বাঁশের খুটির সংযোগ : শেরপুরের বিদ্যুৎ বিভাগ নেসকো

বাঁশের খুটির সংযোগ : শেরপুরের বিদ্যুৎ বিভাগ নেসকো
বাঁশের খুটির সংযোগ : শেরপুরের বিদ্যুৎ বিভাগ নেসকো

শহিদুল ইসলাম শাওন, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :
নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির বেড়াজালে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে বগুড়ার শেরপুরের নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানী (নেসকো)। দ্বায়িত্বে অবহেলা ও অনীহার কারনে প্রতি বছরই বিদ্যুতপৃষ্ঠ হয়ে মারা যাচ্ছে অনেক তরতাজা প্রাণ। সম্প্রতি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর মধ্যপাড়া গ্রামে ইদ্রিস আলী ঘোতা (৪০) নামের এক কৃষক বিদ্যুতপৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। কয়েক বছরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছেন শিশু-বৃদ্ধ নারীসহ অনেকেই।

সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭ সালে কুসুম্বি ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিন, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ফজলুল করিম, ২০১৮ সালে ভবানীপুর ইউনিয়নের বেদারুল ইসলাম, দারকীপাড়ার জোনায়েদ বাবু, পৌরশহরের নয়াপাড়ার মাহবুবুল আলম পাশা তার স্ত্রী শারমীন সহ অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে। বার বার অনাাঙ্খিত হতাহতের এ সব ঘটনাগুলোকে স্থানীয় জনসাধারণ বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসিনতা ও গাফিলতিকে দায়ী করছেন।

বগুড়ার শেরপুরের নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানীর কিছু অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগসাজসে দালালরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিদ্যুত অফিসের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্রভাবে বাঁশের খুঁটি দিয়ে এসব সংযোগ দেয়। সামান্য ঝড়, বাতাস, বৃষ্টি হলেই বিদ্যুতের তারগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ফলে এসব তারই মৃত্যুর ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায় স্থানীয় গ্রামবাসীদের। আর আয় রোজগারের পথ খুলে যায় ওই কর্মকর্তা কর্মচারীদের।

ঝুঁকিপূর্ণ জোড়া তালির নড়বড়ে ব্যবস্থায় চলছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিদ্যুৎ বিভাগ। আর নড়বড়ে এই ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে আঁখের গোচাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বরত এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালরা। সঞ্চালন লাইনের ভাঙ্গা চোরা এ অবস্থা খুলে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের ভাগ্য। যেখানে একজন সাধারণ গ্রাহক দিনের পর দিন অফিসের বারান্দায় ঘুরে বিদ্যুৎ বিভাগের সকল নিয়ম-নীতি মেনে আবেদন দেয়ার তিনমাস অতিবাহিত হলেও সংযোগ পায় না । আর দালালরা মাত্র পনের দিনের মধ্যেই সংযোগ পাইয়ে দেয়। সেখানে সাধারণ গ্রাহকের কোন মূল্য নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শেরপুর-ধুনট সড়কের রনবীরবালা ঘাটপারের পূর্বপার্শ্বে বিদ্যুত সঞ্চালন লাইনের কাজ চলছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে। অনেক স্থানে পুরনো বাঁশের খুঁটি ভেঙে তার প্রায় মাটি ছুইছুই করছে। এ সকল বাঁশের খুঁটির সংযোগ মানুষ ও গবাদিপশুর নাগালের ভিতরে রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কিছু অসাধু কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে আন্দিকুমড়া পূর্বপাড়া দীর্ঘ প্রায় ১ কিঃ মিঃ গাছের সঙ্গে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করছে। দড়িমুকুন্দ থেকে রাজবাড়ী গ্রামে ধানের ক্ষেতের উপর বাঁশের খুঁটি দিয়ে বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করা হয়েছে। শৈল্লাপাড়া গ্রামে গাছ ও ঘরের ডাসা ও বাটাম (আঞ্চলিক ভাষা) সঙ্গে তার পেঁচিয়ে বিদ্যুত লাইন সরবরাহ করা হয়েছে। এ সঞ্চালন ব্যবস্থায় দুর্ঘটনার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এ সকল এলাকাবাসী।

বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজসে অর্থের বিনিময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও প্রতিশ্রুতি ছিল বিদ্যুৎ বিভাগ বাঁশের খুঁটি দু’মাসের মধ্যে পরিবর্তন করে (এইচপুল খুঁটি) বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করে দেবে। কিন্তু দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন পরিবর্তন করা হয়নি। বাঁশের খুঁটি, গাছ ও ঘরের বাটামের (আঞ্চলিক ভাষা) সঙ্গে তার পেঁচিয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ।

গাড়ীদহ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেন বাবু বলেন, ঝুকিপূর্ণভাবে বাঁশের খুটিতে চলছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন, বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে বারবার অবগত করা হলেও তারা কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি। বিদ্যুৎ বিভাগ এতটাই দায়ীত্বহীন প্রায় ১৫ দিন পূর্বে পৌরসাভার ৮ নং ওয়ার্ড দাঁড়কি পাড়ায় রাস্তার মাঝখানে বিদ্যুতের নতুন খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে।

ফলে রাস্তায় চলাচল কারী যানবাহন ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যে কোন সময় যন্ত্রচালিত যানবাহন এই খুঁটিগুলোর সঙ্গে ধাক্কা লেগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিদ্যুতের খুঁটি রাস্তার মাঝ থেকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ার জন্য এলাকাবাসী দাবী জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর বিদ্যুত বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্রের নির্বাহি প্রকৌশলী ফরিদুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদ্যুতের সঞ্চালন কাজ চলছে বাঁশের খুটি দিয়ে এগুলো সার্ভিস তার । কিন্তু ১৬০ মিঃ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত অনুমোদন থাকলেও হাজার হাজার মিটার পর্যন্ত বিদ্যুতের সঞ্চালন কাজ চলছে বাঁশের খুটি দিয়ে এর উত্তর চাইলে কোন কথা না বলে ব্যস্ততার অজুহাত দেখান এবং তথ্য দিতে অপারকতা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুনঃ