রংপুরের তারাগঞ্জে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহৎ জুতার কারখানা

রংপুরের তারাগঞ্জে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহৎ জুতার কারখানা
তারাগঞ্জে জুতার কারখানা

এফএনএস: রংপুরের তারাগঞ্জে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহৎ অত্যাধুনিক জুতার কারখানা। কারখানাটি এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও আত্বকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে মনে করেন। উত্তরাঞ্জলের অবহেলিত মানুষগুলোর অর্থনীতিক অবস্থার পরিবর্তন আসবে।এতে ঘুরে যাবে এই অঞ্চলের মানুষের অর্থনীতির চাকা।

জীবিকা নির্বাহের জন্য উত্তরাঞ্চলের মানুষের সবার মাথায় আসে একটি চিন্তা বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হবে ঢাকায়।তারা নিজেদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য প্রায়ই ঢাকা, চট্টগ্রামে কিংবা দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য পরিবার পরিজন ছেড়ে দিনরাত পরিশ্রম করে চলছে। কারণ তাদের এলাকায় বলার মত কোন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি যাতে কাজ করে পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুনবে। আবার কিছুকিছু লোক চিন্তা করে কিভাবে নিজের এলাকার লোকের কর্মসংস্থান করা যায়, এই লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সেলিম-হাসানুজ্জামান নামে দুই ভাই।

দু-ভাই মিলে তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে মহাসড়কের পাশে বেলতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পিছনে ঘনিরামপুর গ্রামে সাড়ে আট একর জমির ওপরে গড়ে তুলেছেন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে একটি অত্যাধুনিক জুতার কারখানা। ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে ওই কারাখানাটি গড়ে তুলেছেন তারা। তাদের গ্রামের বাড়ী তারাগঞ্জ উপজেলার পার্শবর্তী নীলফামারী সদর উপজেলার বাবুপাড়ায়। ছোট ভাই হাসানুজ্জামান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আর বড় ভাই সেলিম ব্যবস্থাপনা পরিচালক। দুজনই একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে থাকতেন।

বড় ভাই সেলিম বেশ কিছুদিন আগে দেশে ফিরে ব্যবসা করছেন। হাসানুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন খাতের ব্যবসায়ী। রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক এ প্রকল্পে ৭৫ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে। পুরোদমে উৎপাদনে গেলে দুই হাজারে বেশি লোকের কর্মসংস্থান হবে এ কারখানায়। যাঁদের ৯০ শতাংশই হবেন নারী।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানার মূল ভবনসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তাইওয়ান থেকে আনা হয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, যা দিয়ে পরীক্ষামূলক জুতা উৎপাদনের কাজ শুরু করেছেন দেড় শতাধিক শ্রমিক। আরও দুই শতাধিক শ্রমিককে দক্ষ করতে দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ।

ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তারা জানান, চামড়াজাত সিনথেটিক জুতা এবং অন্যান্য পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হবে। এখানে সিনথেটিক জুতা, চামড়াজাত জুতা, বেল্ট ও ওয়ালেট তৈরি হবে। কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২২ হাজার জোড়া জুতা। এসব জুতা রপ্তানি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে।

প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘আশা করছি, ফেব্রুয়ারি থেকে পুরোদমে উৎপাদন শুরু হবে। ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তাদের প্রতিনিধিরা কারখানা ঘুরে গেছেন। তিনি আরো জানান মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরেও জুতার একটি বড় বাজার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।