মুসলমানরা সাহায্য চাইবে একমাত্র আল্লাহর কাছে, কোন পরাশক্তির কাছে নয়

মুসলমানরা সাহায্য চাইবে একমাত্র আল্লাহর কাছে, কোন পরাশক্তির কাছে নয়

উহুদ যুদ্ধে সাহাবীগণ (রা.) ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, যা আমরা সকলেই জানি। এ যুদ্ধ সমাপ্তির পর কুরাইশ সর্দার আবু সুফিয়ান অতি উচ্চকন্ঠে বলতে লাগলো- ‘তোমাদের মধ্যে মোহাম্মদ আছে কি?’ এ কথা শোনার পর হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) তাঁর সঙ্গীদের কোন জবাব না দেয়ার জন্য বললেন।

এর পর আবু সুফিয়ান জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমাদের মধ্যে ইব্নে আবি কুহাফা (হযরত আবু বকর) আছে কি?’ রাসুলুল¬াহ (সা.) বললেন, ‘তাঁর কথার প্রতিউত্তর দিও না।’ এর পরে আবু সুফিয়ান পুনরায় প্রশ্ন করলো, ‘তোমাদের মধ্যে উমর ইব্নে খাত্তাব আছে কি?’ এর পর নিজে নিজেই শুরু করলো, ‘এরা সকলেই নিহত হয়েছে।

জীবিত থাকলে অবশ্যই প্রতিউত্তর দিত।’ আবু সুফিয়ানের এমন কথা শুনে উমর (রা.) আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে বললেন, ‘হে আল¬াহ্র দুশমন, তুই মিথ্যে কথা বলছিস্। আল¬াহ্তায়ালা তাঁদেরকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন, যারা তোকে চরমভাবে শাস্তি দেবেন।’ এ কথা শোনার পর আবু সুফিয়ান হোবলের জয়ধ্বনি দিতে লাগলো- ‘জয় হোবল! জয় হোবল!!’ -এর পর আল¬াহ্র নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বললেন, ‘উমর জবাব দাও।’ সাহাবীগণ বললেন, ‘আমরা কি বলবো?’ তিনি বললেন, ‘বলো, ‘আল¬াহ্ সর্বোচ্চ এবং মহান।’ -(ছহীহ্ বুখারী: ৪০৪৩)।

আজ পৃথিবীর বাতিলপন্থী ইহুদী-খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে বড় বড় হুঙ্কার আসছে, আঘাত আসছে এবং অন্যায়ভাবে মুসলিম দেশগুলোর ওপর তারা মিথ্যা ও বানানো অজুহাত তুলে একেকটি মুসলমান অধ্যুষিত দেশ আক্রমণ করে ম্যাসাকার করে দিয়ে বিশ্ব দরবারে মুচকি হাসছে এবং তাদেরকে মৌণ সমর্থন জানাচ্ছে সৌাদ আরবসহ কিছু মুসলিম দেশ।

মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরাকের ওপর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়া হলো সে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ঐতিহাসিক নিদর্শন। এ আক্রমণে হাজার হাজার আদম সন্তানকে সম্পূর্ণ বিনাদোষে ও বিনা অপরাধে হত্যা করা হলো এবং আহত হলো অগণিত ইরানবাসী। কিন্তু বড়ই দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, বিশ্বের কোনো একটি মুসলিম দেশ ও ঈঙ্গ-মার্কিনীদের ওই জঘন্যতম অপকর্মের প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি, প্রতিরোধতো দূরের কথা। সালিশী প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ নেয়নি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

বিশ্বের বুকে ইসরায়েল একটি অতি ছোট্ট রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রটি সম্পূর্ণভাবে মার্কিনীদের প্রত্যক্ষ- পরোক্ষ, সাহায্য ও সহযোগীতা নিয়ে প্যালেস্টাইনীদের ওপর একের পর এক জঘন্যতম আঘাত হেনে যাচ্ছে। তারা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে প্যালেস্টাইনে বসবাসকারী মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় কোনো মুসলিম দেশ ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেনি বা একটু গ্রহণযোগ্য কোনো প্রতিবাদও জানাচ্ছে না। এখানে জাতিসংঘ নির্বাক।

