নির্ধারণ হয়নি চামড়ার দাম , রংপুরের ব্যবসায়ীরা চিন্তিত

নির্ধারণ হয়নি চামড়ার দাম , রংপুরের ব্যবসায়ীরা চিন্তিত

নজরুল মৃধা রংপুর। আগামী ১২ আগস্ট ঈদুল আজহা অর্থাৎ কোরবানির ঈদ। এই ঈদে আত্মশুদ্ধির জন্য মানুষ পশু কোরবানি দেয়। কোরবানির পশুর চামড়া অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলে এখন পর্যন্ত গরু এবং খাসির দাম নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে চামড়ার দাম নিয়ে চিন্তিত রয়েছে রংপুরের ব্যবসায়ীরা।

অপরদিকে বাজারে লবনের দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সংরক্ষন খরচ বেশি হচ্ছে। ফলে চামড়া কিনে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে ব্যবসায়ীদের। এছাড়া চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে কোন ব্যবসায়ীকে ঋণ দেয়া হচ্ছে না। ফলে ধার দেনা করে ব্যবসায়ীদের চামড়া কিনতে হবে।

অপরদিকে ব্যবসায়ীরা ট্যানারী মালিকদের কাছ থেকে গত বছরের বকেয়া টাকা এখনো তুলতে পারেননি। সোমবার রংপুর নগরীর শাপলা মোড়স্থ চামড়া বাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের বাকি মাত্র এক সপ্তাহ। সরকার এখন পর্যন্ত চামড়ার দাম নির্ধরণ করেননি। ফলে ব্যবসায়ীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে। বর্তমানে বাজারে গরুর চামড়া প্রতি পিছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা বিক্রি হলের খাসির চামড়ার দাম নেই। প্রতিপিছ খাসির চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ফলে চামড়ার দাম দ্রুত নির্ধরণ করা উচিত বলে তারা মনে করছেন।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতিবস্তা লবনের দাম ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। এই দামে লবন কিনে চামড়া সংরক্ষন করতে খরচ বেশি হচ্ছে। এর মধ্যে ঈদের আগে যদি লবনের দাম আরো বাড়ে তা হলে চামড়া ব্যবসায়ীদের লোকসানে পড়তে হবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় প্রায় দু’হাজার চামড়া ব্যবসায়ী টাকার অভাবে এবার চামড়া ক্রয় করতে পারবেন না বলে সন্দিহান হয়ে পড়েছে।

এ পেশার সাথে জড়িত প্রায় লক্ষাধিক ফড়িয়াও রয়েছেন চরম বিপাকে। পূর্বের বকেয়া টাকা না পাওয়া অন্যদিকে গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ না করায় চামড়া ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের মাঝে হতাশার সুর নেমে এসেছে। অপরদিকে গরুর হাটগুলোতে আমদানি প্রচুর হলেও কাঙ্খিত কেনা বেচা নেই।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, রংপুরে ৫০ জন ব্যবসায়ীর ৮ কোটি, দিনাজপুরের ৩০ জনের প্রায় ৬ কোটি, বগুড়ার অর্ধশত ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ১০ কোটি, নওগাঁর ৩০ জন ব্যবসায়ীর প্রায় ৮ কোটি, নাটোরের অর্ধশত ব্যবসায়ীর প্রায় ১২ কোটি, রাজশাহীর ২৫ জন ব্যবসায়ীর প্রায় ১০ কোটি টাকা ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পড়ে রয়েছে। এ টাকা তারা গত এক বছর থেকে ধর্ণা দিয়েও তুলতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে রংপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ খান জানান, গত বছর প্রতিবর্গফুট চামড়ার ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আগের বছর চামড়ার দাম ছিল প্রতিবর্গফুট ৫০ টাকার ওপর। এবার এখন পর্যন্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চিন্তিত রয়েছে।

তিনি আরো জানান লবনের দামও কমেনি। বরঞ্চ গতবছরের চেয়ে দাম কিছুটা বেশি। তিনি লবনের দাম কমানোর দাবি জানিয়ে আরো বলেন এ অঞ্চলের চামরা ব্যবসায়ীদের ২’শ কোটির বেশি টাকা ট্যানারীগুলোতে বকেয়া রয়েছে। বকেয়া এই টাকা ধর্ণা দিয়েও তোলা সম্ভব হচ্ছেনা।

আপনার মতামত লিখুনঃ