বীরগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচন জমে উঠেছে সুন্দর পরিবেশে প্রার্থীরা খুশি-ভোটাররাও যাবেন ভোট কেন্দ্রে

বীরগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচন জমে উঠেছে সুন্দর পরিবেশে প্রার্থীরা খুশি-ভোটাররাও যাবেন ভোট কেন্দ্রে
বীরগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচন জমে উঠেছে সুন্দর পরিবেশে প্রার্থীরা খুশি-ভোটাররাও যাবেন ভোট কেন্দ্রে

মোঃ আবেদ আলী, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ॥ বীরগঞ্জ পৌরসভা উপ-নির্বাচন জমে উঠেছে সুন্দর পরিবেশে প্রার্থীরা খুশি-ভোটাররাও যাবেন ভোট কেন্দ্রে ১৫ এপ্রিল ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই বদলে গেছে পৌরসভা ভোটের মাঠের চিত্র। নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে ব্যস্ততম শহরের অলিগলি। চলছে উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ। প্রার্থীদের কর্মী-সমার্থকরা দলবেঁধে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন। নেয়া হয়েছে নজির বিহিন নিরাত্তা ব্যবস্থা । এতে প্রার্থীরা নির্বিগ্নে তাদের নির্বাচনি প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে দলের সিদ্ধান্ত না মেনে মেয়র পদে নির্বাচন করায় উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. রেজাওয়ানুল ইসলাম রিজুকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। আওয়ামীলীগ তাদের দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে যে গ্রুপিং বিরাজ করতে তার প্রভাব পড়তে পারে এই নির্বাচনে।

ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কোনো কমতি নেই প্রার্থীদের। উন্নয়ন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিসহ সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দূর্নীতি ও মাদকমুক্ত বীরগঞ্জ পৌরসভা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। বিভিন্ন উন্নয়ন ও সমাজের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে নিজেকে নিয়োজিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুর ইসলাম নুর বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন থেকে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেছি।

জনগণ আমাকে ভালোবেসে পৌরসভার উপ- নির্বাচনে নির্বাচিত করবেন। আমি নির্বাচিত হলে জননেত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদে ব্যাপক উন্নয়ন করব। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে আমার জনপ্রিয়তা ততই বাড়ছে। নেতাকর্মী সমর্থকরা দিন-রাত ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চাইছেন। তিনি নির্বাচনকে ঘিরে সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বাবুল বলেন, আমাকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুর ইসলাম একটি চিঠি দিয়েছেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য। যা সম্পন্ন অবৈধ। আমি নির্বাচনে শতভাগ বিজয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন এখন পর্যন্ত সুষ্ঠ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছি। কোন প্রতিবন্ধকতার সৃর্স্টি হয়নি।

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে পৌরসভার উপ-নির্বাচনে জগ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপি নেতা মোঃ রেজাওয়ানুল ইসলাম রিজু বলেন, সাধারণ ভোটার আমার পাশে আছে। আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করছে। এই পরিবেশ পেলে ভোটাররা ভোট দেয়ার জন্য কেন্দ্রে আসবে। আর ভোটাররা আসলে আমার বিজয় নিশ্চিত। কোন বাঁধা আছে কিনা? বা আওয়ামীলীগ কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কিনা ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এর আগে এতো সুন্দর পরিবেশ দেখিনি। কোন প্রতিবন্ধকতা দেখতে পাইনি। স্বরণকালের সর্বচ্চো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমি সন্তোষ্ট। এদিকে আওয়ামীলীগের আপরেক বিদ্রোহী প্রার্থী পৌর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়ক মোঃ দেলোয়ার হোসেন আবু নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন পৌরসভায় ৯ টি কেন্দ্র। ইতমধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠ করতে ৯ টি কেন্দ্রে ৯ জন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। যা আগে কখন দেখিনি। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসবেন।

তবে পৌর এলাকার বিভিন্ন মহল্লা ও ওয়ার্ডে ঘুরে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সঙ্গে ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এই পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতের প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে আসছে। এবার জামায়াতের প্রার্থী নেই। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত এই পৌরসভাটি ধরে রাখতে তাদের ভোটারদের গোপনে ভোট দিতে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে। যদিও তারা এই নির্বাচনের বিরুদ্ধে। আর যদি শেষ পর্যন্ত তাই হয় তাহলে আওয়ামীলীগের দলীয় কন্দোল ও একাধীক প্রার্থীল কারণে নৌকার পরাজয় কঠিন কিছু হবেনা।

আপরদিকে সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে যে গ্রুপিং বিরাজ করতে তার প্রভাব পড়তে পারে এই নির্বাচনে। সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা বিরোধিতা না করলেও তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় ছিলনা। এ নিয়ে রয়েছে ঠান্ডা যুদ্ধ। এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দুই জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। সে কারণে তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে আওয়ামীলীগের নেতা কর্র্মীরা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
উল্লেখ্য,জামায়াত নেতা পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব মাওঃ মোহাম্মদ হানিফ পদত্যাগ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় পৌরসভার মেয়র পদটি শূন্য হয়। আগামী ১৫ এপ্রিল মেয়র পদে ভোট গ্রহণ করা হবে।