ফণীর প্রভাবে বৃষ্টি , চার জেলার অন্তত ২৮টি গ্রাম প্লাবিত

ফণীর প্রভাবে বৃষ্টি , চার জেলার অন্তত ২৮টি গ্রাম প্লাবিত
ফণীর প্রভাবে বৃষ্টি , চার জেলার অন্তত ২৮টি গ্রাম প্লাবিত

ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে জোয়ারে উপকূলীয় চার জেলার অন্তত ২৮টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকাল থেকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে কোথাও কোথাও।

পটুয়াখালী : ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জোয়ারের চাপে পটুয়াখালীতে বেশ কিছু পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে তিনটি উপজেলার অন্তত ২৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, ফসলি জমি। মির্জাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৪৭/১ নম্বর পোল্ডারে বাঁধ আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। নদীর পানি বেড়ে পাওয়ায় ওই পয়েন্ট দিয়ে গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। কলাপাড়ার নিজামপুর পয়েন্ট দিয়েও পানি ঢুকছে গ্রামে।

মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর দেউলী সুবিধখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, সকাল থেকে জোয়ারের চাপে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করে। এক পর্যায়ে মেহেন্দিয়াবাদ, চরখালী, গোলখালী রানীপুরসহ পাচঁটি গ্রাম প্লাবিত হয়। ঘরবাড়িতে পানি ঢোকার পাশাপাশি মুগডালের ক্ষেত তলিয়ে যায়।

জোয়ারে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া পয়েন্টে বেড়িবাঁধের দেড় কিলোমিটার ফাঁকা অংশ দিয়ে পানি ঢুকে লালুয়ার চারিপাড়া, চৌধুরীপাড়া, মাঝের হাওলা, ছোট ৫ নং, বড় ৫নং, নয়াকাটা, সেনের হাওলাসহ অন্তত ১০টি গ্রাম এবং মহিপুরের নিজামপুর পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে মহিপুরের নিজামপুর কমরপুর, সুধিরপুরসহ ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ উপচে ফুলতলা, মাটিভাঙ্গাঁ, ভাজনাসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বাগেরহাট : জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধ উপচে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীর পানি ঢুকে বগী, সাতঘর ও দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের অন্তত একশ বাড়িঘরে তালিয়ে গেছে। সাউথখালি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, বলেশ্বর নদীর বগী এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ উপচে গ্রামের বসতবাড়িতে পানি ঢুকেছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পশুর, মোংলা, বলেশ্বর, ভৈরব ও পানগুছি নদীতে পানির চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পানি আরো বাড়তে পারে। জোয়ারের পানির চাপে শরণখোলায় বাঁধের নিচু অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ও আশাশুনিতে শুরু হয়েছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া। সেইসঙ্গে নদীতে দেখা দিয়েছে উত্তাল ঢেউ। শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল বলেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ঢেউয়ে দূর্গাবাটিতে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে, গ্রামে ঢুকছে পানি।

ঝালকাঠি : ঝালকাঠিতে ফণীর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে সকাল থেকে, সেইসঙ্গে চলছে দমকা বাতাস। জেলার সুগন্ধা, বিশখালী আর হলতা নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে কমপক্ষে চার ফুট পানি বৃদ্ধি পয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি বেড়ি বাঁধ উপচে পড়ার উপক্রম হয়েছে।