রংপরে বর্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ছাতার কারিগররা

ছাতার কারিগর

রবিউল ইসলাম দুখুঃ বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়াতে রংপুরে ছাতার কারিগররা ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা ছাতা। এ মৌসুমে ঘরের বাইরে বের হলেই ছাতা ছাড়া চলে না। সাধারণ, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের রোদবৃষ্টিতে ছাতার ওপর নির্ভর করতে হয়।

ফাল্গুন-চৈত্র মাসের কড়া রৌদ্র ও আষাঢ়-শ্রাবণ মাসের অবিরাম বর্ষায় মানুষ ছাতা ব্যবহার করে  মানুষ। এ মৌসুমে শহর কিংবা গ্রাম সবখানের মানুষের জীবন-জীবিকার টানে বাইরে গেলেই ছাতার কদর বেড়ে যায়। তাই  রংপুর নগরীর ছাতার কারিগররা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নগরীর স্টেশন এলাকা, কাচারি বাজার, সিও বাজার, লালবাগ, সাতমাথা, তাজহাটসহ আরো কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায় ছাতার কারিগরদের ব্যস্ততা। এছাড়াও তারা নগরীর পাড়া মহল্লা ঘুরে ঘুরে ছাতা ও কাজ করে থাকেন। ছাতার কারিগর বাবুপাড়ার আব্দুল হাই জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে আমি এ পেশায় জড়িত।

বছরের ছয় মাস এ পেশায় থাকি বাকি ছয় মাস অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করি। সাধারণত ফাল্গুন মাস থেকে আষাঢ় পর্যন্ত আমাদের ছাতা তৈরি, মেরামতের কাজ চলে। প্রতিদিন ছাতা তৈরি ও মেরামত করে ৩-৪শ’ টাকা আয় হয়।  কোন কোন দিন কমও আয় হয়ে থাকে। তবে আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়াতে আমাদের কাজের চাপ বেড়েছে।

একটা নতুন ছাতা তৈরি করে তা বিক্রি করি ২শ’ থেকে ২শ’ পঞ্চাশ টাকা। তাছাড়া ছাতা মেরামত বাবদ বিভিন্ন রকম আয় হয়। আমার ৫ সদস্যদের পরিবার। অল্প আয়ে সংসার চলে না। তাই যা আয় হয় তা দিয়ে কোনোমতো সংসার চলে। অপর ছাতা কারিগর বাকের মিয়া বলেন, আমি এ পেশায় ১৫-১৬ বছর আছি। অন্যান্য বছর এ সময়ে আয় বেশি হতো। আসন্ন বর্ষার শুরুতে আয় কিছুটা বেড়েছে। এখন প্রতিদিন ৪-৫শ’ টাকা আয় হয়।

বছরের ছয় মাস আমি এ পেশায় থাকি বাকি ছয় মাস অন্য কাজ করে সংসার চালায়। ছাতা ক্রেতা স্কুল শিক্ষক ফারুক আহমেদ জানান, রোদ-বৃষ্টিতে ছাতা ছাড়া চলে না। আসন্ন বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়াতে ঘরে পড়ে থাকা ছাতাটি মেরামত করতে এসেছি। এবার প্রতিদিনই প্রায় বর্ষা হচ্ছে। তাই ছাতা সব সময় সঙ্গে রাখতে হচ্ছে।  স্টেশন বাজারে ছাতা কিনতে আসা গৃহিণী হাসিয়ারা খাতুন হাসি জানান, একটি ছাতা এক বছরও যাচ্ছে না। তাই বর্ষা শুরু হওয়াতে নতুন ছাতা কিনতে এসেছি। পাশাপাশি পুরান ছাতাটিও মেরামত করবো।

আপনার মতামত লিখুনঃ