নাগেশ্বরীতে হঠাৎ অসুস্থ শিক্ষার্থীর ৭ জন গুরুতর: রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন

নাগেশ্বরীতে হঠাৎ অসুস্থ শিক্ষার্থীর ৭ জন গুরুতর: রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন
নাগেশ্বরীতে হঠাৎ অসুস্থ শিক্ষার্থীর ৭ জন গুরুতর: রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন

এফএনএস নিউজ: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের গুরুতর অসুস্থ পাঁচজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগের আরও দুই শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তি রয়েছে।

এ নিয়ে আতঙ্ক ও হতাশায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা জানায় শনিবার স্কুল মাঠের দোকানে তেতুল, বড়াইয়ের আচার ও ঝালমুড়ি খেয়েছিল শিক্ষার্থীরা।

চিকিৎসক জানিয়েছেন খোলা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা আচার খেয়ে অসুস্থ হতে পারে। এছাড়াও এক জনকে দেখে আর একজন অসুস্থ হতে পারে। এটাকে মাস সাইকোজেনিক ইলনেস রোগ বলে।

এ ঘটনায় ইমান আলী নামের ওই ঝালমুড়ি ও আচার বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চন্ডিপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রকল্পের আওতায় অস্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু রয়েছে এ বিদ্যালয়।

শিক্ষক ও স্থানীয় অভিভাবকরা জানায় গত শনিবার সকালে স্কুলের এ্যাসেম্বলি শেষে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মিম শ্রেণিকক্ষে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে।

পরে তাকে অফিসকক্ষে নিয়ে মাথায় পানি ঢালাঢালি করা হয় এবং চিনির শরবত খাইয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন স্কুলের শিক্ষকরা। সুস্থ হওয়ার লক্ষণ না দেখে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্কুল কর্তৃপক্ষ।

এর পরপরই আরও অসুস্থ হয় ১৪ জন শিক্ষার্থী। এদের ১ জনকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় পরদিন দুই শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে শনিবার রাতে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১১ জনকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রোববার বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সাত শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেয়ার সময় তিন শিক্ষার্থী ও বাড়ি আসার পর দুই শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে সেখানে মোট ৭ শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ঘটনায় রোববার বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয়রা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করলে নাগেশ্বরী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ রওশন কবীরের নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং ইমান আলী নামের ওই আচার ও ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসলে স্থানীয়দের মাধ্যমে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আল আমিন মাসুদ জানান, এখান তেকে তিনজন ও বাড়ি থেকে দুই জন মোট পাচজনকে রংপুরে পাঠানো হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই।

আপনার মতামত লিখুনঃ