পাপুল বিদেশি নাগরিক হলে সাংসদের পদ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

পাপুল বিদেশি নাগরিক হলে সাংসদের পদ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
পাপুল বিদেশি নাগরিক হলে সাংসদের পদ থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস

কুয়েতে মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে আটক লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুলের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কুয়েতের সে নাগরিক কি-না, সে বিষয়ে কুয়েতের সাথে আমরা কথা বলছি। আর যদি এটা হয়, তার পদটি খালি করে দিতে হবে। সবকিছু আইন অনুযায়ী চলবে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের বক্তব্যের জবাবে একথা বলেন তিনি। হারুনুর রশীদ পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে পাপুল কুয়েতে সে দেশের নাগরিক হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী অন্য দেশের নাগরিক কখনো এদেশের সংসদ সদস্য হতে পারেন না। পরে পাপুল বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি (পাপুল) কিন্তু স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য। সে আমাদের নমিনেশন চেয়েছিল আমি কিন্তু তাকে নমিনেশন দেইনি। কিন্তু সে স্বতন্ত্র ইলেকশন করে এসেছে। ওই আসনটি আমরা জাতীয় পার্টিকে দিয়েছিলাম। জাতীয় পার্টির নমিনেশন পেয়েছিল, সে ইলেকশন করেনি। এর ফলে ওই লোকটি জিতে আসে। এরপর তার ওয়াইফ (সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম), সেও যেভাবেই হোক আসে। কাজেই এখানে আমাদের করার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কুয়েতের সে নাগরিক কি-না সে বিষয়ে কুয়েতের সাথে আমরা কথা বলছি। আর যদি এটা হয় তার পদটি খালি করে দিতে হবে। সবকিছু আইন অনুযায়ী চলবে।

এরআগে জাতীয় সংসদ অধিবেশনের পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ল²ীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে স্পিকারের ব্যাখা চান বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। হারুনুর রশিদ বলেন, সংবিধানের ৬৬ নম্বর অনুচ্ছেদে সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা এবং অযোগ্যতা সম্পর্কে যে বিষয়টি রয়েছে, সেখানে বলা হচ্ছে যে, তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের আনুগত্য স্বীকার করেন তারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার যোগ্য হবেন না। পঞ্চদশ সংশোধনীতে অধিকতর সংশোধন করা হয়েছে। এখানে এটিকে সংশোধিত আকারে নিয়ে আসা হয়েছে। দুই ‘ক’ দফার পরিবর্তে নিম্নরূপ ২ ‘ক’ দফা গ্রহণ করা হয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যাহা কিছুই থাকুক না কেন কোনো ব্যাক্তি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হইয়া কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করিলে এবং পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদেশি রাষ্ট্র ত্যাগ করিলে কিংবা অন্য ক্ষেত্রে পুনরায় বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করিলে এই অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য সাধন করবে।

তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন বলে গণ্য হইবে না।’ হারুনুর রশিদ বলেন, আমাদের জাতীয় সংসদের একজন মাননীয় সদস্য পাপুল। আজ কিন্তু সমস্ত পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সে কুয়েতের নাগরিক হিসেবে সেখানে গ্রেফতার হয়েছেন। আজকে যদি সে সত্যিই কুয়েতের নাগরিক হিসেবে অভিহিত হয়ে থাকেন, তাহলে এ ব্যাপারে মাননীয় স্পিকার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আপনাকে দিতে হবে। কারণ নিশ্চয়ই পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেই বলেছেন। তিনি বলেন, আজকের সমস্ত পত্রিকায় নিউজ আছে ইমিগ্রেশনে তিনি যে পাসপোর্ট ব্যবহার করে কুয়েত গেছেন, তা সরকারি পাসপোর্ট নয়। তাহলে সে নিঃসন্দেহে বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশি নাগরিক হিসেবে স্যারেন্ডার করেন নাই। তথ্য গোপন করেছেন নির্বাচনের সময় এবং আজকে সে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের সংবিধান অনুযায়ী যে দায়িত্ব আপনার, আমি আশা করব মাননীয় স্পিকার এ ব্যাপারে আপনার জায়গা থেকে ঘোষণা থাকা দরকার। পরে এ ব্যাপারে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এদিকে টেস্ট না করেই করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে ঢাকার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল। এ ঘটনায় হাসপাতালটির মালিক এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। এ ছাড়া করোনাকালীন সরকারের প্রণোদনা দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত খবরের কথা উল্লেখ করেন সংসদে। এসবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ঠিক বলেছেন। তিনি পত্রিকা দেখিয়ে বলেছেন। কিন্তু উনি এটা বলতে ভুলে গেছেন যে তথ্যগুলো তিনি দিলেন এগুলো কিন্তু আমরা সরকার পক্ষ থেকেই ধরেছি। প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই কিন্তু সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এই অনিয়মগুলো আমরা খুঁজে বের করেছি। অপরাধীদের ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই হাসপাতালের তথ্য তিনি আগেভাগেই দিলে আমি খুশি হতাম। কিন্তু র‌্যাব জানার পর সেখানে গেছে, খুঁজে বের করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সরকারপ্রধান বলেন, আর যে হাসপাতালের (রিজেন্ট হাসপাতাল) কথা বলা হয়েছে সেই তথ্য আমরা নিজেরাই বের করেছি।

