বোরো ধানের সমকালীন চাষাবাদ শুরু

খরচ কমাতে তারাগঞ্জে বোরো ধানের সমকালীন চাষাবাদ শুরু
খরচ কমাতে তারাগঞ্জে বোরো ধানের সমকালীন চাষাবাদ শুরু

স্টাফ রিপোর্টার,তারাগঞ্জ ॥ রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ফসলের মাঠ এখন রবি ফসলে সেজেছে। মাঠে সরিষা, ভূট্টা, গম, সূর্যমূখী ও শাকসবজীতে ভরপুর। সেই সাথে বোরো ধান চাষের জন্য বীজতলা তৈরীতে কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

চলতি রবি মৌসূমে তারাগঞ্জ উপজেলায় ৭ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের নির্দেশনা ও পরামর্শে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে ঘুরে ঘুরে নির্বিঘ্নে বোরো ধান চাষে বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন বোরো ধানের উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষ, বীজ শোধন, আদর্শ বীজতলা, তীব্র শৈত্য প্রবাহে বোরো বীজতলার যত্ন ইত্যাদি গ্রহণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

এরই অংশ হিসেবে গত শনিবার(১১জানুয়ারী) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি ঢাকা)এর মহাপরিচালক ড.আব্দুল মুঈদ রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নে সমকালীন বোরো ধান চাষে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে চারা রোপন করণের উদ্বোধন করেন।

এসময় তার সাথে ছিলেন রংপুর অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী ও রংপুরের উপ-পরিচালক ড.মোঃ সারওয়ারুল হক।

উপজেলা কৃষি অফিসার অশোক কুমার রায় জানান, বোরো ধান চাষে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে, কর্তনোত্তার অপচয় রোধ, শ্রমিকের কয়িক শ্রম লাঘব, শ্রমিকের অভাব পূরণ ও ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে ফসল উৎপাদনে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার বোরোধানের সমকালীন চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরনের নির্দেশনা দিয়েছে।

সমকালীন চাষাবাদ পদ্ধতিতে যন্ত্র ব্যবহার করে একই সময়ে,একই জাতের ফসলের একসাথে চারা রোপন, আন্ত:পরিচর্যা ও কর্তন করা হয়।

এ পদ্ধতিতে সঠিক সময়ে অল্প দিনের চারা রোপন করা সম্ভব। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের জন্য ট্রেতে উৎপাদিত চারা রোগ বালাই মুক্ত, সম ঘনত্বের সবল সতেজ চারা উৎপাদিত হয় ও পলিথিন সীট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয় ফলে তীব্র শৈত্য প্রবাহেও চারা সুস্থ থাকে।

এ যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের চারা সারিতে রোপন করা যায় ফলে গাছ পর্যাপ্ত আলো বাতাস পায়, সমভাবে খাদ্য গ্রহণ করে, কুশির সংখ্যা বৃদ্ধি হয় ফলে ধানের ফলন বৃদ্ধি পায় ও বীজতলা ও ধান ক্ষেতে আন্ত:পরিচর্যা(সেচ, নিড়ানী, স্প্রে) করতে সুবিধা হয়।

আপনার মতামত লিখুনঃ