দুধে অ্যান্টিবায়োটিক

কিছু দিন থেকে দুধ ব্যাপক বিতর্ক-আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই বিতর্ক আরো উসকে দিয়েছে কিছু সরকারি কর্মকর্তার মন্তব্য ও দুধ উৎপাদনকারীদের বক্তব্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সদ্য সাবেক পরিচালক অধ্যাপক এ বি এম ফারুক একদল গবেষককে নিয়ে বাজার থেকে সংগ্রহ করা দুধ পরীক্ষা করে তাতে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি দেখতে পান। দুধে অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিকের এমন অপব্যবহার অ্যান্টিবায়োটিককেও ক্রমে অকার্যকর করে দিচ্ছে। জনস্বার্থে এই পরীক্ষার ফল গত ২৫ জুন তিনি প্রকাশ করেন। এতে দুধ উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি সরকারের পশুসম্পদ অধিদপ্তর তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে। অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়। দুধ উৎপাদনকারীদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে দেশের দুগ্ধশিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়।

এরপর অধ্যাপক ফারুক দ্বিতীয়বার একইভাবে বাজার থেকে দুধের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেন। দ্বিতীয় দফায়ও নমুনাগুলোতে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না, অধ্যাপক ফারুকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্টদের এত ক্ষোভের কারণ কী? অধ্যাপক ফারুক কেন, বাংলাদেশের সুস্থ চিন্তার কোনো মানুষই চাইবে না দুধে ক্ষতিকর কিছু থাকুক কিংবা নিজের বা সন্তানের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ুক। প্রধানত শিশুরাই দুধের প্রধান ভোক্তা। তাদের শরীরে এর প্রতিক্রিয়া হবে আরো মারাত্মক।

এই পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যাপক ফারুক নিজের দায়িত্ববোধ থেকে যা করেছেন তা তো সবার প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠছে কেন? তাঁর পরীক্ষার ওপর যদি পশুসম্পদ অধিদপ্তর বা দুধ উৎপাদনকারীদের আস্থা না থাকে, তাহলে তাঁরা এর চেয়েও বিশ্বাসযোগ্য কোনো গবেষণাগার থেকে একই পরীক্ষা করিয়ে জনগণকে তার ফলাফল জানাতে পারেন। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কোনটা তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।

একজন প্রবীণ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এ ধরনের শব্দপ্রয়োগ মোটেও কাম্য নয়। আর দেশীয় দুগ্ধশিল্পের ক্ষতি করা প্রসঙ্গে তাঁরা যা বলেছেন, সেটি নিয়েও প্রশ্ন আছে। দেশে উৎপাদিত দুধে যদি ক্ষতিকর মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক থাকে, তাহলেও কি দেশীয় শিল্পের স্বার্থে মানুষকে সেই দুধ খেতে হবে?

বিষয়টিতে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ আশা করি। কারণ তাদের প্রধান দায়িত্ব জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা। ভোক্তা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুনঃ