পঞ্চগড়ে অনুমোদনহীন ইট ভাটার ছড়াছড়ি

পঞ্চগড়ে অনুমোদনহীন ইট ভাটার ছড়াছড়ি
পঞ্চগড়ে অনুমোদনহীন ইট ভাটার ছড়াছড়ি

শহিদুল ইসলাম শাহীন পঞ্চগড় থেকে: পঞ্চগড়ে সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে যত্রতত্র বসানো হয়েছে ইট ভাটা। ভাটাগুলো স্থাপনে জেলা প্রশাসনের লিখিত কোন অনুমতি না থাকায় সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। গত বছরের পুরোনো ভাটাগুলোর পাশাপাশি এ বছর গড়ে উঠেছে একাধিক নতুন ইট ভাটা।

এই ভাটা স্থাপনে সরকারি কোন নিয়ম নীতি না মেনে আবাদি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীন পাকা সড়ক সংলগ্ন জায়গা সহ জনবসতিপূর্ণ এলাকা বেছে নেওয়া হয়েছে। এক শ্রেণীর অতি মুনাফা লোভী অসাধু ব্যবসায়ী পরিবেশ ও প্রকৃতিকে ধ্বংস করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে মত্ত হয়ে উঠেছে। এসব ভাটায় দিন রাত কাঠ পোড়ালেও দেখার কেউ নেই। সোমবার দুপুরে ফুলতলা এলাকায় সাইফুল মাস্টারের ইট ভাটায় দেখা যায় কাঠের স্তুপ। পঞ্চগড় জেলায় ইট ভাটার প্রকৃত সংখ্যা জানতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের এল,জি শাখায় যোগাযোগ করা হলে তারা তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়।

তারা জেলা প্রশাসকের সিএ মো: আলতাফ হোসেনের কাছে যোগাযোগ করতে বলেন। এ ব্যাপারে সিএ মো: আলতাফ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, পঞ্চগড়ে কোন ইট ভাটার অনুমোদন নেই। তবে অনেকে পরিবেশ সহ বিভিন্ন কাগজ পত্র জমা দিয়েছে তাদের পর্যায়ক্রমে লাইসেন্স প্রদান করা হবে।

একটি সূত্র জানায়, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে প্রতিটি ইট ভাটায় প্রতি বছর কমপক্ষে ৮০-৯০ লক্ষ ইট পোড়ানো হয়। অথচ এল,জি শাখায় উৎকোচ গ্রহণের (মৌখিক অনুমোদনের) কারণে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক ইট ভাটা থাকলেও এল,জি শাখায় কর্মরতদের খামখেয়ালীপনা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে ইট ভাটার প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। বোদা উপজেলা সদর, ফুলতলা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নেই প্রায় ২৫-৩০ টি ইট ভাটা রয়েছে। র্নিদিষ্টস্থানে ইট ভাটা স্থাপন করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সঠিকভাবে ইট ভাটার অনুমোদন দেয়া হলে সরকারের কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় বাড়বে।

জনবসতিপূর্ণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাদি জমি ও গ্রামীণ সড়কের পাশে ইট ভাটা স্থাপনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুনঃ