মানুষের আস্থা ফেরানোর দায় নির্বাচন কমিশনেরই

নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, সারা পৃথিবীর মানুষ এখন আস্থাহীনতায় ভুগছে আর বাংলাদেশে এই আস্থার সংকট আরও বেশি।

অতীতে বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অনিয়ম ও শক্তিশালী পক্ষের প্রভাব বিস্তারের খবরে নির্বাচন নিয়ে মানুষের আগ্রহ হারানোর বিষয়টি গত জাতীয় নির্বাচনে আমরা দেখেছি। সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলোততে বড় একটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি।

এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ নির্বাচন না হওয়াতে প্রার্থীরাও ভোটারদের কাছে যায়নি। একারণে ভোটারদের কাছে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ কম ছিল। বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে আনতে না পারা এবং মানুষকে ভোটকেন্দ্র উপস্থিত করতে না পারা নিঃসন্দেহে ইসির ব্যর্থতা।

ভোটারদের আস্থার সংকট প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন সারা পৃথিবীর মানুষ আস্থাহীনতায় ভুগছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে এগিয়ে। মানুষের প্রতি মানুষের আস্থা নেই। পিতা সন্তানকে বিশ্বাস করে না। সন্তান পিতার প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। এই আস্থাহীনতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

তাঁর এই কথার সঙ্গে আমরা সহমত পোষণ করি। কিন্তু কথাটি সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিশ^াসের সঙ্গে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পিতা সন্তানের ওপর বা সন্তান পিতাকে বিশ^াস করবে কিনা সেটা নির্ভর করে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর। এধরণের ঘটনা খুব কমই ঘটে। বাস্তবিকক্ষেত্রে পিতামাতাই সন্তানের সবচেয়ে নির্ভরতার স্থান।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থার বিষয়টি সম্পর্কের ভিত্তিতে নয়, এটি নির্ভর করে তারা মানুষকে কিরকম সেবা দিতে পারছে তার ওপরে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষ তখনই আস্থা রাখতে পারবে যখন তারা নিরপেক্ষ এবং সুশৃঙ্খলভাবে তাদের কর্ম সম্পাদন করতে পারবে।

ভোটপ্রদানে মানুষের কেন আগ্রহ কমছে, তা গবেষণা করে নির্বাচন কমিশন বের করুক। দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিক। সামনে রংপুরে একটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি নির্বাচন কমিশন এমন ব্যবস্থা নেবে যাতে রংপুর নিয়ে কারো কোন কথা বলার সুযোগ না থাকে।

আমরা আশা রাখি, ভোটকেন্দ্র থেকে কোনো এজেন্টকে বের করে দেওয়া কিংবা কোনো ভোটারকে কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ জড়িতদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের যে আস্থার সংকট বলে একজন কমিশনার স্বীকার করেছেন, অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি আস্থা ফিরে পাবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুনঃ