প্রধানমন্ত্রী বলে গেছেন অ্যাকশন যেন না থামে: কাদের

প্রধানমন্ত্রী বলে গেছেন অ্যাকশন যেন না থামে: কাদের

দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান যেন থেমে না যায় সে ব্যাপারে দিল্লি যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার গাজীপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ কথা জানান। খাড়াজোড়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার পরিদর্শন করতে এসে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন।

চলমান ‘শুদ্ধি’ অভিযান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই অভিযান কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের বিরুদ্ধে নয়। অপরাধী এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। দুর্বৃত্তায়নের একটি চক্র বাংলাদেশে রয়েছে যেটা ভেঙে দিতে হবে। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এই অভিযান শুরু করেছেন আপন ঘর থেকে।’

অভিযান চলবে জানিয়ে সরকার ও দলের এই মুখপাত্র বলেন, ‘যারা অপরাধী, যেখানে অপরাধী, লুটপাট, টেন্ডারবাজি সেখানে এ অভিযান চলবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন। দিল্লি যাওয়ার আগেও তিনি বলে গেছেন, এই অভিযান শিথিল হবে না, এই অ্যাকশন প্রোগ্রাম চলতে থাকবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার বয়স হয়েছে, এই বয়সে শরীর একেবারে সুস্থ-সবল থাকবেন এমন কথা নয়। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় একটি চিকিৎসক টিম আছে, বোর্ড আছে। তারা মাঝে মধ্যে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখেন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার ব্যাপারে বিএনপি যা বলে তাদের সঙ্গে চিকিৎসকদের যে রিপোর্টের কোনো মিল নেই।’

‘তার মানবিক বিষয়টি যেমন দেখতে হবে আইনগত ব্যাপারটিও দেখতে হবে। আইনগত বিষয়টি সরকারের হাতে নয়। তিনি যদি আদালত থেকে জামিন পান এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়, সেটি পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করা যাবে।’

কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতারা দাবি করছেন কিন্তু চিকিৎসকদের যে রিপোর্ট সেটি তাদের দাবির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাদের এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন, আমার মাধ্যমেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এটি বিবেচনার কথা বলেছেন।

আমি গতকাল বিমানবন্দরে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। কিন্তু এ পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কোনো রেসপন্স (সাড়া) পাইনি, সিদ্ধান্ত পাইনি।’

এসময় মন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক ও জনপথের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফ উদ্দিন, পুলিশ শামসুন্নাহার, সাসেক প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুনঃ