মাটি ভরাটের নামে ৪০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ

মিঠাপুকুরে ক্লাশ বর্জন করে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
মিঠাপুকুরে ক্লাশ বর্জন করে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

(রংপুর) প্রতিনিধি
মাঠে বালু ভরাট করে খেলা-ধুলার পরিবেশ ব্যাহত এবং টাকা আতœসাতের প্রতিবাদে রংপুরের মিঠাপুকুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার উপজেলার রাণীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করে মানববন্ধনে অংশ নেয়।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলেজ মাঠে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঁচ শতাধীক শিক্ষার্থীর সাথে এলাকাবাসীও মানব বন্ধনে শামিল হন। এ সময় তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে বালু ভরাট করে খেলা-ধুলার পরিবেশ ব্যাহত করার জন্য দায়ি ব্যক্তিদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন। তারা বলেন, একটি কুচক্রী মহল নিজ স্বার্থ সিদ্ধির জন্য অপরিকল্পিতভাবে স্কুল এন্ড কলেজের একাডেমিক ভবনের পাশে পুকুর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে মাঠ ভরাট করেন।

এ কারণে একাডেমিক ভবনটি যেমন ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তেমননিভাবে খেলার মাঠ ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ এবং গর্ভণিং বডির সভাপতি কোনভাবেই দায় এড়াতে পারেননা। এর আগে মাঠে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মানববন্ধন কর্মসূচী চলাকালে শিক্ষার্থী খোকন মিয়া, নুরুজ্জামান, সাব্বির ইসলাম, মোনালিসা ও আখিঁ বলেন, প্রায় এক বছর ধরে মাঠে বালু ভরাট করে রাখা হয়েছে। আমরা ঠিকমত মাঠ দিয়ে চলাফেরা করতে পারিনা। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সভাপতি’র গাফিলতিতে দির্ঘদিন ধরে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, রাণীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের উন্নয়নের নামে মাঠে বালু ভরাটের মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। অনেক আগেই বরাদ্দ উত্তোলন করলেও কাজের কাজ কিছুই করেনি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রকল্পের সাধারন সম্পাদক ও অভিভাবক সদস্য মহুবুল আলমের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সটকে পড়েন। রাণীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহেল কাফী বলেন, মাঠে মাটি ভরাটের জন্য বরাদ্দের ৪০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করে কাজ করা হচ্ছে। স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঙ্গা’র তদারকিতে কাজগুলো হয়েছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রানীপুকুর স্কুল এন্ড কলেজ গর্ভণিং বডি’র সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, বালুর ওপর মাটি দিয়ে ঘাস লাগালে সমস্যা কেটে যাবে। খেলাধুলার পরিবেশও ফিরিয়ে আসবে। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।