পশ্চিম তীরের বসতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে ফের নির্বাচিত হলে: নেতানিয়াহু

পুনঃনির্বাচিত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
মঙ্গলবার ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন এবং এর মাত্র তিন দিন আগে শনিবার এ প্রতিশ্রুতি দিলেন ডানপন্থি দলগুলোর জোটের নেতা নেতানিয়াহু, খবর বিবিসি, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
ডানপন্থি ওই দলগুলো পশ্চিম তীরের একটি অংশকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি অবৈধ, কিন্তু ইসরায়েল এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আসছে।
৯ এপ্রিলের নির্বাচনের আগে ইসরায়েলি চ্যানেল ১২ নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে শেষ মূহুর্তের প্রতিশ্রুতি হিসেবে পশ্চিম তীরের বসতিগুলোকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহুকে প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি পশ্চিম তীরের বিশাল বসতি এলাকা পর্যন্ত ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব সম্প্রসারণ করছেন না, যেমনটি ইসরায়েল করেছে পূর্ব জেরুজালেম ও গোলান মালভূমির ক্ষেত্রে।
উত্তরে নেতানিয়াহু বলেন, “কে বলেছে আমরা তা করছি না? আমরা তা করার পথে আছি এবং এ নিয়ে আলোচনা করছি। আপনি জিজ্ঞেস করছেন আমরা পরবর্তী পর্যায়ে যাচ্ছি কি না-উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ, আমরা পরবর্তী পর্যায়ে যাচ্ছি।
“আমি (ইসরায়েলি) সার্বভৌমত্ব সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছি আর আমি সেটেলমেন্ট ব্লক ও বিচ্ছিন্ন বসতিগুলোর মধ্যে প্রভেদ করবো না।”
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র অধিকৃত গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের ভূখ- বলে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরিয়ার এই এলাকাটি দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েল।
পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে প্রায় চার লাখ ইহুদিকে পুনর্বাসন করেছে ইসরায়েল, আরও দুই লাখ ইহুদি পূর্ব জেরুজালেমে বসবাস করছে। অপরদিকে পশ্চিম তীরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ।
অধীকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজলেম ও গাজা ভূখ- নিয়ে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় ফিলিস্তিনিরা।
পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতিগুলো কী করা হবে তা নিয়ে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই ২০১৪ সাল থেকে দুপক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা বন্ধ হয়ে আছে।
এই বসতিগুলোর উপস্থিতি ভবিষ্যত স্বাধীন রাষ্ট্রের বিষয়টিকে অসম্ভব করে রেখেছে বলে অভিযোগ ফিলিস্তিনিদের।
অপরদিকে ইসরায়েলিদের ভাষ্য, ফিলিস্তিনিরা সরাসরি শান্তি আলোচনা এড়ানোর জন্য বসতি ইস্যুটিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