ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, তৈল বিজ আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশে তৈলবিজ চাষের এলাকা বৃদ্ধি ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরিষা/তেলবীজ চাষ সম্প্রসারণ ও ভোজ্যতেলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে সভায় তিনি এ কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে জনসংখ্যার মাথাপিছু ভোজ্য তেলের ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় ভোজ্য তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী নতুন নতুন তৈল বিজের জাত উদ্ভাবন করে ব্যাপক হারে আবাদ করে ভোজ্য তেলের আমদানি হ্রাস করতে হবে। এক সময় ভোজ্য তেল হিসেবে সরিষাই প্রধান ছিল। সরিষা শুধু তেলই নয় এ থেকে পুষ্টি সমৃদ্ধ খৈল পাওয়া যায়। খৈলের মৎস্য ও পশু খাদ্য হিসেবে বেশ চাহিদা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষ গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ গ্রাম করে তেল খায়। বিগত মৌসুমে প্রায় ৭ দশমিক ২৪ লাখ হেক্টর জমিতে তৈলবিজ ফসলের চাষ করে ৯ দশমিক ৭০ লাখ মেট্রিক টন ফসল উৎপন্ন হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় ৯-১০ শতাংশ। দেশে মোট ৪ দশমিক ৪৪ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়। যা থেকে ৬ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন সরিষা এবং সরিষা থেকে ২ দশমিক ৫০ লাখ টন তেল উৎপন্ন হয়। দেশে মোট ভোজ্য তেলের চাহিদা ৫১ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন। আমাদের চাহিদার মধ্যে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করতে হয়। টাকায় মোট ৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে ৫ কোটি টন ধান থেকে ৮ শতাংশ কুড়া এবং কুড়া থেকে ২০-২৫ শতাংশ তেল পাওয়া যায়। সয়াবিন তেলের পাশাপাশি মানুষ এখন এই তেলের দিকে ঝুঁকছেন।

তিনি বলেন, তৈলবিজ উৎপাদন বৃদ্ধিতে মাঠ পর্যায়ে সরিষার আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করে দিতে হবে। এছাড়া কৃষকদের উন্নত বিজ সরবরাহ করা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা ও কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তৈল বিজ তথা সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ্য করেন মন্ত্রী। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কে প্রধান করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থার প্রধান, কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক ও কৃষিবিদরা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।