রংপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ ॥ একজনের আত্মহত্যা

রংপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ ॥ একজনের আত্মহত্যা
রংপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ ॥ একজনের আত্মহত্যা

নজুরুল মৃধা রংপুর। প্রেমিক ও তিন বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠির দুই স্কুল ছাত্রীকে । এর মধ্যে লজ্জা এবং ক্ষোভে একজন আত্মহত্যা করেছে। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোর্দ্দ নুরপুর গ্রামের আদিবাসি পল্লীতে এই ঘটনাটি ঘটেছে ।

রংপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ ॥ একজনের আত্মহত্যা
রংপুরের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দুই বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ ॥ একজনের আত্মহত্যা

গত শুক্রবার এ ঘটনা ঘটলেও ৫ দিন পর মঙ্গলবার রাতে কথিত প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামী করে ধর্ষণ এবং আতœহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। রংপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। পুলিশ একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। এজাহারে বর্ণিত কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বলেছেন আসামীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এর মধ্যে একটি টিম ঢাকায় অবস্থান করছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ নুরপুর গ্রামের ওই আদিবাসি পল্লীর জীতেন টপ্য’র একমাত্র মেয়ে স্বপ্না টপ্য স্থানীয় ইমাদপুর পশ্চিমপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। গত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিল। গত মঙ্গলবার তাকে এবং তার এক বান্ধবিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।

মেয়েটির সহপাঠি ও প্রতিবেশি ছাত্রী ও মামলা সূত্র জানায়, রংপুর শহরের মাহিগঞ্জ এলাকার ঢোলভাঙা গ্রামের বুধুয়া মিনজির ছেলে রতন মিনজির সাথে স্বপ্নার প্রেমের সর্ম্পক ছিল। ১৮ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) মোবাইল ফোনে দেখা করতে ডাকে রতন। ওই দিন বিকেলে চাচাতো বোনকে সাথে নিয়ে আতœীয়ের বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বিকেলে বাড়ি থেকে বের হয় স্বপ্না।

এরপর সরাসরি প্রেমিকের সাথে দেখা করতে শহরের ঢোলভাঙা গ্রামে যায় সে। সেখানে রতন ও তার তিন বন্ধু মিলে রাতভর একটি নির্জনস্থানে নিয়ে স্বপ্না এবং চাচাতো বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এর পর অজ্ঞাত আরেক স্থানে নিয়ে গিয়ে তাদের দুজনকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় স্বপ্না ও তার বোন বাড়ি ফিরে। তখন তারা অসুস্থ্য থাকলেও ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। এরপর লজ্জা এবং ক্ষোভে ওই দিন বিকেল ৫টায় স্বপ্না টপ্য শয়ন ঘরে তীরের সাথে ফাঁস লাগিয়ে আতœহত্যা করে।

প্রতিবেশি ছোটবোন ৮ম শ্রেণির ছাত্রী লিমা টপ্য, ১০ শ্রেণির ছাত্রী কল্পনা মিনজি ও চামেলী টপ্য জানায়, অনেক দিন ধরে রতন মোবাইল ফোনে স্বপ্না দিদিকে বিরক্ত করত। প্রেমের প্রস্তাব দিত। কিন্তু দিদি তাতে রাজি হয়নি। পরে নানা কৌশলে প্রেমের ফাঁদে পড়ে যায়। এরপর থেকে তারা মোবাইলে এসএমএসে নিয়মিত কথা বলত। কিন্তু এভাবে যে দিদিকে হারাবো, তা কখনও ভাবিনি।’ তারা আরও জানায়, রতন আমদের দিদিকে ডেকে নিয়ে খারাপ কাজ করেছে। তার সাথে যে বোনটি ছিল তাকেও লম্পটেরা নষ্ট করেছে। লজ্জায় স্বপ্না দিদি আতœহত্যা করেছে। আমারা রতনের ফাঁসি চাই।

মা সীতা কুজু বলেন, বুকের ধন এটেকোনা শুয়ে আছে। যারা মোর বুকের ধন কোনাক নষ্ট করি ফেলাইলো, তামার ঘরে বিচার চাঁও।

বাবা জীতেন টপ্য বলেন, ধর্ষক পক্ষ হুমকী দিচ্ছে-স্বপ্না তো আতœহত্যা করেছে, এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলে ধর্ষণ হওয়া অন্যজনকে মেরে ফেলা হবে।’ এই ভয়ে কেউ মুখ খোলেনি। ধর্ষণের মামলাও করেনি। তবে, গণমাধ্যম কর্মীরা সেখানে গেলে অনেকেই এ ব্যাপারে কথা বলেন এবং দায়িদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
ঘটনার ৫দিন পর স্বপ্নার বোন পরিতা টপ্য বাদি হয়ে কথিত প্রেমিক রতনসহ ৩ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, এবিষয়ে মামলা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশাকরি অপরাধিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, মেয়ে দুটিকে দুই স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনায় ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্রচারণার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। আসামীদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আসামীদের ধরতে পুলিশের একটি টিম ঢাকায় রয়েছে বলে তিনি জানান।