মার্কিনীদের কাজই হলো প্রতিটি দেশের সঙ্গে বৈরীভাব সৃষ্টি করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে অস্ত্র বিক্রিী করা। তারা প্রতিটি দেশে শত্রুতার বীজ বপণ করে রাখে এবং তা আস্তে আস্তে পুর্ণতা লাভ করে। বিরাট এক মহীরূপে পরিণত হয়। সৌদি আরবের পাশের দেশগুলোর সাথে শত্রুতার বীজ বপণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই সব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বৈরীভাব আছে বলেই তারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রী করতে সক্ষম হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো- সৌদি আরবসহ মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো কাদের সাথে যুদ্ধ করছে এবং ধ্বংস হচ্ছে কারা? মুসলিমরা মুসলিম মারছে! হায়রে! কবে তাদের বোধোদয় হবে!!

আমার লেখার শুরুতে একটি হাদীস বর্ণনা করেছি। ওই হাদীসটি বর্ণনা করার পেছনে আমার একটি উদ্দেশ্য আছে এবং তা হলো ওই হাদীস থেকে মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যত ক্ষমতাধর বা শক্তিধর রাষ্ট্রই হোক না কেন তাদের অন্যায়-অত্যাচার এবং অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কাউকে না কাউকে প্রতিবাদ করতে হবে। যেমন, হযরত উমর (রা.) করেছিলেন।

হযরত ওমর (রা.) আবু সুফিয়ানের জবাব দিয়েছিলেন অতি কঠিন ভাষায়। আজ মুসলমানদের ভয় কিসের? অভাব কিসের? আমার মনে হচ্ছে মুসলমানদের অভাব হচ্ছে ঈমানের এবং আল¬াহ্ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর প্রতি বিশ্বাসের অভাব….। এ প্রসঙ্গে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) তাঁর মৃত্যুকালে উম্মতের উদ্দেশ্যে বলেছেন- তা প্রতিটি উম্মতের মেনে চলা একান্তভাবে উচিত ও কর্তৃব্য।

তিনি বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি বস্তু রেখে গেলাম, তোমরা যতদিন এ দু’টি বস্তুকে দৃঢ়তার সাথে অবলম্বন করে চলবে ততদিন তোমরা বিভ্রান্ত হবে না। এ বস্তুর একটি হলো- আল¬াহ্র কিতাব আল্ কোরআন, অপরটি হলো আমার সুন্নাত।’ ওপরের হাদীসের মর্মার্থ হলো, ‘কোরআন্ এবং হাদীসই মুসলমানদের একমাত্র অবলম্বন এবং চলার পথে পাথেয়।’

আজ মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে মহান সৃষ্টিকর্তা যে অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন, যদি তারা তাঁর ঈমানের সাথে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারতো তবে ইহুদী ও নাসারারা মুসলমানদের পায়ের তলায় এসে গড়াগড়ি করতো। মক্কা নগরী দুনিয়ার মানুষের কাছে মহাপবিত্র স্থান এবং এ নগরীতেই জন্মগ্রহণ করেছেন বিশ্ব জাহানের মুক্তির দূত বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)।

তাঁর মৃত্যুর আগে তিনি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে গিয়েছেন। তিনি বিশ্বে সাম্যের বাণী প্রচার করে একটি আধুনিকতম রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর তিরোধানের পর খেলাফয়ে রাশিদীন বিশ্ব ইতিহাসে স্বর্ণের যুগ। দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমরের শাসনামলে পৃথিবীর অর্ধেক তিনি শাসন করেছেন। খলিফা উমর (রা.) সম্পর্কে আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের দু’টি লাইন উলে¬খ করছি- ‘অর্ধ পৃথিবী করেছে শাসন ধূলায় তখতে বসি/খেজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি/তুমি পরনিকো নুয়ে….।’

