পলাশবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে অনিয়ম-দূর্ণীতি
পলাশবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে অনিয়ম-দূর্ণীতি

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণীর শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে নানা অনিয়ম দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। দৃশ্যমান দূর্ণীতির এমন বাস্তবতা নিয়ে ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রপত্রিকা সমূহে বিভিন্ন শিরোনামে খবর প্রকাশ হয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারি শিক্ষা অফিসার (এটিও) সচেতন মহলের দৃষ্টি ভিন্নদিকে নিতে নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরা-খবরের বিপরীতে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার ন্যায় পত্রিকায় দায়সারা প্রতিবাদ প্রকাশের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। শুধু তাই-ই নয়
তিনি তার অধীনে ক্লাস্টারের বিপরীতে সঃপ্রাঃবিঃ প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে কাউকে দাপ্তরিক নানা চাপ ও ভয়ভীতি, কাউকে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় আবার কাউকে কোন না কোন ভাবে এ ব্যাপারে তার পক্ষে থাকার মিশনে নেমেছেন। সবমিলিয়ে সরকারি মে মাল দরিয়া মে ঢাল-এর ন্যায় তিনি তার অসৎ কার্যক্রম অব্যাহত চালিয়ে যাচ্ছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় পিডিইপি-৪-প্রকল্পের অর্থায়নে উপজেলার বেতকাপা ক্লাস্টারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে প্রকৃত সরঞ্জামের স্থলে সামান্য শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করে সিংহভাগ অর্থ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই ক্লাস্টারের আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৩টি। প্রতিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর বিপরীতে যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়।
ওই ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার এটিএম সারুয়ার আলম সরকার স্বীয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ হস্তগত করে নামমাত্র টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণীর সামান্য উপকরণ ক্রয় করে দেন।
ক্লাস্টারভূক্ত মুরারীপুর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম জানান, শিশু শ্রেণীর বরাদ্দের অর্থ দিয়ে এটিও সারুয়ার স্যার সাড়ে ৫ হাজার টাকা মূল্যের যাবতীয় মালামাল এবং নগদ সাড়ে ৩ হাজার টাকা আমাকে দেন। অত্র বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আঃ কদ্দুসের নিকট এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান এসব ব্যাপারে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।
বেতকাপা ক্লাস্টারভূক্ত ওই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়াও সরেজমিন বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকদের নিকট শিশু শ্রেণীর মালামাল ক্রয় বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, ক্লাস্টারের সব বিদ্যালয়েই একই ভাবে মালামাল ক্রয় ও নগদ প্রদান করেছেন। শুধু তাই নয় ওই ক্লাস্টারভূক্ত বিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিদ্যালয়েই ব্যাপক অনিয়ম-দূর্ণীতি দৃশ্যমান।

সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) এটিএম সারুয়ার আলম সরকারের সাথে দূর্ণীতি-অনিয়মের বিষয় নিয়ে কথা বললে তিনি মালামাল ক্রয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিগত অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত অর্থ এসব বিদ্যালয়ে প্রদান করলে বেশকিছু বিদ্যালয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয় না করে মিথ্যা ও ভুয়া ভাউচার দাখিল করেন। এ কারণে চলতি অর্থ বছর বেতকাপা ক্লাস্টারের ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটির মাধ্যমে শিশু শ্রেণীর মালামাল ক্রয় পূর্বক বিতরণ করা হয়।

এসময় গত অর্থ বছরে যেসব চিহ্নিত বিদ্যালয় অনিয়ম-দূর্ণীতি করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি-না? এমন এক প্রশ্নের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এটিও কৌশলে এড়িয়ে যান।
মাঠেরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ওই ক্লাস্টারভূক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে শিশু শ্রেণীর ওইসব যাবতীয় মালামালসহ নগদ অর্থ বিতরণ করা হয় বলে তিনি জানান।
এসব অনিয়ম ও দূর্ণীতির ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্যাহিশ শাফী’র সঙ্গে কথা বললে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে দায়সারা ভাবে বলেন এরকম একটি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল বলে তিনি জানেন।তিনি বলেন বিষয়টি আমার হাতে নেই। জেলা শিক্ষা অফিসার বিষয়টি মাঠ পর্যায় অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন।

বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা উপকরণ ক্রয়ে এমন অনিয়ম-দূর্ণীতি ও লুকোচুরি ছাড়াও শুভঙ্করের ফাঁকির বিষয়িিট নিয়ে ভূক্তভেগি প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সচেতন জনমনে বিষয়টি নিয়ে চরম অসন্তোষসহ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সরেজমিন ভূক্তভোগি মহলের সাথে এ নিয়ে কথা বললে তারা জানান তৃণমূল পর্যায় অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত অনুষ্ঠিত হলেই দূর্ণীতির প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুনঃ