নামাজে ‘সিজদায়ে সাহু’ দেওয়ার নিয়ম

নামাজে ‘সিজদায়ে সাহু’ দেওয়ার নিয়ম

নিউজিল্যান্ডের আন-নুর মসজিদের প্রাঙ্গনে জুমার নামাজ আদায়ের দৃশ্য।
‘সিজদায়ে সাহু’ মানে ভুলের সিজদা। নামাজে কোনো ওয়াজিব ভুলক্রমে ছেড়ে দিলে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়। তখন সিজদায়ে সাহু দেওয়া ওয়াজিব। সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে নামাজে পূর্ণতা আনা হয়। সিজদায়ে সাহু কখন, কেন ও কীভাবে দেবে এর সংক্ষিপ্ত নিয়মাবলী।

♦ নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ কেউ ইচ্ছে করে ছেড়ে দিলে গুনাহগার হবে। নামাজও নষ্ট হয়ে যাবে। পুনরায় আদায় করতে হবে। সিজদায়ে সাহু দ্বারা তখন নামাজ পূর্ণ হবে না।
♦ নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ ভুলক্রমে ছুটে গেলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ৩৮৬, আবু দাউদ, হাদিস: ৮৭৪, আল-মুজামুল আওসাত: ৭৮০৮)

♦ ফরজের প্রথম দুই রাকাত বা যেকোনো এক রাকাতে সুরায়ে ফাতিহা পড়তে গেলে অথবা সেরূপ নফল ও বিতরের যেকোনো রাকাতে ভুলক্রমে সুরায়ে ফাতিহা পড়া না হলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৩)

♦ ফরজের প্রথম দুই রাকাতে কেরাত পড়া ভুলে গেলে, শেষ দুই রাকাতে তা পড়ে নেবে। তবে সিজদায়ে সাহু দেবে। (মুসলিম: ৮৯৫, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১/৪০৯)

♦ ফরজের দুই রাকাত বা এক রাকাতে কিরাত মেলাতে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি: ১২৪৩)
♦ কেউ যদি এক সিজদা করে পরের রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তখন ওই রাকাত দুই সিজদা দিয়ে সম্পন্ন করে ছুটে যাওয়া সিজদাও এর সঙ্গে মিলিয়ে নেবে। শেষে সিজদায়ে সাহু করবে, এতে করে নামাজ হয়ে যাবে। (প্রাগুক্ত)

♦ যদি তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠক ভুলে যায়, তা ফরজ নামাজ হোক বা নফল নামাজ, সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৮৮২)

♦ তাশাহহুদ পড়তে ভুলে গেলে, সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি, হাদিস: ১২৪৩)
♦ বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (বায়হাকি, হাদিস: ৪০৪২,)

♦ প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের সঙ্গে দরুদ ইত্যাদি পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৫)

সাহু সিজদা যেভাবে দেবে
সাহু সিজদা যার ওপর ওয়াজিব হয়েছে, সে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডান দিকে এক সালাম ফেরাবে। এরপর তাকবির বলে নামাজের মতো দুইটি সিজদা করে বসে যাবে এবং তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবে। সালামের আগে সিজদা করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে তা মাকরুহে তানজিহি। (মুসনাদে আহমদ: ১৮১৮৮, বুখারি, হাদিস: ১১৫০, ১১৫৩, তিরমিজি, হাদিস: ৩৬১)

আপনার মতামত লিখুনঃ