকে চিঠি পাঠিয়েছি।

রংপুর মেট্রেপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, রংপুরে বিক্ষিপ্তভাবে ছোট কারখানা নির্মিত হলেও এসব লাভের মুখ দেখছে না।

কলকারখানা নতুনভাবে তৈরি করতে যারা আগ্রহী তাদের জন্য আলাদা ভ্যাট, ট্যাক্স, ব্যাংক লভ্যাংশের পরিমাণ অন্য জেলা বা বিভাগের চেয়ে কিছুটা শিথিল করা জরুরী। তাহলে নতুনভাবে অনেকেই শিল্প কারখানা তৈরিতে আগ্রহী হবে। বিষয়গুলো নিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বারের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সংলাপের পরিকল্পনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