বর্তমানে সৌদি আরব যারা শাসন করছে তারা কতটুকু ইসলামিক প্রেমিক এবং কতটুকু র্কোআন-সুন্নাহ্ অনুযায়ী দেশ চালাচ্ছে তা খতিয়ে দেখার বিষয়। যারা আজকে সৌদি রাজপরিবার, তারা বিলাসিতায় আর আধুনিকতায় এত ব্যস্ত, যা আল¬াহ্ ও নবী (সা.) এর নির্দেশিত পথ নয়। তারা নবী (সা.) আদর্শ হতে যে কত শত শত মাইল দূরে অবস্থান করছে তা একমাত্র রাব্বুল আল্-আমিনই ভাল জানেন।

তাদের সাথে পাশের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর সাথে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। সৌদি আরব বা অন্য অমুসলিম অধুষ্যিত দেশগুলো অন্য মুসলিম অধুষ্যিত দেশে সামরিকভাবে আক্রমণ করে নিরীহভাবে আক্রমণ করে নিরীহ ও নিরপরাধ আদম সন্তানদের নির্বিচারে হত্যা করছে। অথচ বিশ্বের কোনো একটি দেশ তাদের এই সীমাহীন অপরাধের প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করছে না।

পবিত্র র্কোআন এর সূরা মায়িদা’র ৩২ নং আয়াতে মহান আল¬াহ্পাক বলেন, ‘এ কারণেই আমি বণী ইসরায়েলের প্রতি এক বিধান দিলাম যে, নরহত্যার বিনিময়ে অথবা দুনিয়ার ধ্বংসাত্মক কাজ করার অপরাধ ব্যতীত কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকে হত্যা করলো।

আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করলো।’ এ সম্পর্কে আল¬াহ্তায়ালা আরও বলেন, -‘এবং তারা আল¬াহ্র সাথে কোন ইলাহ্কে ডাকে না। আল¬াহ্ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে কাউকে হত্যা করো না এবং ব্যভিচার করো না। আর যারা এগুলো করবে তারা মহাপাপী। কেয়ামতের দিনে তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে। তবে তারা নয়; যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে।’ -(সূরা: আল্-ফুরকানঃ আয়াত নং ৬৮)।

মহানবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) ধ্বংসাত্মক বস্তু হতে দূরে থাকতে নিষেধ করেছেন। সেগুলো হলো- ‘যে প্রাণ হত্যা করা আল¬াহ্ হারাম করেছেন তা হত্যা করো না; তবে হক প্রতিষ্ঠায় হত্যার বদলে হত্যা হলে হত্যার বদলায় হত্যা হলে স্বতন্ত্র কথা।’ -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ী)। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যদি দু’জন মুসলমান তলোয়ার দ্বারা একে অন্যের মোকাবেলা করে তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামে যাবে।’

সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, ‘ইয়া রাসুলুল¬াহ (সা.)! হত্যাকারীর কথা তো বুঝলাম সে জাহান্নামে যাবে; কিন্তু নিহত ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে কেন?’ তিনি বললেন, ‘কেননা সে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করতে চেয়েছিল।’ -(বুখারী ও মুসলিম)। এ সম্পর্কে হযরত মোহাম্মদ (সা.) আরও বলেন, ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মানুষ হত্যার বিচার করা হবে।’

অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল¬াহ্ (সা.) বলেছেন, ‘একজন ঈমানদার ব্যক্তিকে হত্যা করা আল¬াহ্র কাছে পৃথিবী ধ্বংস করার চাইতেও মারাত্মক অপরাধ।’ -( নাসায়ী, বায়হাকি ও তিরমিযি)। নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হলে সে অপরাধের একটি অংশ হযরত আদম (আ.) এর প্রথম পুত্রের আমল নামায় লেখা হবে, কেননা সে সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন করেছে।’ -(বুখারী ও মুসলিম)। কোন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে যে হত্যা করবে সে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবে না।

অথবা জান্নাতের সুঘ্রাণ চলি¬শ বছরের পথের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে না।’-(বুখারী)। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সর্বপ্রকার গুনাহ্গারকে আল¬াহ্তায়ালা ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু যে ব্যক্তি কাফের হয়ে মারা গেল, কিংবা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মমিন বান্দাকে হত্যা করলো তাকে নয়।’

