ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের জন্য তেঁতুল তত্ত্ব দায়ী : ইনু

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের জন্য তেঁতুল তত্ত্ব দায়ী : ইনু
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের জন্য তেঁতুল তত্ত্ব দায়ী : ইনু

প্রাক্তন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘নুসরাত হত্যাকাণ্ড আবার প্রমাণ করল ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের জন্য আসলে তেঁতুল তত্ত্ব দায়ী। তেতুঁল তত্ত্বের লোকেরাই ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।’ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়নে ‘অনলাইন সাংবাদিকতা : চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘ এই তেঁতুল তত্ত্বের মালিকরা একাত্তরে নারীর গায়ে হাত দিয়েছিল। এই তেঁতুল তত্ত্বের লোকেরাই আজকে নারীর গায়ে হাত দিয়েছে। নুসরাতকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের আগের চ্যালেঞ্জ ছিল এসব ধর্মব্যবসায়ী, সাম্প্রদায়িক শক্তি ও স্বৈরাচারের দালালেরা। তাদের অস্ত্রই ছিল মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি, হলুদ সাংবাদিকতা। সুতরাং এই মিথ্যাচার, ইতিহাস বিকৃতি ও হলুদ সাংবাদিকতা থেকে রক্ষা করাই এখন গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ।’

‘গণমাধ্যমের আরেকটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তেতুঁল তত্ত্বের সাম্প্রদায়িকতা মোকাবিলা করা। ডিজিটাল সমাজের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতনতা অর্জন করা। ডিজিটাল সমাজে থাকতে হলে ডিজিটাল সমাজের নিরাপত্তা প্রদান করা,’ বলেন ইনু। অনলাইন এবং আইপিটিভিকে প্রাতিষ্ঠানিক আওতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রচার নীতিমালা করার পর অনেকেই সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এটি নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা হলে কেউ তখন সাড়াও দেয়নি, এটি দুঃখজনক।’

তথ্য অধিকার আইন প্রতিষ্ঠায় তথ্য কমিশন গঠন শেখ হাসিনা সরকারের একটি বড় অর্জন উল্লেখ করে প্রাক্তন এ তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই তথ্য অধিকার আইনটা প্রয়োগ করা নিয়েও গণমাধ্যমের কোনো মাথাব্যথা নেই। খুবই দুঃখজনক ব্যাপার হলো প্রত্যেকটি উপজেলায় তথ্য কর্মকর্তা আছে। কিন্তু সেখান থেকে কেউ সেই সুযোগটি নেয় না।’

ইনু বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত রাখতে। এই যাত্রায় নিত্যসঙ্গী হিসেবে গণমাধ্যমকে শরীক করেছে। সেই জন্য তথ্য অধিকার আইন, তথ্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটা একটা বিশাল ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ভূমিকায় নয়, সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে। অনলাইন কেউ বন্ধ করতে পারবে না। তবে এর অপব্যবহার রোধে দৃষ্টি দিতে হবে।’

তথ্য কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমান বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সাংবাদিকতায় বহুত্ববাদিতা বেড়েছে। বিশাল জনগোষ্ঠি সম্পৃক্ত হয়েছে। তৈরি হয়েছে সম্ভাবনাও, যা আগে ছিল না। পাল্টেছে সাংবাদিকতার ধরনও। তবে এখানে নাগরিক সাংবাদিকতা ভিন্ন বিষয়। যদি কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপসাংবাদিকতা করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।’

সাংবাদিক রোবায়েত ফেরদৌসের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে প্রাক্তন হুইপ ড. আব্দুস শহীদ এমপি, সাংবাদিক রাহুল রাহা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুনঃ