মহাস্থান গড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেড়িয়ে আসছে ২৫০০ বছর আগের মৌর্য যুগের স্থাপত্য নিদর্শন

মহাস্থান গড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেড়িয়ে আসছে ২৫০০ বছর আগের মৌর্য যুগের স্থাপত্য নিদর্শন
মহাস্থান গড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে বেড়িয়ে আসছে ২৫০০ বছর আগের মৌর্য যুগের স্থাপত্য নিদর্শন

আরএইচ রপিক,বগুড়া ।।
নভেম্বর মাস থেকে আবারো শুরু হওয়া আদি পুন্ড্র নগরী মহাস্থান গড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ শুরু হয়েছে বেশ জোরে সোরে। ঐতিহাসিক পুন্ড্র নগরী হিসাবে খ্যাত বগুড়ার মহাস্থানগড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক খোড়া খুড়িতে এবার বেরিয়ে এলো আনুমানিক আড়াই হাজার বছর আগের মৌর্য যুগের প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন।

খননে বেড়িয়ে আসা থেকে প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী দেখে সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন আদি পুন্ড্র নগরী মহাস্থানগড়ে প্রাচীন যুগেও ঐতিহ্য, সংস্কৃতিতে উৎস হিসাবে বেশ সমৃদ্ধশালী ছিল। প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন নগরী মহাস্থানগড়ে বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খননকালে এসব নিদর্শনের সন্ধান মিলেছে।

গত ৮ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া যৌথ খননে ফ্রান্সের পক্ষে দল নেতা ছিলেন কলিন লেফ্রাংক। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ফ্রান্সের এলবো ফ্রাংকোয়িস ও আতোয়ান। বাংলাদেশ দলের পক্ষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক ড, নাহিদ সুলতানার সঙ্গে ছিলেন প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান, শাহজাদপুর জাদুঘরের কস্টোডিয়ান মোহাম্মদ যায়েদ, মহাস্থান জাদুঘরের কস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা, সিনিয়র ড্রাফসম্যান আফজাল হোসেন, আলোকচিত্রী আবুল কালাম আজাদ ও সার্ভেয়ার মুর্শিদ কামাল ভূঁইয়া।

যৌথভাবে মহাস্থানগড় ঐতিহাসিক (ওয়ালহেরিটেজ) স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স সরকার দফায় দফায় খনন কাজ পরিচালনা করে আসছে । একই সাথে নিজস্ব অর্থায়নেও বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরও অব্যাহত ভাবে খনন পরিচালনা করে আসছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে খননের বিভিন্ন পর্যায়ে এখানে বেরিয়ে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ সব প্রত্ননিদর্শন। এবারও মহাস্থান গড়ের বৈরাগীর ভিটার ৫টি স্থানে শুরু হয় খনন কাজ। এরমধ্যে ফ্রান্সের দল ৩টি এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর দুটি স্থানে খনন কাজ পরিচালনা করে।

ইতি মধ্যই এলাকার বৈরাগীর ভিটায় ২০১৭ সালে খননের পর প্রায় এক হাজার ৩শত বছর আগে নির্মিত তিনটি বৌদ্ধ মন্দিরের নিদর্শন মিলেছে এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা । এবার শুরু থেকেই ওই খননস্থানের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে খনন করা হয়। খননকালে যেসব প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন মিলেছে তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে বৈরাগী ভিটার এই জায়গাটি কোন বাণিজ্যিক কেন্দ্র অথবা খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্র ছিলো।

কারণ হিসাবে উল্লেখ্য খননকালে পাশাপাশি এই ৫টি জায়গায় মোট ৮টি কূপের সন্ধান মিলেছে। সেই সঙ্গে পাওয়া গেছে অসংখ্য মৃৎ পাত্র, মৃৎ পাত্রের ভগ্নাংশ, মাটির বিশালাকায় একটি ডাবর (মটকা)। এতে খনন দলের সদস্যরা ধারণা করছেন- জায়গাটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। খননস্থলে প্রাপ্ত স্থাপত্য কাঠামো এবং উত্তরাঞ্চলীয় উজ্জ্বল চকচকে কালো মৃৎপাত্র (এনবিপিডাব্লিউ) দেখে খনন সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন এসব খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে অর্থাৎ মৌর্য আমলের। সেই হিসেবে খনন থেকে প্রাপ্ত ও উন্মোচিত প্রত্ন সামগ্রী প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন বলে ধারনা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