মৃত্যুর ৫ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

মৃত্যুর ৫ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন
মৃত্যু জিকরুল হক

আদনান হুসাইন,বদরগঞ্জ(রংপুর)সংবাদদাতা:
রংপুরের বদরগঞ্জে মৃত্যুর পাঁচ মাস আট দিন পর জিকরুল হক (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ কবর থেকে তোলা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা জান্নাতুল বেগম বাদী হয়ে লাশের ময়না তদন্ত চেয়ে রংপুর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আজ সোমবার(১৩ জানুয়ারি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ডুকডুকিরহাট এলাকায় পারিবারিক কবরস্থান থেকে নিহতের লাশ উত্তোলন করা হয়।

ময়না তদন্তের জন্য লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে বদরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা ও স্বজনদের সুত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট নিজ জমিতে সেচ দিতে যাওয়ার সময় পল্লী বিদ্যুতের ছেড়া তারে স্পৃষ্ট হয়ে উচ্চ শিক্ষিত যুবক জিকরুল হক মারা যায়।

তার পরিবারের অভিযোগ ছিল পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার গোলাম মর্তুজা পরিকল্পিতভাবে অবৈধ সংযোগ নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের তার মাটিতে ফেলে ফাঁদ পাতে। এসময় ছেড়া বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন জিকরুল হক।

এ ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করা হয়। পরের দিন তারা বদরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দিতে যান। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি।

পরে জিকরুলের মা বাদী হয়ে গত বছরের ১৩ নভেম্বর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। পরে আদালত সংশ্লিষ্ট বদরগঞ্জ থানায় মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দিলে ২০ নভেম্বর বদরগঞ্জ থানায় মামলা হয়।

মামলার আসামীরা হলেন, গোলাম মর্তুজা, বাবু মিয়া, মজিবর রহমান, কামরুল ইসলাম, নুরুন্নবী মহব্বত, আজিজুল হক ওরফে কালটা ও মফিজুুল ইসলাম।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কবর থেকে লাশ উত্তোলনের সময় শত শত উৎসুক এলাকাবাসী সেখানে জড়ো হন। স্থানীয় প্রশাসনসহ পরিবারের লোকজনও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ছেলে হারিয়ে আর্তনাদ করে বাবা জিকরুল হক ও মা জান্নাতুল বেগম। তাদের অভিযোগ, ‘ষড়যন্ত্র করে তাদের সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।’

এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়সহ লাশ উত্তোলন করতে আজ সোমবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহাত বিন কুতুব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

এসময় নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর উপস্থিত জনতার উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল করেন তিনি। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করতে সেখানে এলাকার শতশত মানুষ উপস্থিত হন।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ রংপুর মর্গে পাঠানো হয়।

আরো পড়ুন:

আপনার মতামত লিখুনঃ