দু’পা হারিয়ে দিশেহারা এনামুল

দু’পা হারিয়ে দিশেহারা এনামুল

তোফায়েল হোসেন জাকির, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) থেকেঃ এনামুল হক ছিলেন টগবগে যুবক। স্থানীয় একটি ইটভাটায় কর্মরত ছিলেন তিনি। জীবনযুদ্ধে সফলতা ফিওে আসে তার। এরপর প্রায় ১২ বছর আগে ওই ইটভাটার এক দুর্ঘটনায় এনামুল হক তার দুটি পা হারিয়ে ফেলেন। এরপর ফের এনামুলের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। জীবিকার তাগিদে শুরু করে ভিক্ষাবৃত্তি। এমন পরিস্থিতির শিকার হলেও, তার কপালে আজও জোটেনি সরকারি সুবিধাদি।

পঙ্গু এনামুল হক গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের কুঞ্জমহিপুর গ্রামের মৃত এন্দা গাছুর ছেলে। বর্তমানে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলার উদয় সাগর গ্রামের অন্যের বাড়িতে।

জানা যায়, তৎকালীন সময়ে ইটভাটায় কর্মরত থাকা অবস্থায় এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এনামুল হক তার দুটি পায়ে আঘাত প্রাপ্ত হয়। সেই সময়ে নিজেকে সুস্থ করতে চিকিৎসা অব্যাহত রাখে। দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসা নিতে বসতভিটা বিক্রি করাসহ সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে তিনি।

এমতাবস্থায় অর্থ সংকটে থেমে যায় চিকিৎসা নেওয়া। এরই মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে পা দুটির অবস্থা দিনদিন অবনতির দিকে ধাবিত হয়। বাধ্য হয়ে অন্যের কাছে হাত পেতে ফের চিকিসা নিতে থাকেন এনামুল।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত তার পা দুটি রক্ষা করতে পারেনি। এক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শে পা দুটি কেটে ফেলতে হয়। পঙ্গুত্ববরণ করার ফলে থমকে যায় এনামুলের জীবনযাপন। নিরুপায় হয়ে স্ত্রী-সন্তানের জীবিকার তাগিতে থালা হাতে হুইল চেয়ারে ঘুরে ঘুরে ভিক্ষাবৃত্তি পেশায় নেমে পড়েন তিনি।

অশ্রু ভেজা জল আর চরম হতাশার গ্লানী নিয়ে এনামুল হক বলেন, চিকিৎসা করতে গিয়ে বাস্তভিটাসহ সর্বস্ব হারিয়েছি। এখন স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ভিক্ষা করে অতিকষ্টে দিনপার করছি। পঙ্গত্ব ভাতাসহ আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসের সুবিধা নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুনঃ