পীরগাছায় টর্নেডোর আঘাত

পীরগাছায় টর্নেডোর আঘাত
পীরগাছায় টর্নেডোর আঘাত

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছায়  শুক্রবার ভোরে টর্নেডো ও শিলা বৃষ্টির আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ২০টি গ্রামের ২ শতাধিক ঘরবাড়িসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা, বিনষ্ট হয়েছে শাক-সবজি, কলা, ভুট্টার ক্ষেত।

এছাড়াও বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও অর্ধশত স্থানে তার ছিঁড়ে সারাদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়ে। সকাল থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবার রহমান, নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন প্রধান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ দিনভর ক্ষতিগ্রস্থ্য গ্রামগুলো পরিদর্শন করেন। সরকারি ভাবে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার ভোরে উপজেলার পীরগাছা, কৈকুড়ী, পারুল, কান্দিসহ বেশ ক’টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে টর্নেডো ও শিলা ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঝড়ে পীরগাছার অনন্তরাম বড়বাড়ি, উচাপাড়া, বড় পানসিয়া দোলাপাড়া, তালুক ইসাদ, কুমারপাড়া, চন্ডিপুর, পারুলের মনুরছড়া, মহিষমুড়ি, ত্রিপুর, সুন্দর, সেচাকান্দি, কৈকুড়ীর রামচন্দ্রপাড়া, চালুনিয়া, দিলালপাড়া, আলাদিপাড়া, কান্দির চাপড়া, হরিদেবসহ ২০ গ্রামের ২ শতাধিক ঘরবাড়ি মাটির সাথে মিশে গেছে, অসংখ্য গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি, ১০ হেক্টর জমির পাকা ধান, ২ হেক্টর ভুট্টা ক্ষেত, ২ হেক্টর কলা ক্ষেত, ৫ হেক্টর জমির শাকসবজির ক্ষেতসহ কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অপরদিকে প্রায় ২০টি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও অর্ধশত স্থানে তাঁর ছিঁড়ে দিনভর বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।
পীরগাছা ইউনিয়নের অনন্তরাম বড়বাড়ি গ্রামের আবুল কাশের ছেলে রবিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার ভোরে হঠাৎ টর্নেডো আঘাত হানলে তার নিজের ঘরসহ ওই গ্রামের অনেকের ঘরবাড়ির চালা উড়িয়ে গেছে। বড় পানসিয়া গ্রামের ময়নুল ইসলাম জানান, তার ঘরের উপর একটি বড় গাছ পড়ে গেছে। এতে তার দুটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তিনি নিজেও পরিবারসহ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।

কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানের একটি বড় গাছ পড়ে গিয়ে একটি দালান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ পীরগাছা যোনাল অফিসের এজিএম (কম) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, টর্নেডোর আঘাতে পীরগাছা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে। এছাড়া ৪০/৫০টি স্পটে তার ছিড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা লোকমান আলম বলেন, টর্নেডো ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে পাকা ধানসহ পাট, ভুট্টা, কলাসহ রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, ক্ষতির পরিমান নির্ধারণে কাজ শুরু করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