সৌদি আরবসহ কিছু মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, তারা চরমভাবে মহান আল¬াহ্র সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে। আজ তারা তাদের রাজতন্ত্র বা রাজত্ব রক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ বন্ধু¡র আসনে বসিয়েছে। তারা মনে করছে, তাদেরকে রক্ষা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মতোন দেশগুলো! মুসলিমরা তো একমাত্র আল¬াহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় পাবে না বা কোন পরাশক্তির কাছে নিজেদের ধর্ম-কর্ম বিসর্জন দিয়ে সাহায্যের জন্য বসে থাকবে না বা চুক্তিবদ্ধও হবে না।

এ সম্পর্কে সূরা মোহাম্মদের ৭ নং আয়াত প্রযোজ্য, আল¬াহ্পাক বলেন, ‘হে মুমিনগণ তোমরা যদি আল¬াহ্তায়ালার সাহায্য কামনা কর; তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা’কে অবিচল রাখবেন। আর যারা কুফর অবলম্বন করছে, তাদের জন্য আছে ধ্বংস। আল¬াহ্ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিয়েছেন। তা এ জন্য যে, তারা আল¬াহ্ যা নাযিল করেছেন, তা পছন্দ করেছিল। অতএব, আল¬াহ্ তাদের কর্ম নিস্ফল করে দিয়েছেন।’

সূরা মায়িদার ৫১ নং আয়াতে মহান রাব্বুল আল্ আমিন বলেন, ‘হে মুমিনগণ তোমরা ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের সাথে কখনো বন্ধুত্ব করো না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করলে সে তাদেরই একজন হবে, আমি সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করি না।’

এ সম্পর্কে সহীহ্ বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল¬াহ্ ইব্নে সালাম (রা.) রাসুলুল¬াহ্ (সা.)-কে বলেন, হে আল¬াহ্র রাসূল ইহুদীরা অপবাদ এবং কুৎসা রটনাকারী সম্প্রদায়। আপনি তাদেরকে আমার সমন্ধে জিজ্ঞেস করার পূর্বে যদি তারা আমার ইসলাম গ্রহণ করার বিষয়ে জেনে ফেলে তাহলে তারা আপনার কাছে আমার কুৎসা রটনা করবে।’

এর পর ইহুদীরা এলে এবং আব্দুল¬্ াইব্নে সালাম (রা.) ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের মধ্যে আব্দুল¬াহ্ ইব্নে সালাম কেমন লোক?’ তারা বললো, ‘তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট এবং সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তির পুত্র, তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার পুত্র।’

হযরত মোহাম্মদ (সা.) বললেন, ‘আচ্ছা যদি আব্দুল¬াহ্ ইব্নে সালাম ইসলাম গ্রহণ করে নেয়; তাহলে;তোমাদের অভিমত কি হবে?’ তারা বললো, ‘এর থেকে আল¬াহ্ তাকে রক্ষা করুন।’ তখন আব্দুল¬াহ্ (রা.) তাদের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং তিনি বললেন, ‘আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল¬াহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মোহাম্মদ (সা.) আল¬াহ্র রাসূল।’ তখন তারা বললো, -‘সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক এবং সর্বোনিকৃষ্ট লোকের পুত্র।’

তারা তার দোষচর্চা এবং কুৎসা রটনায় লেগে গেল। তখন আব্দুল¬াহ ইব্নে সালাম (রা.) বললেন, ‘আমি এটারই আশঙ্কা করেছিলাম, হে আল¬াহ্র রাসূল!’
এ প্রসঙ্গে পবিত্র র্কোআনের সূরা মমিন এর ৪ ও ৫ নং আয়াত প্রযোজ্য, ‘আল¬াহ্র আয়াতে শুধু তারাই বিতর্ক সৃষ্টি করে যারা কুফর অবলম্বন করেছে। অতএব নগরে নগরে আয়িশী পরিভ্রমণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। তাদের পূর্বে নুহের সম্প্রদায় এবং তাদের ওপর বহু দল অস্বীকার করেছিল।

প্রত্রেক জাতি নিজ নিজ রাসূলকে গ্রেফতার করার অভিসন্ধি করেছিল এবং তারা মিথ্যাকে আশ্রয় করে বিতর্কে প্তি হয়েছেল, তার মাধ্যমে সত্যকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। পরিণামে আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব আমার শাস্তি কেমন (কঠোর) ছিল।’

মহান সৃষ্টিকর্তা তার নির্ধারিত দিন সম্পর্কে পবিত্র র্কোআনের সূরা বাকারা এর ১৩৫ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘-এবং তারা বলে, তোমরা ইহুদী বা খ্রিষ্টান হয়ে যায়; তবে সঠিক পথ পেয়ে যাবে। বলে দাও, বরং আমার তেকা মিল¬াতে ইব্রাহীম মেনে চলবো; যিনি যথাযথ সরল পথের ওপর ছিলেন। তিনি সে সব লোকের অর্ন্তভূক্ত ছিলেন না, যারা আল¬াহ্র সঙ্গে শরীক করতো।’

এ সম্পর্কে পবিত্র র্কোআনের সূরা হজ্জ্ব এর ৭৮ নং আয়াতে আল¬াহ্পাক বলেন, ‘-এবং তোমরা আল¬াহ্র পথে জিহাদ করো, যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন। তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সঙ্কীর্ণতা আরোপ করেননি। নিজের পিতা ইব্রাহীমের দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে আকঁড়ে ধরো। সে পূর্বেই তোমাদের নাম রেখেছে ‘মু স লি ম’ এবং কিতাবেও যাতে রাসূল তোমাদের জন্য স্বাক্ষী হতে পারেন, আর তোমরা স্বাক্ষী হতে পারো অন্যান্য মানুষের জন্য।

পবিত্র ক্কাবা শরীফের প্রতি বিশ্বের প্রতিটি নর-নারীর অধিকার রয়েছে। বিশ্ব মুসলিমের মান-সমমান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রতিটি মুসলমানের অবশ্যই কর্তব্য ও দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্যে সৌদি রাজপরিবারকে প্রতিটি মুসলিমের পক্ষ হতে নোটিশ দিতে হবে যে, তোমরা যদি আল¬াহ্ এবং তার রাসূলের পথে ফিরে না আসো, তবে তোমাদেরকে শাস্তি পেতে হবে।

ঐ পবিত্র ভূমিতে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যকলাপ কোনো মুসলমান বরদাস্ত করবে না, করতে পারে না এবং তাদেরকে হুুশিয়ারী করে দেওয়ার দায়িত্ব প্রত্যেকটি মুসলমানের। আমরা জানি, নবী আর আসবেন না, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) সর্বশেষ নবী। এ কথা পবিত্র র্কোআনপাকে আল¬াহ্ পাক ইরশাদ করেছেন। ইসলাম ধর্মই শেষ এবং আল¬াহ প্রেরিত ধর্ম এবং নবী যখন আর আসবেন না তাই পবিত্র র্কোআন ও হাদীসের বাণীগুলো প্রতিটি মুসলমানের দ্বারাই প্রচারিত হতে থাকবে। তাই আসুন, ইসলামবিরোধী ও মানবতাবিরোধী সকল কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিটি মুসলমান নর-নারী রুখে দাঁড়ায়।

এ সম্পর্কে রাব্বুল আল্আমিন সূরা আন্আম এর ১০৪ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা ন্যায়ের আদেশ দেবে, আর অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে; এরাই হচ্ছে সাফল্যমন্ডিত।’ এ সম্পর্কে একই সূরার ১১০ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির জন্যই তোমাদের বের করে আনা হয়েছে, তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখবে; আর তোমরা নিজেরাও আল¬াহ্র ওপর ঈমান আনবে, তাহলে কিতাবধারীরা যদি ঈমান আনতো তাহলে এটা তাদের জন্য কতই না ভালো হতো! ওদের মধ্যে কিছু বিশ্বাসী আছে কিন্তু বেশীরভাগই সত্যত্যাগী।’

আপনার মতামত লিখুনঃ