ফসলহানীর টেনশনে কৃষকের মৃত্যু

ফসলহানীর টেনশনে কৃষকের মৃত্যু
ফসলহানীর টেনশনে কৃষকের মৃত্যু

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সদল্লাপুর উপজেলার ইরি ক্ষেতে ভূল কীটনাশক প্রয়োগে ফসলহানীর ঘটনা ঘটেছে। এ টেনশনে কৃষক আবুল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত গ্রামের (দক্ষিণপাড়া) কৃষক আবুল হোসেন (৬৫) একই গ্রামের এছাহাক আলীর এক একর জমি বর্গা নেয়। চলতি ইরি মৌসুমে এ জমিতে ধান আবাদ করেন। রোপনকৃত ধানগাছে ইতোমধ্যে থোর হয়ে ফুলে গেছে।

ক্ষেতে কিছু পোকাড় আক্রমণ দেখায় দেয়। এ পোকা দমনে অনভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় কীটনাশক স্প্রেম্যান ইয়াছিন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন আবুল হোসেন। ইয়াছিন আলীর পরামর্শে ওই জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এ ওষুধ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই জমির প্রায় ৫০ ভাগ ফসলের মড়ক বা পাতা পোড়া দেখা দিয়েছ। অপ্রত্যাশিত এ ঘটনায় কৃষক আবুল হোসেন দুশ্চিন্তায় ছটফট করতে থাকে। তার কাঙ্খিত স্বপ্নের ফসল ক্ষতির কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েন আবুল হোসেন। এ নিয়ে টেনশনের অন্ত নেই তার। কৃষি বিভাগের সচেতনতার অভাবে নানা ধরণের ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ।

বুধবার বিকেল সরেজমিনে ওই কৃষকের ছেলে মিজানুর রহমান জানান, পোকা দমনের স্থলে আগাছা নিধনের ওষুধ প্রয়োগে ধানক্ষেতে মড়ক দেখা দেয়। এ নিয়ে সব সময়েই নানা টেনশনে ভুগছিলেন বাবা আবুল হোসেন। এক পর্যায়ে সোমবার সকালে তার (আবুল হোসেন) বুকের ব্যাথাসহ ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে সাদল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত গাইবাধান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয় হলে দুপুরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান আরো বলেন, জমির ফসল নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে নানা টেনশনের আমার বাবা আবুল হোসেন হার্টএ্যাটাক করে মারা গেছে।নিহত আবুল হোসেনের স্ত্রী মোছা. আছিয়া বেগম বলেন, কিছু লাভের আশায় এনজিও থেকে লোন নিয়ে এক একর বর্গা জমিতে এবারে ধান আবাদ করা হয়েছিল। কিন্ত ইয়াছিন আলী ভূল ওষুধ স্প্রে করার ফলে ধানগাছ পাতাগুলো পুড়ে যাচ্ছে। এমন দুশ্চিন্তায় স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

স্প্রেম্যান ইয়াছিন আলী বলেন, ভুল ওষুধ নয়, পোকাদমনের জন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে। কৃষক আবুল হোসেনের নির্দেশে মাত্রারিক্ত ওষুধ স্প্রে করার কারনে ধানপাতাগুলো পুড়ে যাচ্ছে। আবুল হোসেন ডায়রিয় জনিত কারণে মার গেছে বলে জানান তিনি।

জমির মালিক এছাহাক আলীর ছেলে ইয়াছিন আলী এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আবুল হোসেন গরিম মানুষ নিজস্ব জমিজমা না থাকায় আমাদের জমি বর্গা নিয়ে ধান আবাদ করেছিলেন। অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করছি।

তরফবাজিত ব্লকের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া জানান, এ খবর পেয়ে মাঠে গিয়ে ফসল পরির্শন করা হয়েছে। ৮০ ভাগ ফলন পেতে নিহত কৃষকের স্বজনদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান বলেন, আবুল হেসেনের ধানক্ষেতের ক্ষতির কথা শুনেছি। ভুলবসত আগাছা দমনের কীটাশক প্রয়োগ করায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্প্রেম্যান ইয়াছিন আলীর সঙ্গে যোগযোগ করা হবে।