করোনাকালীন সময়ে প্রণোদনার দুর্নীতির জবাব দিতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অন্ততপক্ষে ৫০ লাখ পরিবারকে আমরা যে সহযোগিতা দেব, সেই তালিকা যাচাই করা হয়েছে। সেই সাথে তাদের আইডি কার্ড, ভোটার লিস্টের নাম সবকিছু মিলিয়ে এই তালিকায় আমরা খুঁজে খুঁজে বের করছি। আজকে মাননীয় সংসদ সদস্য যে তথ্য দিলেন, এই তথ্যটা কিন্তু আমরা আগে খুঁজে খুঁজে বের করেছি। শুধুমাত্র কাউন্সিলর, মেম্বার, চেয়ারম্যানদের তালিকা আসছে। তাদের তালিকা ধরে ধরে ফোন নম্বর ও ন্যাশনাল আইডি কার্ড মিলে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটা সিস্টেম করে দিয়েছি। ওখান থেকে যাচাই-বাছাই করে করে তাদের সাহায্য দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন দেশে কর্মহীন হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে করোনা-পরবর্তী সময়ে পুনরায় কর্মে নিয়োগ পেতে পারেন সেজন্য বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে ক‚টনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে সরকার। তিনি বলেন, এই অন্তর্বর্তী সময়ে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের মাধ্যমে আমরা দুস্থ ও কর্মহীন হয়ে পড়া প্রবাসী কর্মীদের মাঝে প্রায় ১১ কোটি টাকার ওষুধ, ত্রাণ ও জরুরি সামগ্রী বিতরণ করেছি।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলীয় বেনজীর আহমদের (ঢাকা-২০) লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সাতদিন বিরতির পর বেলা ১১টায় সংসদের মুলতবি বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার কারণে চাকরিচ্যুত হয়ে কিংবা অন্য কোনো কারণে বিদেশফেরত কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনুক‚লে ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন করেছি। করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীদের এবং প্রবাসে করোনায় মৃত কর্মীর পরিবারের উপযুক্ত সদস্যকে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে বিনিয়োগ ঋণ প্রদানের জন্য আমরা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ২০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছি। এ-সংক্রান্ত নীতিমালা ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী শুধুমাত্র বৈধ ও নিবন্ধিত অভিবাসী মৃত কর্মীর পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। করোনা মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্তমানে করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণকারী নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত নির্বিশেষে সকল প্রবাসী কর্মীর পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য আমরা তিন লাখ টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য ক‚টনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। তবে এ চাপ প্রশমিত করার জন্য আমাদের সরকার বিভিন্নমুখী ক‚টনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমান চলাচলের অনুমতির বিষয়ে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং কুটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আমি কতিপয় রাষ্ট্রপ্রধান/সরকারপ্রধানের নিকট এ বিষয়ে পত্র প্রেরণ করেছি। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আমাদের সরকারের গৃহীত খাদ্য ও চিকিৎসা ক‚টনীতির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি এবং ওষুধ পাঠানো হয়েছে। সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমাদের প্রতিবেশি অন্যান্য দেশসমূহে যেখানে প্রায় লক্ষাধিক প্রবাসী শ্রমিক ফিরে এসেছেন, সেখানে আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত মাত্র ২২ হাজার প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত সময়োচিত ক‚টনৈতিক উদ্যোগের ফলে ফিরে আসা প্রবাসীর সংখ্যা এখনও কম রয়েছে। আমাদের সরকার ফিরে আসা প্রবাসী কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রবাসীদের যথাযথ সহায়তা প্রদানের জন্য একটি ডাটাবেজ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া যারা পুনরায় বিদেশে যেতে সক্ষম তাদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। প্রবাসীদের বিদেশে চাকরি ধরে রাখা, নতুন নতুন প্রফেশনে যোগদান, কৃষিক্ষেত্রে নিয়োগ এবং এন্টারপ্রেইনার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি ফান্ড’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, এই ফান্ডটি হবে ‘ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ড’ ও ‘ক্লাইমেট রেসিলেন্স ফান্ড’ এর অনুরূপ। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে গমনাগমনের সুবিধার্থে আমরা ইতোমধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া এবং এমিরেটসকে বাংলাদেশে নিয়মিত বিমান চলাচলের অনুমতি প্রদান করেছি। তাছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-লন্ডন রুটে বিমান চালু করা হয়েছে। করোনা চলাকালীন সময়ে পাসপোর্ট অধিদফতরে প্রাপ্ত দুই লাখ ১৫ হাজার আবেদনের অধিকাংশ পাসপোর্ট মুদ্রণ করে বিদেশস্থ বিভিন্ন মিশনে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাসপোর্ট না থাকার কারণে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য যে সকল পাসপোর্ট মুদ্রণের অপেক্ষায় রয়েছে, তা দ্রæত মুদ্রণ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বিতরণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নুর একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মতো ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা’ নামে আরেকটি বই প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকথা’ একটা লেখা আছে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মতোই ওনার জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে কিছু লেখা। সেই লেখাগুলো আমি প্রস্তুত করেছি। তা প্রায় তৈরি হয়ে আছে। ওটা আমরা ছাপতে দেব। আমার ধারণা, এটা ছিল একটি রাফ কাজ। প্রথমে তিনি ওটা করেন। তারপর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রস্তুত করেন ছাপানোর জন্য। ওটার বিষয়ে আরও কিছু বিষয় আছে। তিনি বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) কিন্তু কখনো তার কারাজীবনের কোনো কষ্ট, দুঃখ-যন্ত্রণা কিচ্ছুই বলেননি। যেটুকু আমরা জানি এই বই পড়ে। তার লেখা পড়ে আমরা এটা জেনেছি। এর বাইরে আমরা কিছু জানতে পারিনি। কোনো দিন তিনি মুখ ফুটে বলতেন না যে ওঁর কষ্ট ছিল। কখনো বলেননি। আমি রেহানাকে জিজ্ঞাসা করেছি। ও ছোট ছিল। তো ও মাঝে মধ্যে আব্বাকে এ সমস্ত জিজ্ঞাসা করত, যা আমরা সাহস পেতাম না। আমি কয়েক দিন আগেও জিজ্ঞাসা করেছি, ‘তুই কি কিছুই শুনিস নাই ‘ জবাবে বলল, ‘আব্বাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম’। বলেছিল, ‘তোর শোনা লাগবে না। শুনলে সহ্য করতে পারবি না।’ ওঁর কথা ছিল শোনার দরকার নেই। ‘আমি বলব না। তোরা সহ্য করতে পারবি না’। বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও বলেন, এত কষ্ট একজন মানুষ একটা দেশের জন্য, জাতির জন্য করতে পারেন? তা ধারণার বাইরে। তিনি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন সংগঠন করার জন্য। আওয়ামী লীগ করার জন্য। দেশের মানুষের জন্য তিনি সব কিছুই ছেড়েছেন। তিনি ইচ্ছে করলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন। ক্ষমতায় যেতে পারতেন। কিন্তু ওঁর লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করার।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘কারাগারের রোজনামচা’ মূলত ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত। একাত্তর সাল থেকে আমরা ওঁর কোনো লেখা পাইনি। কারণ একাত্তর সালে উনি কারাগারে (পাকিস্তানে) কীভাবে ছিলেন? কী অবস্থায় ছিলেন? আসলে তার কিছু আমরা জানি না। সামান্য একটা লাইন পাওয়া গেছে, আইয়ুব খানের ডায়েরি, অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত। সেখানে ওঁর সম্পর্কে কিছু কমেন্ট করা আছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন কোর্টে নিয়ে আসা হতো, উনি আসতেন, দাঁড়াতেন, বসতে বললে বসতেন। উনি এসে দাঁড়িয়েই নাকি ‘জয় বাংলাদেশ’ বলতেন। বলতেন, ‘আমাকে যা খুশি তাই করো। আমার যেটা করার আমি তা করে ফেলেছি।’ অর্থাৎ আমার বাংলাদেশ তো স্বাধীন হবেই। এর বাইরে একাত্তরের কিছু আমি পাইনি। তবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখনো আমার চেষ্টা আছে ওখান (পাকিস্তান) থেকে কোনো কিছু উদ্ধার করা যায় কি-না? আমি জেলখানায় ছবি আনতে গিয়েছিলাম। জেলখানা ভেঙে নতুনভাবে করা হয়েছে। ছোট্ট একখানা দেয়ালের ছবি পেয়েছি। কিছু পাইনি। তবে আমার চেষ্টা আমি করে যাচ্ছি। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ১৯৬৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে ক্লাসিফায়েড রেকর্ড সংগ্রহ করেছি। যেখানে বাংলাদেশের বিষয়টি রয়েছে। সাউথ এশিয়ার কিছু বিষয় আছে। অনেকগুলো কাগজ। বিশাল। এগুলো আমার অফিসে ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে একটা সুবিধা হয়েছে। ঘরে থাকার কারণে সেগুলো সব ধীরে ধীরে দেখছি। সেখানে ওই সময়কার কিছু পাওয়া যায় কি-না সেই চেষ্টা করছি। যদি কিছু সংগ্রহ করা যায়, যোগ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আপনার মতামত লিখুনঃ