অ্যাডঃ শাহীন হত্যাকান্ডে ৩ দিনেও কোন অগ্রগতি নেই

বগুড়ায় আলোচিত বিএনপি নেতা অ্যাডঃ শাহীন হত্যাকান্ডে ৩দিনেও কোন অগ্রগতি নেই
বগুড়ায় আলোচিত বিএনপি নেতা অ্যাডঃ শাহীন হত্যাকান্ডে ৩দিনেও কোন অগ্রগতি নেই

আরএইচ রফিক,বগুড়া ।।
বগুড়ায় চাঞ্চাল্যকর বিএনপি নেতা অ্যাডঃ মাহাবুব আলম শাহীন হত্যাকান্ড ঘটনায় প্রায় ৩দিন অতিবাহিত হতে চললেও ঘটনার সাথে জরিত কাউকে চিহ্নিত করা এবং কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে শেষ খবর পর্যন্ত শাহীন হত্যাকান্ড ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে । নিহতের স্ত্রী আক্তার জাহান শিল্পী গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। নিহত সদর থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ মাহবুল আলম শাহীন শহরের ধরমপুর এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে ।

বগুড়া সদর থানা পুলিশ ইন্সপেক্টর (ওসি তদন্ত) মুহা কামরুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার বিকালে নিহত শাহীনের স্ত্রী আক্তার জাহান শিল্পীর একটি অভিযোগ পত্র তারা গ্রহনের পরে মামলাটি হত্যা মামলা হিসাবে নথি ভুক্ত করা হয় । তিনি জানান ,এজাহার নামীও ৬জনের নাম সহ অজ্ঞাত আরো ৫/৬জনকে আসামী করে এই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে । স্পর্শকাতর মামলা হিসাবে তদন্তর প্রয়োজনে অপারকতা দেখিয়ে তিনি আসামীদের নাম উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকেন। পরে মামলার তদন্ত এবং জরিতদের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি শিকার করেন এখন পর্যন্ত এ নৃশংস হত্যা ঘটনায় কোন সফল অগ্রগতি তাদের হাতে আসেনি।
এই হত্যাকান্ডকে ঘিরে শহরের প্রায় সর্বস্থানে চাউর হচ্ছে যে, শহরের দুটি প্রভাবশালী মহলের দীর্ঘ দিনের আধিপত্য নিয়ে বিবাদ এবং মোটর মালিক গ্রুপের চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করেই কি বিএনপি নেতা অ্যাডঃ শাহীনকে বলির পাঠা বানানো হয়েছে কিনা । অন্যদিকে জেলা মোটর গ্রুপের বিরোধ ছাড়াও রাজনৈতিক বিরোধ সহ উপশহর এলাকায় ¯িœগ্ধা আবাসিক এলাকার পুকুর কিম্বা জমি-জমা নিয়ে বিরোধ নিয়েও এই হত্যাকান্ড ঘটেছে কিনা সে বিষয়টির প্রতি লক্ষ রেখেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
ঘটনার দিন উপশহর বাজার এলাকার একটি ভবনে লাগানো সিসিটিভির ফুটেজ নিয়েও কাজ করছে পুলিশ । ক্যামেরায় ধারনকৃত ফুটেজ অনুযায়ী গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ১০টা ২০মিনিটের সময় বিএনপি নেতা অ্যাডঃ মাহাবুব আলম শাহীনের উপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয় । ফুটেজের ছবিতে ওই কিলিং মিশনে ১০/১২জন কিলার সেখানে অপারেশন চালায় । হিন্দী সিনেমা ষ্টাইলে বিএনপি নেতা শাহীনের উপর হামলা চালানো হয়। কিলিং মিশনে কমপক্ষে ২টি মোটর সাইকেলে আসা আরোহী সহ আরো কয়েকজন যারা আগে থেকেই ঘটনাস্থল ও তার আশ পাশে অবস্থান নিয়ে ছিল। কিলিং মিশন শেষ হবার পর কিলাররা মোটর সাইকেল নিয়ে দ্রুত সটকে পরে । অন্যরা অস্ত্রহাতে দৌড়ে পালিয়ে যায় ।

