বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষিদের বিনামূল্যে বীজ-সার দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষিদের বিনামূল্যে বীজ-সার দেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী

বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষিদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হবে। আমাদের খাদ্যের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে গুদামগুলোতে।

এছাড়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রীর নিজ দফতরে ‘সাউথ এশিয়া রিজিওনাল সেন্টার অব ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টার ইন বাংলাদেশ’ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে বড় কোনো ফসল মাঠে নেই।

রবি মৌসুমের শাক-সবজিসহ বীজতলার ক্ষতি হয়েছে; যেমন- পটল, বেগুন। এছাড়া, নিচু এলাকায় যেগুলো ছিল, সেগুলোর ক্ষতি হয়েছে। ফলে শাক-সবজির দাম বাড়বে। যেটা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে, তা হলো বীজতলা। এজন্য নতুন কিছু কর্মসূচি নিয়েছি। যেখানে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেখানে আমরা নতুন বীজতলা তৈরি করবো। চাষিদের বিনামূল্যে বীজ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আগস্ট মাসে আরও একটি বন্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হবে। সে জন্য আমরা রবি ফসলের কর্মসূচি হাতে নিয়েছি; সেখানে সরিষা, আলু, শাক-সবজি এ ধরনের ফসল রয়েছে। ইতোমধ্যে পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের যে অর্থ রয়েছে, তা বিভিন্ন জেলায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করে সহায়তা দেওয়া হবে।

এজন্য ১২০ কোটি টাকার বরাদ্দ রয়েছে। প্রয়োজনে তা আরও বাড়ানো হবে। এসময় ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টার বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘পটেটো স্টেশন’ করতে চায় বলেও জানান মন্ত্রী। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পেরুতে আন্তর্জাতিক পটেটো সেন্টার রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আমরা দীর্ঘদিন কাজ করেছি। তারা আমাদের আলুর জাত ও বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য অনেক সহযোগিতা করেছে।

বাংলাদেশে আলু উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবছর আমরা ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন করেছি। যা দেশের চাহিদা পূরণ করেও ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টন বেশি থাকছে। কিন্তু, আমরা আন্তর্জাতিক বাজারে ঠিকমতো আলু দিতে পারিনি। তিনি বলেন, আমরা ১৫-২০ বছর ধরে যে পণ্য উৎপাদন করছি, যেটা আন্তর্জাতিক মানের হচ্ছে না। যেসব পণ্যের চাহিদা আছে, সেগুলোর উৎপাদনে যাওয়া দরকার।

কিন্তু, নতুন জাত তাড়াতাড়ি উদ্ভাবন করা যায় না। এজন্য ভারত, নেদারল্যান্ড, পেরু থেকে ভালো জাত এনে চাষিদের দিয়ে উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি করতে পারি। কৃষিমন্ত্রী বলেন, ইন্টারন্যাশনাল পটেটো সেন্টার দক্ষিণ এশিয়ায় একটি পটেটো স্টেশন করতে চায়। আমরা চাচ্ছি, এটা যেন বাংলাদেশে হয়। সেটা কীভাবে করা যাবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে আমরা জমি ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিলাম।

বাকিগুলোর মধ্যে গবেষণাগার নির্মাণ, বিজ্ঞানীদের প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন গবেষণার যন্ত্রপাতি তারা দেবে। এ গবেষণা সেন্টারের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশ জড়িত থাকবে। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নানা দিক বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ আন্তর্জাতিক পটেটো সেন্টার বাংলাদেশেই করবে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর কৃষিমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে একটি বৈঠক করে কী করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বৈঠকের বিষয়ে তারা সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

আপনার মতামত লিখুনঃ