বগুড়া সদর বিএনপি সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট শাহীন খুন

বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের উর্পূযুপরি ছুরিকাঘাতে সদর বিএনপি সাধারন সম্পাদক এ্যাড শাহীন খুন
বগুড়ায় সন্ত্রাসীদের উর্পূযুপরি ছুরিকাঘাতে সদর বিএনপি সাধারন সম্পাদক এ্যাড শাহীন খুন

বগুড়ায় সদর থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাহবুল আলম শাহীন(৪৭) সন্ত্রাসীদের উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয়েছেন । ঘটনাটি ঘটেছে রবিরার রাতে শহরের উপশহর এলাকায় । । দু’দফা জানাজা নামাজ শেষে তাকে তার পারিবারীক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এদিকে নিহত মাহীন হত্যার প্রতিবাদে ৫দিন ব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষনা করেছে বিএনপি।

নিহত এ্যাডঃ মাহবুল আলম শাহীন শহরের ধরমপুর এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে , রবিবার রাত ১০টার দিকে বিএনপি নেতা এ্যাডঃ শাহীন শহরের উপশহর বাজার এলাকায় দাঁড়ানো অবস্থায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন ।

এসময় ৮/৯জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সঙ্গবদ্ধ ভাবে হামলা চালিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ও দু’পায়ে উপূর্যুপরি ভাবে ছুরিকাঘাত এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তার নরাচরা টের পেয়ে হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মারা যান।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ছিলিমপুর ফাঁড়ী পুলিশের এসআই আব্দুল আজিজ মন্ডল এ্যাড শাহীনের মৃত্যু নিশ্চিত করে জানান, প্রথমে আহত অবস্থায় এ্যাডঃ শাহীনকে স্থানীয় স্বদেশ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানেই কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

অন্য দিকে উপশহর ফাঁড়ী পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম সংবাদ সংস্থা এফএনএস’কে জানান , বাড়ী ফেরার পথে উপশহর বাজার এলাকার একটি ১০তলা ভবনের সামনের চা দোকানের সামনে দাঁড়ানো অবস্থায় এ্যাডঃ শাহীন সশস্ত্র হামালার শিকার হন। এসময় সন্ত্রাসীরা তার শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং দু’পায়ে উপুর্যুপরিভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে পালিযে যায় ।তিনি উল্লেখ করে, কিলিং মিশনে ৬/৭জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী অংশ নিয়েছিল। পরে হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মারা যান বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তবে কি কারনে এবং কারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জরিত এ বিষয়টি ষ্পষ্ট করে জানাতে পারেননি এই পুলিশ অধিকর্তা । এদিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার বিএনপি নেতা এ্যাড মাহাবুব আলম শাহীনকে দাফন সম্পন্য হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে তার পারিবারীক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় । এদিকে বিএনপির শীর্ষ নেতা শাহীন হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ৫ দিনের শোক ও প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জেলা বিএনপি।

ঘোষিত কর্মসুচিতে সোমবার সকাল থেকেই কালো ব্যাচ ধারণ করেছে দলের সর্বস্তরের নেতা ও কর্মিরা । এছাড়া দলীয় কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে । কর্মসূচিতে মঙ্গলবার দলের পক্ষ থেকে শোক র‌্যালী ও বুধবার প্রতিবাদ সমাবেশ এবং বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে দলটি ।

এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে ময়না তদন্তের পর নিহত বিএনপি নেতা শাহীনের মরদেহ জেলা পুলিশের উপস্থিতিতে তার পরিবার ও দলীয় নের্তৃবৃন্দের নিকট হস্তান্তর করা হয় । বিকাল ৪টায় বগুড়া বিএনপি কার্যালয়ের সামনে প্রথম দফায় নামাজে নিহতের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয় । পরে বাদ আছর তার নিজ বাড়ি ধরমপুরে খেলার মাঠে শাহিনের দ্বিতীয় দফায় নামাজে জানাজার পর পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অন্যদিকে এ্যাডভোকেট বারের সদস্য হওয়ায় নিহত এ্যাড ঃ মাহাবুবুল আলম শাহিনের নিহত হবার ঘটনায় বগুড়া জেলা সোমবার আদালত পাড়ায় ফুলকোর্ট রেফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে ।এসময় বগুড়া বারের উদ্যোগে প্রতিবাদ ও শোক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় সেখানে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিশ শহর প্রদক্ষিন করে।
উল্লেখ্য ,গত রবিবার রাত আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে বিএনপি নেতা এ্যাডঃ শাহীন শহরের উপশহর বাজার এলাকায় দাঁড়ানো অবস্থায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন ।

এসময় ৮/৯জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী সঙ্গবদ্ধ ভাবে তার উপর হামলা চালিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ও দু’পায়ে উপূর্যুপরি ভাবে ছুরিকাঘাত এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তার নরাচরা টের পেয়ে হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মারা যান। ঘটনার পর পরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ক্ষতিয়ে করে দেখা হচ্ছে। হত্যকান্ডের বিষয় ও আঘাতের ধরণ দেখে মনে হয়েছে পুলিশ ধারনা করছে এটি কোন পেশাদার খুনির কাজ ।এ ক্ষেত্রে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া খুনিরা কোন পক্ষে ভাড়াটে হিসেবে এই হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল। ।

এদিকে একটি সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে ঘটনার পর পরও পুলিশের একাধিক টিম রোববার রাতেই বগুড়ার বেশ কয়েকজন সন্দেহ ভাজন ও একাধিক টপটেররকে আটক করে । একই সাথে খুনের ঘটনায় ঘটনাস্থলের আশেপাশের বাড়িঘর ও স্থাপনার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে খুনিদের সনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ । তবে আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ কাউকে গ্রেফতারের বা আটকের কথা স্বীকার করেনি ।
এদিকে ঘটনার পর প্রায় ২৪ঘন্টা অতিক্রান্ত হতে চললেও হত্যাকান্ডের সাথে জরিতদের সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ ।আনুষ্ঠানিক ভাবে এই হত্যান্ডের কুল বের করতে পারেনি পুলিশ ।

তবে এ ব্যপারে আসাবাদ ব্যাক্ত করে বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) কামরুজ্জামান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন , পুলিশ গুরুত্বপূর্ন কিছু তথ্য ভিত্তিতে তাদের তদন্তে বেশ এগিয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে আপাত্বত কোন তথ্য দিতে অপারকতা দেখিয়েছেন এই পুলিশ অধিকর্তা ।

অন্যদিকে দলমত নির্বিশেষে একজন ভদ্র ও বিনয়ী মানুষ হিসাবে বিএনপি নেতা এ্যাড ঃ শাহীন হত্যাকান্ডের বিষয়টি কোন অবস্থাতেই মেনে নিতে পারছেননা শহরবাসী । তার এই হত্যাকান্ড ঘটনায় সর্বত্ব তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে হত্যাকান্ডের সাথে জরিতদের গ্রেপ্তার দাবী করেছেন।

শেষ খবর পর্যন্ত বিএনপি নেতা এ্যাড ঃ শাহীন হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি । তবে মামলা প্রস্তুতি চলছিল বলে জানা গেছে।