বকেয়া বেতন আদায়ে চাপ নয়, মানবিক দিক বিবেচনার আহবান

বকেয়া বেতন
বকেয়া বেতন

প্রশাসনের সরকারী নির্দেশনা না থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে দেয়া চ্ছে বকেয়া বেতনের চাপঃ উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা

হুমায়ুন কবীর মানিকঃ করোনা শেষ না হলেও নানা পারিপার্শ্বিক চাপের সাথে নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন আদায়। বিভিন্ন স্কুলে বর্তমান সময়ে ৯ম শ্রেণীতে রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ এটাকে পুজি করে বকেয়া বেতনের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে অভিভাবকমহল। বিষয়টি নিয়ে সরকারী কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে তারা জানালেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা পালিয়ে যাচ্ছে না। অভিভাবকদের চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। সরকারীভাবে বেতন পরিশোধের বিষয়ে কোন নির্দেশনা আমরা পাইনি। এ সময়ে মানবিক দৃষ্টিতে কাজ সম্পন্ন করা জরুরী।

নগরী ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন নামীদামি স্কুল থেকে শুরু করে পাড়া মহল্লায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছে। ৯ম শ্রেণীর রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান থাকায় করোনাকালীন সময়ে বন্ধ থাকাকালীন মাসের বকেয়া বেতনের তালিকা দেয়া হচ্ছে অভিভাবকদের। যার যত মাসের বেতন বাকি সেগুলো পরিশোধ করে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করা হচ্ছে। অনেকে টাকা পরিশোধে সময় চেয়ে নিচ্ছেন। করোনাকালীন সময়ে বেকার থাকা, অর্থনৈতিক সংকটের সাথে আসন্ন কোরবানি হয়ে অনেকেই চিন্তিত। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বকেয়া বেতনের চাপ। অনেকটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে অভিভাবকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবকরা জানান, নগরীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ে রেজিষ্ট্রেশন চলাকালীন সময়ে নির্ধারিত টাকার সাথে বকেয়া ৪/৬ মাসের স্কুল বেতন জমা দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। অনেকে মোবাইলে ক্ষুদে বার্তা প্রেরণ করছে টাকার জন্য। আসলে অনেকেই টাকা দিচ্ছেন আবার অনেকেরই টাকা দিতে সমস্যা হচ্ছে। এভাবে হঠাৎ করে স্কুলে কোন লেখাপড়া নেই তারপরেও বকেয়া বেতনের জন্য চাপ দেয়া ঠিক নয়। আমরা নিরুপায় হয়ে টাকা জোগাড় করছি। বিষয়টি সরকারের দৃষ্টি অর্কষণ করে একটি চিঠি ইস্যু করা জরুরী। একটু সময় দিয়ে টাকা গ্রহণ করা হোক। অল্প সময়ে এত টাকা জোগার করাও সমস্যা।

বিষয়টি নিয়ে রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান জানান, আমরা অভিভাবকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের কোন নির্দেশনা পায়নি। যারা ইচ্ছেমতো দিচ্ছে আমরা নিচ্ছি তবে কোন চাপ দিয়ে নয়।

জেলা শিক্ষা অফিসার রোকসানা বেগম জানান, একটি বিদ্যালয়ে শুধু ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা থাকে না, ৬ষ্ট থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা থাকে। কারো টাকা নিবেন কারো নিবেন না এটা তো হয় না। শিক্ষার্থীরা তো বিদ্যালয় থেকে পালিয়ে যাচ্ছে না। যারা বকেয়া বেতন দিচ্ছে তাদের নিবেন যারা দিতে পারবে না তাদের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মানবিক দিক বিবেচনা করা উচিত। আমাদের কাছে বকেয়া বেতন পরিশোধের কোন চিঠি আসেনি।

রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আরাফাত রহমান জানান, আসলে সব কিছুই আইন দিয়ে হয় না। সবাই তো গরীব না। যারা বকেয়া বেতন দিতে পারবে তাদের নিবে কিন্তু যারা পাবে না তাদের চাপ দিয়ে টাকা নেয়াও যাবে না। সরকারী কোন নির্দেশনা না থাকায় আমরা বিষয়গুলো জেনেও কোন ব্যবস্থা নিতে পারছি না। সবচেয়ে বড় বিষয় মানবিক দিক বিবেচনা করে পরিস্থিতি সামলে নেয়। সরকারী কোন নির্দেশনা পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যাবে না। ৯ম শ্রেণীর রেজিষ্ট্রেশন অনলাইনে হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের তথ্য দেখে এটি পুরণ করবেন। রেজিষ্ট্রেশন ফিসহ সকল তথ্য অনলাইনে দেয়া আছে। বিদ্যালয়ে করোনাকালীন সময়ে বন্ধ থাকা বেতন রেজিষ্ট্রেশনের সময় নেয়া বা চাপ দেয়া যাবে না। যেহেতু বিদ্যালয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে সেহেতু কোন বকেয়া বেতনের বিষয় অভিভাবকদের বলা যাবে না। যদি কোন বিদ্যালয় বকেয়া বেতনের বিষয়ে অভিভাবকদের চাপ দেন এবং আমাদের নিকট অভিযোগ আছে তবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

আপনার মতামত লিখুনঃ