ভয়াবহ সেশনজটের কবলে বেরোবির শিক্ষার্থীরা

ভয়াবহ সেশনজটের কবলে বেরোবির শিক্ষার্থীরা

ভয়াবহ সেশনজটের কবলে ক্যাম্পাস জীবন যেন শেষ হচ্ছে না বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীদের। মুক্তি মিলছেনা সেশনজটের যাতাকল থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতক শেষ করতে সময় লাগছে ৫ থেকে ৬ বছর এবং এক বছরের স্নাতকোত্তর শেষ করতে শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে প্রায় দুই বছর পর্যন্ত।

এ নিয়ম ও সময়কাল যেন উচ্চ শিক্ষা শেষ করার অঘোষিত শর্ত হয়ে দাড়িয়েছে বেরোবি শিক্ষার্থীদের। সময় দ্রুত চলে গেলেও সময়মত সেমিস্টার শেষ না হওয়াতে চাকরীর বাজারে হোচট খেতে হচ্ছে তাদের। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রায় নয় হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষা জীবন সময়মত শেষ করতে না পারায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম হতাশা আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অসহায়ত্বের চিত্র মাঝে মাঝে ভেসে আসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেশনজটে শীর্ষে থাকা বিভাগগুলো হলো- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত বিভাগ, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান, ইংরেজি, বাংলা, ইতিহাস ও প্রতœতত্ত্ব, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ। এক বছর থেকে আড়াই বছরের অধিক সময় সেশনজটে রয়েছে এসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তুলনামুলক কম সেশনজটে রয়েছে লোকপ্রশাসন বিভাগ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ। বেশিরভাগ বিভাগের ২০১৩-১৪ইং শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনও শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারিনি। পড়ে আছেন স্নাতকে পর্যায়েই।

কথা বললে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা জানান, সাড়ে তিন বছরেও দ্বিতীয় বর্ষ সম্পন্ন করতে পারিনি। বিভাগটির অন্যান্য ব্যাচের চিত্র প্রায় একই। রয়েছে আড়াই থেকে তিন বছরের সেশনজট।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা। অনেকে আছে টিউশন, আবার অনেকে ছুটির সময় দিনমজুরের কাজ করে পড়ালেখার খরচ চালায়। এমতাবস্থায় সেশনজট আমাদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাড়িয়েছে। স্নাতক শেষ করতে কোন বিভাগে সময় লাগছে এক থেকে দুই বছর আবার কোন কোন বিভাগে তিন বছরের মত। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে পিছিয়ে পড়ছি আমরা বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

এব্যাপারে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘মূলত শিক্ষক স্বল্পতা, ল্যাবরুম সংকট, ক্লাস রুম সংকট এসব কারনেই সেশনজটের প্রকোপ বাড়ছে। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান না করতে পারলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

তবে, শিক্ষকদের আন্তরিকতায় কিছু বিভাগ সেশনজট কমিয়ে এনেছে। অন্যান্য বিভাগগুলোও সেশনজট কমিয়ে আনতে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেশনজটের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, বর্তমান প্রশাসন সেশনজট যেন না থাকে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সকলে আন্তরিক হলে সেশনজট নিরসন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুনঃ