পল্লী বিদ্যুৎসহ ৮ সরকারি দপ্তরে অভিযান, ২ জনের কারাদণ্ড

পল্লী বিদ্যুৎসহ ৮ সরকারি দপ্তরে অভিযান, ২ জনের কারাদণ্ড
পল্লী বিদ্যুৎসহ ৮ সরকারি দপ্তরে অভিযান, ২ জনের কারাদণ্ড

গ্রাহক ভোগান্তি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দেশের চার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসহ সরকারি আট দপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম। বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এবং দৌলতপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযানে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক পৃথক দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক জানায়, অভিযান চলাকালে দৌলতপুরে এক দালালকে গ্রাহকদের নিকট হতে অবৈধ অর্থ গ্রহণের সময় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক দুই মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অপরদিকে একই অপরাধে দৌলতপুরের এক দালালকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এদিকে, দুদক ফরিদপুরের জেলা কার্যালয় হতে মধুখালী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযান পরিচালনা করা হয়। দুদক টিম ওই অফিসে গ্রাহক সেবা প্রদানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পায়। তবে দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে দালালরা পালিয়ে যায়।

দিনাজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় হতে ফুলবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অভিযান চালানো হয়। টিম অভিযানকালে দেখে, ওই অফিসে গ্রাহক ভোগান্তি মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রিতার সাথে জড়িত। একটি সেচ প্রকল্পের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের বিষয়ে ব্যাপক অনিয়মের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানকারী টিম এ অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনের নিকট প্রতিবেদন পেশ করবে। অন্যদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানে হয়রানির অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-২ এর একটি টিম আজ এ অভিযান পরিচালনা করে।

দুদক টিম অফিসে উপস্থিত হয়ে দেখে, সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা লাইসেন্স প্রদানকারী কর্মকর্তার নিকট পৌঁছাতে পারেন না, তার পূর্বেই অফিসের কিছু কর্মচারী অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে লাইসেন্স প্রদান কার্যক্রমে অনিয়ম বিস্তার করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতি লাইসেন্স বাবদ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা গ্রাহকদের নিকট হতে অবৈধভাবে গ্রহণ করা হয়, কিন্তু কোনো রশিদ প্রদান করা হয় না। ওই দপ্তরের লাইসেন্স শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা বজলুর রশিদ এবং লাইসেন্স প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদের অনিয়মের বিষয়ে দুদক টিম গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে অবহিত করলে তিনি ওই দুই কর্মকর্তাকে সতর্ক করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

অপরদিকে, একই টিম পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই একটি পেট্রোল পাম্প নির্মাণের অভিযোগ খতিয়ে দেখে। গাজীপুর চৌরাস্তায় অবস্থিত এসএস পাম্প নামক পেট্রোল পাম্পটি পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক একাধিকবার আপত্তি প্রদান সত্ত্বেও নির্মিত হয়েছে, এরূপ অভিযোগের বিষয়ে দুদক টিম অবগত হয়। টিম এ সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে। যাচাই-বাছাইপূর্বক কমিশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।

গাইবান্ধা সরকারি কলেজে স্নাতক চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও মোবাইলফোন ব্যবহৃত হচ্ছে, এমন একটি অভিযোগ দুদকের গোচরে আসলে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের অনুরোধক্রমে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বুধবার ওই কলেজে অভিযান চালান এবং ১২১টি মোবাইলফোন উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্যদের সতর্ক করেন।

গত ৮ এপ্রিল দুদকের ময়মনসিংহ কার্যালয় থেকে পরিচালিত এক অভিযানে দুদক টিম নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একজন ভুক্তভোগীর নিকট হতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের জন্য টাকা গ্রহণের অভিযোগ যাচাই করে। তাকে তিন বছর যাবত পল্লীবিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অজুহাতে ঘুরাচ্ছেন। বিষয়টি ওই অঞ্চলের জিএমকে জানালে তিনি দুদক টিমকে অবহিত করেন, ওয়্যারিং রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে এলটি প্রকল্পের আওতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগকারীকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হবে।