প্রাপ্ত তথ্যমতে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া কিলারদের অধিকাংশই বেশ সময় নিয়ে ঘটনাস্থল এবং আশ পাশে ঘোড়া ঘুরি করেছে। তারা অ্যাড ঃ শাহীনের উপর কড়া নজরদারীও করেছে সেখানে । এর এক পর্যায়ে শাহীন স্থানীয় একটি দোকান থেকে চাল কিনে তার প্রাইভেট কারে তোলার পর খুনিরা তৎপর হয়েছিল । সেখানে মোবাইলে কথা বলার এক পর্যায়ে মোটর সাইকেল যোগে মুল কিলাররা সেখানে আসার ২/৩মিনিটের মাথায় তাদের কিলিং মিশন শুরু হয়। তাদের মিশনটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত বিধায় সে মিশন সফল করতে সময় লাগে আরো ৪/৫মিনিট ।হামলার শুরুতেই অ্যাড ভোটের শাহীন রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করেন । কিন্তু তার বুকে উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও দু’পায়ে রামদা দিয়ে আঘাত করায় তিনি রাস্তার অপর পাশে এস পড়ে যান। তার চিৎকারে আশ পাশের দোকানী পথচারী সহ নিহতের সঙ্গ থাকা নুনগোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলীমুদ্দিন ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেও তাদের কেউই খুনিদের চিনতে পারেননি । অথচ খুনিরা প্রায় সকল ছিল উম্মুক্ত । ঘটনার পর এক নিমিষে আশ পাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় । এর বেশ কিছু সময় পর সেখানে আসে স্থানীয় পুলিশের একটি দল। অথচ ঘটনাস্থল থেকে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ীর দূরত্ব খুব কাছেই । আরো সেখানে রয়েছে পশ্চিমাঞ্চলিয় হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তর । আরো ছিল স্থানীয় মানুষের উপস্থিতি ।

এক কিছুর মধ্য পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে কিলিং মিশনে অপারেশন চালায় কিলাররা । নিহতের শরীরের ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে পুলিশও নিশ্চিত হয়েছে এ হত্যাকান্ডের পেশাদার খুনিরা অংশ গ্রহন করেছিল । প্রাপ্ত তথ্যমতে এ সব পেশাদার কিলারদের বিষয়ে অনেক তথ্য পুলিশের কাছে থাকার কথা । তার পরও গত ৩দিনে এ হত্যাকান্ডের কোন কøু পুলিশের হাতে নেই । সঙ্গত কারনে আবারো প্রশ্ন সংঘটিত হত্যাকন্ডের মধ্য বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে সফলতা দেখাতে পারলেও অদিকাংশ হত্যাকান্ডের রহস্য এখনো উম্মোিচত করা সম্ভব হয়নি। এদিকে নিহত শাহীনের স্ত্রী শিল্পী সাংবাদিকদের কাছে অবিযোগ করেছেন যে,তার স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।তিনি মনে করেন মোটর মালিক গ্রুপের আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিবাদের কারনে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি আরো বেশ কিছু অভিযোগ করেচেন পুলিশের কাছে।
অন্যদিকে আইনজীবী ও বগুড়া বারের সদস্য হবার সুবাদে বগুড়া বারের পূর্ব ঘোষিত আসামী গ্রেপ্তারে ২৪ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে বুধবার । জেলা বিএনপি ইত্বমধ্যই ৫দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছে। তার পরেও খুনিদের গ্রেপ্তার করা না হলে তারা আরো বড় প্রতিবাদ কর্মসূচি দিতে পারে মর্মে আভাস দিয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর প্রায় ৩দিন অতিবাহিত হবার পরও চাঞ্চাল্যকর বিএনপি নেতা অ্যাডঃ মাহাবুব আলম শাহীন হত্যাকান্ডের সাথে জরিতদের সনাক্ত করা এবং তাদের কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় বগুড়ায় মি¯্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গতকারনে কারনে মামলার সফলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ।গত ৩দিনেও আলোচিত এই হত্যাকান্ডের কোন কুল কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

অন্যদিকে বগুড়া জেলা বিএনপি নেতা অ্যাডঃ মাহাবুব আলম শাহীন হত্যাকান্ড ঘটনায় পূর্ব ঘোষিত ৫দিনের কর্মসূচিতে গতকাল শহরে শোক মিছিল করেছে জেলা বিএনপি । মিছিল শেষে নের্তৃবৃন্দ অবিলম্বে ঘটনার সাথে জরিত খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবী করেন। অনথায় তারা যে কোন বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষনা দিতে বাধ্য হবেন।

উল্লেখ্য ,গত রবিবার রাত আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে বিএনপি নেতা এ্যাডঃ শাহীন শহরের উপশহর বাজার এলাকায় দাঁড়ানো অবস্থায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন । এসময় ৮/৯জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী সঙ্গবদ্ধ ভাবে তার উপর হামলা চালিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ও দু’পায়ে উপূর্যুপরি ভাবে ছুরিকাঘাত এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তার নরাচরা টের পেয়ে হাসপাতালে নেবার পথে তিনি মারা যান। ঘটনার পর পরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ক্ষতিয়ে করে দেখা হচ্ছে। হত্যকান্ডের বিষয় ও আঘাতের ধরণ দেখে মনে হয়েছে পুলিশ ধারনা করছে এটি কোন পেশাদার খুনির কাজ ।এ ক্ষেত্রে কিলিং মিশনে অংশ নেয়া খুনিরা কোন পক্ষে ভাড়াটে হিসেবে এই হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল। ।